• ই-পেপার

জিআই স্বীকৃতি পেল শেরপুরের ছানার পায়েস

চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে গুলি করে মো. আজাদ নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টায় আজাদের লাশ তার এক সহযোগী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে নিয়ে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিকেল সোয়া ৪টায় হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়, মুরাদপুর ফরেস্ট গেইট এলাকা থেকে আজাদ নামে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। পরে ডাক্তার পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আজাদের সহযোগীর কথা মতো আমাদের টিম ফরেস্ট গেইটে যায়। সেখানে একটি একতলা ভবনে গিয়ে জানতে পারে নিহত আজাদসহ তিনজন মাদক সেবনরত ছিল। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আজাদের সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সন্দেহ মাদক সংক্রান্ত বিরোধে আজাদকে খুন করা হয়েছে।

ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলা মাদরাসার সেই শিক্ষক জেলহাজতে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলা মাদরাসার সেই শিক্ষক জেলহাজতে
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার আদমদীঘিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলাসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মাহমুদুল হাসান (৩৮) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা আদমদীঘি থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউপির কড়ই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে এবং নশরতপুর ইউপির ধামাইল ঘোড়াদহ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ওই মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে ওই ছাত্রী। শিক্ষক মাহমুদুল বেশ কিছুদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। মোবাইল ফোনে ছাত্রীকে একান্তে দেখা করা ও বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে আসছেন। এতে বিরক্ত হয়ে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরের দিকে মৌলভী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদরাসায় গেলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা তার কাছে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চান। সে সময় অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিকেল ৪টার দিকে গ্রামবাসীরা মাদরাসায় সমবেত হয়ে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষককে উদ্ধার করছিলেন। সে সময় উত্তেজিত জনগণ পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ জনতার রোষ থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, মৌলভি শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ওই শিক্ষকের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিয়া জানান, এ ব্যাপারে ছাত্রীর মা বুধবার সকালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুপুরে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।


 

চায়ের প্যাকেটে ১২ হাজার পিস ইয়াবা পাঠাতে গিয়ে আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর
চায়ের প্যাকেটে ১২ হাজার পিস ইয়াবা পাঠাতে গিয়ে আটক ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চা পাতার প্যাকেটে লুকিয়ে আনা ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় মনসুর মণ্ডল ওরফে বোদা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকার এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। বিষয়টি দুপুরে নিশ্চিত করেন রংপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু জাফর।

আটক মনসুর মণ্ডল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জালাল মণ্ডলের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় ডিএনসি।

আবু জাফর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে কুরিয়ার সার্ভিসে রংপুরে ইয়াবার একটি বড় চালান আসছে। এরপর সিভিল পোশাকে ডিএনসির সদস্যরা এস এ পরিবহন অফিসে নজরদারি শুরু করেন।

তিনি বলেন, মনসুর পার্সেল নিতে এলে তাকে আটক করা হয়। পরে পার্সেল খুলে চা পাতার প্যাকেটের ভেতর থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ডিএনসির দাবি, মনসুর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তিনি কক্সবাজার থেকে মাদক এনে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন।

আবু জাফর বলেন, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে মাদক পরিবহন করছে। কখনো ফলের কার্টনে, কখনো পোশাকে, আবার কখনো খাদ্যপণ্যের মোড়কে মাদক পাঠানো হচ্ছে। এবার চা পাতার প্যাকেট ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা নজরদারির কারণে চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
 
তিনি আরো বলেন, মাদকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

‘সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তায় বদ্ধপরিকর জেলা পুলিশ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তায় বদ্ধপরিকর জেলা পুলিশ’
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ পুলিশ সব ধর্মের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরিচিতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।

সভার শুরুতে উপস্থিত পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি মানসম্মত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সেগুলো সচল রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা জনবান্ধব, পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জান-মাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা পালন, স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার।