ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলজিইডির কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি প্রায়ই জলাশয়ে পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীসহ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কটির পাশেই রয়েছে সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
আরো পড়ুন
‘এটা সহজ ছিল না’, চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বৃষ্টির পর বিদ্যালয়সংলগ্ন বড়বাড়ি-ভুইয়াবাড়ি মোড় এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পানিতে ডুবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে দেখা যায়। অনেকের স্কুলড্রেস ও জুতা ভিজে যায়, ফলে ভেজা পোশাকেই ক্লাস করতে বাধ্য হয় তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, ডুবে যাওয়া সড়কের সামনে শিক্ষার্থীদের কারো কারো পিঠে ভেজা স্কুলব্যাগ, এক হাতে জুতা ও অন্য হাতে গুটানো স্কুলড্রেস নিয়ে হাঁটুপানির মধ্যে সাবধানে আগাচ্ছে। কয়েক কদম পরপরই হোঁচট খাওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
আরো পড়ুন
দেশে নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১.২৩ বিলিয়ন ডলার
এসময় এ প্রতিবেদককে দেখে সরকারি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে ওঠে, ‘সাংবাদিক আংকেল একটু লিখে দেন না, বৃষ্টি হলে যেন এখানে পানি না জমে। ওপরের অফিসার স্যাররা তো সব পারেন।’
বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তানজিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এই সামান্য দূরত্বটুকু পার হতে হলে স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। জুতাটাও নষ্ট হয়। ভেজা ড্রেস নিয়ে ক্লাস করতে হয়। এতে ঠাণ্ডা লেগে যায়।’
৪ নম্বর ওয়ার্ডের অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকাল তো বটেই সামান্য বৃষ্টি হলেই অপরিকল্পিত ডিজাইনের সড়কটি ডুবে যায়। কারণ, এখানে কোনো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বও বোঝা যায় না। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ সবাইকে ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। এ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।
আরো পড়ুন
ট্রাক উল্টে রেললাইন ব্লক, ভোগান্তিতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শতাধিক যাত্রী
এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে যোগদান করা এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আগে জানতাম না। এখন অবগত হলাম। শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’