kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বরগুনার আমতলী

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগের তীর মেয়রের দিকে

প্রতিবাদে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ১১:০৫ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগের তীর মেয়রের দিকে

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান এবং তার বড়ভাই পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মজিবর রহমানকে কটূক্তি করে বক্তব্য ও ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে তাদের অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পৌরশহরের সাকিব প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আমতলী- কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।
 
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপ ১৫ আগস্টের জাতীয় শোকদিবসের আয়োজন পৃথকভাবে করে। দলীয় সকল অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান এবং তার বড়ভাই পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. মজিবুর রহমানকে সাবেক বিএনপি নেতা ও হাইব্রিড উল্লেখ করে বক্তব্য দেন ও ফেসবুকে লেখালেখি করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খান।  

শোকসভার আলোচনা সভায় তাদের নিয়ে সমালোচনা ও কুটূক্তি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে পৌরশহরের তিন রাস্তার মোড়ে সাকিব প্লাজার সামনে মেয়র অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা সবুজ মালাকার, ইসফাক আহমেদ তোহা, রাহাত মৃধা, সজিব প্যাদা ও সাহাবুদ্দিন শিহাবসহ তাদের ১০ থেকে ১৫ জন অনুসারী দেশীয় ধারাল অস্ত্র নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে  মোয়াজ্জেম হোসেনের মাথা ও হাতে মারাত্মক জখম হয়েছে। কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা।  
 
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী চৌরান্তার গোল চত্বরে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আমতলী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘলাইন পড়ে যায়। খবর পেয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান পুলিশ নিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। ওসি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে নেতাকর্মীরা সড়ক থেকে তাদের অবরোধ তুলে নেন। পরে চৌরাস্তায় পথসভা করেন তারা। সেখানে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান।

ওসমানী হাসান তার বক্তব্যে বলেন, মেয়র ও তার ভাই সন্ত্রাসীদের দিয়ে একটার পর একটা ঘটনা ঘটিয়ে আমতলী পৌর শহরকে একটি সন্ত্রাসী জনপদ ও নরকের শহরে পরিণত করেছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় দলীয় নেতাকর্মীদের নামে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের দু’ভাইয়ের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও কথা বলায় সাবেক ছাত্র ও যুবলীগ সভাপতি এবং বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।  

তিনি আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসন আমাদের কথা দিয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করবেন। যদি তারা তাদের কথা রাখতে ব্যর্থ হন তাহলে আগামীকাল (আজ বুধবার) বিকেলে ওই ঘটনার প্রতিবাদে হরতালসহ আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হবো। তিনি দলের সকল নেতাকর্মীদের আগামীকাল বিকেলে চৌরাস্তায় সমবেত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে পথসভা সমাপ্ত করেন।

ওই ঘটনার পর থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পৌরশহরে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. সেলিম বলেন, মেয়র অনুসারী সন্ত্রাসী সবুজ মালাকার, ইসফাক আহমেদ তোহা, রাহাত মৃধা, সজিব প্যাদা ও সাহাবুদ্দিন শিহাবসহ ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মোয়াজ্জেম খানকে কুপিয়ে আহত করেছে। পরে আহত মোয়াজ্জেম খানকে আমরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুমন বিশ্বাস বলেন, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আহতের হাতে ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।  

আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান হাসপাতালে বসে বলেন, আমি কেন সাবেক বিএনপি নেতা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে বক্তব্য দেই- এজন্য মেয়রের অনুসারী সন্ত্রাসীরা আমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথায় ও হাতে কুপিয়েছে। এর আগেও একই সন্ত্রাসী বাহিনী মেয়র ও তার ভাইয়ের নির্দেশে আমাকে একাধিকবার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।

এ ঘটনায় আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি ও আমার বড়ভাই কোনো অবস্থাতেই জড়িত না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমি প্রশাসনকে বলে দিয়েছি।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ পূর্বে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ মালাকার পৌরশহরের বটতলা নামক এলাকায় বসে তার অনুসারীদের নিয়ে মেয়র ও বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল ইসলামকে চাকু দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে নাজমুল ইসলামের মাথায় ১৮টি সেলাই দেওয়া লেগেছে। ওই ঘটনায় নাজমুল ইসলাম বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।   

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, গতকালকের ওই ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন কাউকেই আমরা ছাড় দেব না। জড়িতদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।  



সাতদিনের সেরা