চালকের অদক্ষতা এবং ত্রুটিযুক্ত যাহবাহনের কারণেই বাংলাদেশে বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর ৫০০০ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয় চালকদের অদক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস সংকটের কারণে।’
রবিবার (১৭ মে) রাজবাড়ীতে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চেক বিতরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পৌর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া, চোখ পরীক্ষা করা, প্রেসার পরীক্ষা করা, মাদকাসক্ত কিনা তা পরীক্ষা করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।’
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতসহ জেলায় অন্যান্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মোট ৫৫টি পরিবারের মাঝে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এক মুহূর্তের দুর্ঘটনার ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের এই অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের ঘাট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে অনেকাংশে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আজকের আয়োজন একটি মানবিক উদ্যোগ। জনগণের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই সরকারের দায়িত্ব। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাটের গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে এই অঞ্চলের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি সেতু। পদ্মা সেতু এখন আমাদের প্রাণের দাবি।
বিআরটিএর মহাসচিব বলেন, সদিচ্ছা থাকলে আমরা আরো সতর্ক হতে পারি। দুর্ঘটনার জন্য মালিক ও শ্রমিক উভয়ই দায়ী। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও কার্যক্রম আরো জোরদার করা প্রয়োজন। রাজবাড়ীর ইতিহাসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে ঘটেনি।






