• ই-পেপার

গোবিন্দগঞ্জে ১৩ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ, শ্রমিক গ্রেপ্তার

বড় ভাইয়ের ঘরের বারান্দায় মিলল ছোট ভাইয়ের মরদেহ, অতঃপর...

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
বড় ভাইয়ের ঘরের বারান্দায় মিলল ছোট ভাইয়ের মরদেহ, অতঃপর...

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বড় ভাইয়ের ঘরের সামনের বারান্দা থেকে ছোট ভাই আবুল কালামের (৫৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম ওই গ্রামের আবাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে বড় ভাই আব্দুল ছালামের ঘরের বারান্দায় ছোট ভাই আবুল কালামকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হবে। দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল বলে জেনেছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

‘গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা’, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
‘গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা’, পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় গৃহকর্মীকে ‘গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা’ দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে সকালে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতি হলেন- সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানালা দিয়ে দেখতে পান, গরম কড়াই দিয়ে মেয়েটির মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কান ধরে উঠবসও করানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীর ওপর এ নির্যাতন চালান গৃহকর্ত্রী। এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্র প্রায়ই ওই গৃহকর্মীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরনো আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ভুক্তভোগীর মা নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে থানায় মামলা করেন। মামলার পর ওই পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘সাংবাদিক আংকেল একটু লিখে দেন, বৃষ্টি হলে যেন এখানে পানি না জমে’

বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
‘সাংবাদিক আংকেল একটু লিখে দেন, বৃষ্টি হলে যেন এখানে পানি না জমে’
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলজিইডির কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি প্রায়ই জলাশয়ে পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীসহ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়কটির পাশেই রয়েছে সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বৃষ্টির পর বিদ্যালয়সংলগ্ন বড়বাড়ি-ভুইয়াবাড়ি মোড় এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পানিতে ডুবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে দেখা যায়। অনেকের স্কুলড্রেস ও জুতা ভিজে যায়, ফলে ভেজা পোশাকেই ক্লাস করতে বাধ্য হয় তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, ডুবে যাওয়া সড়কের সামনে শিক্ষার্থীদের কারো কারো পিঠে ভেজা স্কুলব্যাগ, এক হাতে জুতা ও অন্য হাতে গুটানো স্কুলড্রেস নিয়ে হাঁটুপানির মধ্যে সাবধানে আগাচ্ছে। কয়েক কদম পরপরই হোঁচট খাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

এসময় এ প্রতিবেদককে দেখে সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, ‘সাংবাদিক আংকেল একটু লিখে দেন না, বৃষ্টি হলে যেন এখানে পানি না জমে। ওপরের অফিসার স্যাররা তো সব পারেন।’

বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তানজিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এই সামান্য দূরত্বটুকু পার হতে হলে স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। জুতাটাও নষ্ট হয়। ভেজা ড্রেস নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে ঠাণ্ডা লেগে যায়।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকাল তো বটেই সামান্য বৃষ্টি হলেই অপরিকল্পিত ডিজাইনের সড়কটি ডুবে যায়। কারণ, এখানে কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সবাইকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। এ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা। 

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে যোগদান করা এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আগে জানতাম না। এখন অবগত হলাম। শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্রাক উল্টে রেললাইন ব্লক, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কু‌ড়িগ্রাম
ট্রাক উল্টে রেললাইন ব্লক, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেল লাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেই স‌ঙ্গে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজারহাট উপজেলার পেট্রল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুভর্তি ট্রাকটি রেললাইনের ওপর উল্টে পড়লে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে ব্লক হয়ে কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি।

রেললাইন বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী যাত্রীদের বাস, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা গেছে। আকস্মিক এ পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে এবং দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘ‌টে। দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে আসতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন থেকে ট্রাকটি অপসারণ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুড়িগ্রাম আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশাযোগে তিস্তা স্টেশনে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী চরম বিপাকে পড়েছেন।’

কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’