ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক ও দপ্তরি কাম প্রহরীরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দুপুর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।
এর আগে গত ৭ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার সই করা পত্রে এ বদলির আদেশ জারি করা হয়। ওই পত্রে জানানো হয়েছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধের সময় উপস্থিত প্রধান শিক্ষকরা জানান, ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন ঘুষ ও দুর্নীতি ছাড়া কিছুই বোঝেন না। ২০২৫- ২৬ অর্থ বছরের বিদ্যালয় উন্নয়ন বরাদ্দের শেষ কিস্তির স্কুল প্রতি সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকার কাজ প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে করিয়ে ভাউচার জমা নিয়েছেন তিনি, কিন্তু টাকা দেননি। দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছেন। এখন চলে গেলে ভাঙ্গা উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ২৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা থেকে বঞ্চিত হবেন।
উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ভাঙ্গার আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন আলম বলেন, গত অর্থ বছরের উন্নয়ন বরাদ্দ বাবত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আমাকে দিয়ে ১৫ হাজার টাকার কাজ করিয়েছে। আমি ভাউচার জমা দিয়েছি। আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার ভাঙ্গায় শেষ অফিস। তাই টাকা মেরে যাতে না যেতে পারেন, সেজন্য এসেছি। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসেছেন। তিনি ঘুষ ছাড়া কিছু বোঝেন না।
ভাঙ্গার ভদ্রকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের তিন মাসের বেতন শিক্ষা অফিসার দেন না। শুনেছি অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগেই তিনি ৭৪ জন দপ্তরি কাম প্রহরীর তিন মাসের বেতনের টাকা সরিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রেখেছেন। তিনি চলে গেলে আমরা টাকা পাব কিভাবে? তাই আমরা আমাদের বেতনের টাকার দাবিতে এখানে এসেছি।
ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি চক্রান্তের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন শিক্ষক ও কর্মচারী দ্বারা অবরুদ্ধ হয়েছেন। এ খবর পাওয়ার পর আমি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।





