• ই-পেপার

তিস্তা বাঁচাতে হাজারো মানুষের মশাল প্রজ্বালন

গাইবান্ধায় অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধায় অপহরণের শিকার এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৩। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আহসান হাবিব (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাতটেকোর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী ও গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী গাইবান্ধা সদর উপজেলার পুরাতন বাদিয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার আহসান হাবিব তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। কিশোরী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে বিষয়টি তার পরিবার জানতে পেরে আসামির পরিবারকে অবহিত করে।

পরবর্তীতে আসামির পরিবার বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেও আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক অভিযোগ থাকায় কিশোরীর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রামনাথের ভিটা মন্ডলপাড়ায় চাচার বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কিশোরীকে একটি অটোরিকশায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

এ ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র‌্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল সাঘাটা উপজেলার সাতটেকোর গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

র‌্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সব ধরনের গুরুতর অপরাধ দমনে র‌্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

কুমিল্লা

সাবেক কমিশনার বাছির উদ্দিন বিমান বন্দরে গ্রেপ্তার

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
সাবেক কমিশনার বাছির উদ্দিন বিমান বন্দরে গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। রবিবার (২৮ জুন) ভোরে দুবাই থেকে দেশে ফেরার পথে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার বাছির উদ্দিন দেবীদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো. আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে। 

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রুবেল হত্যা, ছাব্বির হত্যা ও আবুবক্কর হত্যাচেষ্টা মামলার এজহার নামীয় আসামি বাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছ তলায় গুলিবিদ্ধ এবং কুপিয়ে পিটিয়ে আব্দুর রহমান রুবেলকে হত্যা এবং কলেজ রোডে কুপিয়ে পিটিয়ে স্কুলছাত্র সাব্বিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দর থানা পুলিশ বাছিরকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলাসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। 

ময়মনসিংহ

নগরেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫ শতাংশ, গ্রামে আরো বেশি

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
নগরেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫ শতাংশ, গ্রামে আরো বেশি
প্রতীকী ছবি।

তাপমাত্রা বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎবিভ্রাট— এ ধারণা গ্রামের বাসিন্দাদের। তবে কয়েক দিন ধরে ময়মনসিংহ নগরেই লোডশেডিং বেড়েছে অনেক বেশি। 

বাসিন্দারা বলছেন, নগরে দিনে-রাতে কিছুক্ষণ পর পর লোডশেডিং চলছে। আর অনেক গ্রামে দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মানুষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ময়মনসিংহ নগরে দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এ দুটি কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে চাহিদার ২৫ শতাংশ ঘাটতি যাচ্ছে। তবে কখনো কখনো আরো কমছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে শহরের সব এলাকায়ই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। 

গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ নগরের নওমহল ও আর কে মিশন রোড এলাকায় গিয়ে জানা যায়, এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং করা হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় বসে থাকতে দেখা গেছে। 

আর কে মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণ লোডশেডিং খুব থাকে। তবে আজ (শুক্রবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এই গরমের দিনে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষ খুব কষ্টের মধ্যে পড়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার থেকে হঠাৎ করেই ময়মনসিংহ নগরে লোডশেডিং বেড়েছে। 

পিডিবির বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র ময়মনসিংহ উত্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরবরাহ ছিল ৩০ মেগাওয়াট। ১০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করা হয়।

নগরের বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার (২৭ জুন) সকালে ওই কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ ছিল ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট।

সুব্রত রায় জানান, তিনটি গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তিনটি গ্রিডের মধ্যে একটি হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর গ্রিড। বর্তমানে শ্রীপুর গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ জেলায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ময়মনসিংহ শহরেও বেড়েছে লোডশেডিং।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘন্টার চেয়েও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩-এর অধীনে জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার কিছু অংশসহ মোট সাতটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে ওই সাত উপজেলার বাসিন্দাদের। 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, দিনে ও রাতে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও কষ্ট বেড়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম (কারিগরি) আবু রায়হান জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টায় জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছির ৭৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদার তুলনায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। এ চাহিদা ও ঘাটতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হয়।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে থাকা বাকি ছয় উপজেলার গ্রামগুলোতে কয়েকদিন ধরে চলছে ব্যাপক লোডশেডিং। সেসব এলাকার মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছে।

একাধিক প্রকল্প বরাদ্দে জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
একাধিক প্রকল্প বরাদ্দে জামায়াত এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগ্নে-ভগ্নিপতিকে সভাপতি করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। 

চলতি অর্থবছরে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিন টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লাখ, কাবিটার ২৫ লাখ ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। তার সংসদীয় আসনে বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে প্রকল্প দাখিল করেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাট করণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।

আরেকটি প্রকল্প একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগ্নে ও ভগ্নিপতি। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকটাত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, একই ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্প এমপি তার বোনজামাই ও ভাগ্নে প্রকল্প সভাপতি হওয়ায় তার সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে। 

একই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরাতন জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরে কথা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিস্তা বাঁচাতে হাজারো মানুষের মশাল প্রজ্বালন | কালের কণ্ঠ