<p>বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ৩ দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।</p> <p>শুক্রবার (৮ মে) প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।</p> <p>দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পার হলেও বাঙালির প্রেম-বিরহ, আনন্দ কিংবা সংকটে তিনি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ২০২৬ সালের এই বৈশাখী ভোরে বাঙালির হৃদয়ে আবারও বেজে উঠেছে সেই চিরচেনা সুর- ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।’<br /> <br /> শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন বলেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনাসভা ও মঞ্চ নাটক চলবে আগামী ১০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত।’</p> <p>শিলাইদহ খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলেন, ‘কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সাজসজ্জা দেখতে এসেছি। কুঠিবাড়িতে পা রাখলেই অদ্ভুত অনুভূত হয়। মনে হয় এখানকার আকাশে বাতাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে এখনও।’<br /> <br /> ফরিদপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আকবর আলী বলেন, ‘শিলাইদহের কুঠিবাড়িটি দেখার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এসে দেখছি সাজসাজ রব। এখানকার পরিবেশ খুব সন্দর। দেখলেই মন ভরে যায়।’<br /> <br /> রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অশোক সাহা বলন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী এবারও উৎসবের আমেজ নিয়ে ফিরে এসেছে। ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’–এই ভাবধারাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে এবার রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। শুধু আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কবির জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ের অস্থিরতায় শান্তি ও সম্প্রীতির বারতা ছড়িয়ে দেওয়াই এবারের উৎসবগুলোর মূল লক্ষ্য।’<br /> <br /> কবি আলম আরা জুঁই বলেন, ‘শিলাইদহের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সম্পর্ক শুধু সাহিত্যিক নয়, আত্মিকও। এখানকার প্রকৃতি, নদী, মানুষ ও গ্রামীণ জীবন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই কারণেই প্রতি বছর জন্মজয়ন্তীতে শিলাইদহ হয়ে ওঠে জাতীয় সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র।<br /> <br /> বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ  কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে অঞ্চলে জমিদারি পান। ১৮৯১ সালে বাবার আদেশে জমিদারি দেখাশোনার কাজে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে আসেন। কবিগুরু ১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহে জমিদারি পরিচালনা করেন। পদ্মা পাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি একে একে রচনা করেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালীসহ বিখ্যাত সব কাব্য গ্রন্থ।<br /> <br /> পদ্মার পাড়ঘেঁষা শিলাইদহ কুঠিবাড়ী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির এক আবেগঘন ঠিকানা। এখানে বসেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেছিলেন অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প ও চিঠিপত্র। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি-র অনেক ভাবনা ও অনুভূতির জন্মও এই শিলাইদহে। তাই কবির জন্মজয়ন্তী এলেই এই কুঠিবাড়ী যেন হয়ে ওঠে এক মিলনমেলা।</p> <p> </p>