টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে একসঙ্গে চার নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন বিথী আক্তার নামের এক নারী। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি চারটি সন্তান প্রসব করেন। নবজাতকদের মধ্যে তিনজন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন তিনি।
কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে বিথী আক্তারের প্রসব সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে মা ও নবজাতকরা সুস্থ আছেন। তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৪ বছর আগে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল গ্রামের হায়দার আলীর সঙ্গে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ি উপজেলার বিথী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ১০ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক পর একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হওয়ায় দম্পতিসহ পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত।
কুমুদিনী হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ বি এম আলী হাসান সাংবাদিকদের জানান, একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হওয়া একটি বিরল ঘটনা। একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম নেওয়ায় তাদের বাড়তি সতর্কতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মা ও নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও বাড়তি যত্ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এর আগে, গত বছরের ৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে আঁখি মণ্ডল নামের অন্য এক গৃহবধূ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৪ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। আঁখি মণ্ডল বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের যতুকী গ্রামের রতি সরকারের স্ত্রী। এই দম্পতির বিয়ের ১৩ বছর পর চার সন্তানের জন্ম দেন।
কুমুদিনী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের রেসিডেন্ট সার্জন ডা. মেহেরুন নেছা জানান, একসঙ্গে চার সন্তান গর্ভধারণের বিষয়টি বিরল। চিকিৎসাবিদ্যামতে, প্রতি ৫ লাখ ১২ হাজার গর্ভধারণে এটি একবার ঘটে। এ ধরনের ঘটনা গর্ভধারণকৃত মা ও চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা ও নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসবের ঝুঁকি থাকে। মা ও চার নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তাদের হাসপাতালের এনআইসিউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।




