• ই-পেপার

পটিয়ার চাঞ্চল্যকর ২ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু জায়হানকে হত্যা, প্রশ্ন করাতেই প্রাণ গেছে পঙ্কজের

ছাতকে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতকে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে আমির আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানা এলাকার খাদিমনগর ইউনিয়নের ধুপাগুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আমির আলী শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা পূর্বপাড়া গ্রামের ছুরাব আলীর ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজি চালক এবং শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। নিহত আছিয়া বেগম (৩৫) ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামের মৃত উস্তার আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮–১৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। গত ১৫ জুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আলাপুর গ্রামের একটি কালভার্টের ওপর আছিয়া বেগমকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন আমির আলী। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুন দুপুরে আছিয়া বেগম মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আফিয়া বেগম বাদী হয়ে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি আমির আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন বিষয় সামনে আসছে। পরকিয়াজনিত বিরোধেরও কিছু আভাস পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। 

বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ী আটক

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
বড়লেখা সীমান্তে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ী আটক
মো. আলী হুসেন। সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকা থেকে মো. আলী হুসেন (৩২) নামের এক ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৭ জুন) মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়।

আটক আলী হুসেন ভারতের করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার দক্ষিণ কেফটি গ্রামের শাহাব উদ্দিনের ছেলে।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতীয় মাদক চোরাকারবারির অবৈধ অনুপ্রবেশের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা উপজেলার বিওসিটিলা বিওপি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় বিজিবি। অভিযানকালে সীমান্ত পিলার ১৩৮৯/এম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবকুণ্ড এলাকা থেকে আলী হুসেনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছে থাকা বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আলী হুসেন সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে তিনি দাবি করেন, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে–সংক্রান্ত ব্যবসার কাজে তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান জানান, আটক ব্যক্তি সীমান্ত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তাকে বড়লেখা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, বিজিবির সোপর্দ করা আসামিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বৃদ্ধকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বৃদ্ধকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বৃদ্ধ মোহাম্মদ ফয়জল (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দাম (৪০)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মনারবাগ এলাকার ছগির আহম্মেদের ছেলে এবং ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক।

এর আগে গত ৩ জুন রাতে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ফয়জুল মিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর তার মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজিবকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সজিব এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে মামলার প্রধান আসামি সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

টঙ্গীতে অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ যুবক

অনলাইন ডেস্ক
টঙ্গীতে অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ যুবক
অপহরণ চক্রের গ্রেপ্তাররা; ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সহোদর দুই বোনসহ অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহরণের শিকার দুই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানার বড় দেওড়া ফকির মার্কেট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে তারেক হোসেন (১৯), একই এলাকার আতাউর রহমানের মেয়ে আফসানা আক্তার আঁখি (২৮) এবং তার বোন নদী (২৬)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ফটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা সালেহীন মিয়া (২৮) বর্তমানে টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় বসবাস করেন। বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি বন্ধু টিটু মিয়ার সঙ্গে আশুলিয়ার গৌরিপুরে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

গত ১৬ জুন রাতে প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ফেরার পথে টিটু মিয়ার ফোন পেয়ে বড় দেওড়ার একটি ভবনের কক্ষে যান সালেহীন। সেখানে প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি কক্ষে টিটুকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অভিযুক্তরা দুজনের চোখ বেঁধে ভবনের ছাদে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

একপর্যায়ে সালেহীনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং টিটু মিয়ার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপরও আরো টাকার জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়।

পরদিন ১৭ জুন সকালে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে সালেহীনকে আশুলিয়ার গৌরিপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে তিনি নিজেকে অপহরণের শিকার বলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও ট্রেনিং সেন্টারের কর্মীরা এগিয়ে এসে সঙ্গে থাকা এক অভিযুক্তকে আটক করেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালেহীন মিয়া ও আটক ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।