kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং

পানি নিষ্কাশনের অভাবে সাড়ে ৩শ হেক্টর জমির আবাদ কমে গেছে

* ব্যক্তি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাধার মুখে পড়েছে * অনাবাদি থেকে যাচ্ছে অনেক জমি * জাতীয় উৎপাদনে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ    

২৫ মে, ২০২২ ১৩:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানি নিষ্কাশনের অভাবে সাড়ে ৩শ হেক্টর জমির আবাদ কমে গেছে

অনাবাদি জমিতে জন্মেছে আগাছা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পানি নিষ্কাশনের অভাবে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর জমির আলু ও বোরোধানের আবাদ কমে গেছে। বর্ষার পানি নামতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খালের মুখ সামান্য ছাড়িয়ে দিলে কৃষকের আর এ দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। অথচ ব্যক্তিগতভাবে এ খালের মুখ থেকে মাটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটি মহল মাটি বিক্রির অভিযোগ তোলায় তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লৌহজংয়ের খিদির পাড়া ইউনিয়নের লৌহজং-বালিগাঁও-মুন্সীগঞ্জ রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর জমি রয়েছে। রাস্তার উত্তর পাশে দেড়শ ও দক্ষিণ পাশে ২শ হেক্টর জমিতে বরাবর আলু ও বোরোধানের আবাদ হতো। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের অভাবে আবাদ কমতে শুরু করেছে। দক্ষিণের অনেক জমি পানি নিষ্কাশনের অভাবে অনাবাদি রয়ে গেছে। উত্তরের জমিতেও কমেছে অলু ও বোরোর আবাদ। এ অবস্থা জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অথচ বালিগাঁ-তালতলা খালের সঙ্গে সংযুক্ত রাস্তার পাশের ছোট খালের মুখ হতে সামান্য মাটি সারিয়ে দিলে উত্তরের জমিতে জমে থাকা পানি খুব সহজেই বালিগাঁও-তালতলা খালে নেমে যেতে পারে। কিন্তু সরকারি  উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে ওই এলাকার কিছু লোক খালের মুখটি কেটে পানি নিষ্কাশনের জন্য গত রবিবার কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় একটি মহল মাটি বিক্রির অভিযোগ করলে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। ফলে কৃষকের জমিতে চাষাবাদ এক প্রকার নিরুৎসাহিতই হয়ে রইলো।

খিদির পাড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবু বকর জানান, বর্ষা মৌসুমে এ সকল জমি পানির নীচে চলে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা শেষে পানি নামতে পারে না। তাছাড়া বৃষ্টির পানিও জমে যায় জমিতে। তাই কৃষকরা এসকল জমিতে সময়মতো আবাদ করতে না পারায় অনেক জমি অনাবাদিই থেকে যাচ্ছে। অথচ রাস্তার পাশের সরু খালটি সংস্কার করে দিলে খুব সহজেই জমির পানি বর্ষা শেষে এ খাল দিয়ে নেমে যেতে পারে। খালটি এখনই সংস্কার না করলে বর্ষা শেষে আগামী বছরও এসব জমির পানি নিস্কাশন সম্ভব হবে না। ফলে আগামী বছরও জমিগুলো অনাবাদি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

লৌহজং উপজেলা সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল রহিম জানান, খিদির পাড়া ইউনিয়নের রাস্তার দুই পাশে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। এসব জমিতে আলু ও বোরোধানের অবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষা শেষে জমি থেকে পানি সরে যেতে না পারায় গত কয়েক বছর ধরে আবাদ কমে গেছে। অনাবাদি থেকে যাচ্ছে অনেক জমি। যারাওবা চাষাবাদ করছেন, তারা পানি নিষ্কাশনের অভাবে সঠিক সময়ে ফসল ঘরে তুলতে না পারায় কৃষিতে ব্যর্থ হয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন। ফলে দিন দিন লোকসান দিয়ে তারা আলু-বোরো আবাদে বিমুখ হচ্ছেন। এভাবে আবাদ কমে গেলে আমাদের জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ রাস্তার পাশের সরু খালের মুখ থেকে যদি কিছু মাটি কেটে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে খুব সহজেই এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। আর দক্ষিণের জমি থেকেও পানি নিস্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে দিতে পারলে কৃষক আবার চাষাবাদে ফিরে আসবেন।

এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়ালকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  

 



সাতদিনের সেরা