<p>টানা তিন দিনের কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া এবং লাইনে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শত শত পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।</p> <p>বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনের ঝড়ে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অন্তত ৬টি খুঁটি ভেঙে গেছে। এছাড়া ৭টি ট্রান্সফরমার নষ্ট, ২টি ট্রান্সফরমার চুরি, ৭টি ক্রসআর্ম ভেঙে যাওয়া, ১৭০টি স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে ক্ষতি এবং ১২৯টি স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ৭৬টি মিটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।</p> <p>ঝড় থামার পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা মাঠে নেমেছেন। দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ করছেন তারা। শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গভীর রাত পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে বিদ্যুৎকর্মীদের।</p> <p>দক্ষিণ হাজাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে আমার গ্রামের কয়েকটি বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে গাছ পড়ে তার ছিঁড়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় বিদ্যুৎকর্মীরা গাছ কেটে নতুন করে তার লাগিয়ে সংযোগ দিয়েছে।</p> <p>ভুশ্চি বাজার সাব-জোনাল অফিসের সহকারী ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত কাজ চলছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত আমার আওতাধীন এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।</p> <p>অন্যদিকে বাগমারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ সৌরাদ উদ্দিন সাদি বলেন, টানা ঝড়ে খুঁটি ভেঙে পড়া ও লাইনে গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পরপরই আমাদের টিম কাজ শুরু করেছে। গভীর রাত পর্যন্ত কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। নতুন করে ঝড় না হলে বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।</p>