হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ডিবি পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এসময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে পুলিশের হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক এসআই ও পাঁচ কনস্টেবলকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিকেলে উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবনগর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসআই মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া, মো. আলমগীর কবির এবং সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়া। অভিযান চালিয়ে দেবনগর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে ও সন্দেহভাজন মাদক কারবারি জুয়েল মিয়াকে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাকে হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় জুয়েল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ডিবির দুই সদস্য আহত হন। পরে স্থানীয় কিছু লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে আসামি জুয়েল হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান।
ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মামুন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাদের মাদক কারবারি মনে করেছিলেন। এ ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার দুদিন পর, ১৭ জুন প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ডিবির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং সদর থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম আগে থেকেই বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।’
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ চার সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে’। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কথা বলতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করার হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।





