• ই-পেপার

আশুলিয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

সুন্দরবননির্ভর জীবিকায় ঝুঁকি বাড়ছে, কমছে মৌয়াল-মধু

দুই বছরে মৌয়াল কমেছে অর্ধেকের বেশি  সংগ্রহ করা মধু কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ

ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা (খুলনা)
সুন্দরবননির্ভর জীবিকায় ঝুঁকি বাড়ছে, কমছে মৌয়াল-মধু
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করছেন এক মৌয়াল। ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে মধু সংগ্রহ করেছেন মৌয়ালরা। তবে এ বছর মৌয়াল ও সংগ্রহ করা মধুর পরিমাণ অনেক কম। এতে বিপাকে এ খাতে জড়িতরা। 

মৌয়ালরা বলছেন, মধু সংগ্রহের জন্য তাদের ‘জলে কুমির আর ডাঙায় বাঘ’-এর ভয় সঙ্গে নিয়ে বনে যেতে হয়। তার ওপর এবছর ছিল দস্যুদের তৎপরতা। ফলে সুন্দরবন নির্ভর মানুষের জীবিকা ও জিআই স্বীকৃতি পাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা তৈরি হওয়া মধুর বাজার- দুটোই ছোট হয়ে আসছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে মধু সংগ্রহ করা হয়েছিল মোট চার হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল, ২০২২ সালে তিন  হাজার আট কুইন্টাল এবং ২০২৩ সালে দুই হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে হয়েছিল তিন হাজার ১৮৩ কুইন্টাল। তবে ২০২৫ সালে আবার সংগ্রহ হয়েছিল দুই হাজার ৭৬ কুইন্টাল। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র এক হাজার ৭৩৮ কুইন্টালে। 

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন প্রায় আট হাজার মৌয়াল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ  হাজারে। আর চলতি বছর মধু আহরণে নিয়োজিত ছিলেন তিন হাজার ৪৭৯ জন মৌয়াল। দুই বছরের ব্যবধানে মৌয়ালের সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের বেশি। মধু আহরণ কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

সুন্দরবনে মধু আহরণ কমার পেছনে ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও মৌয়ালরা। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া, সনাতন পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ, বনের অভয়ারণ্য এলাকা বাড়ানোয় মধু আহরণের ক্ষেত্র ছোট হওয়া, মৌয়াল কমে যাওয়া, বনদস্যু আতঙ্ক এবং মধু সংগ্রহের সময়সীমা এক মাস কমানোর কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মৌয়ালরা জানান, আগে বনবিভাগ এপ্রিল, মে ও জুন মাসে  মধু সংগ্রহের অনুমতি দিত। কিন্তু গত চার বছর ধরে শুধু এপ্রিল ও মে মাসে মধু সংগ্রহ করতে দিচ্ছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, কিন্তু বর্ধিত এলাকায় মধু সংগ্রহের অনুমতি দেয় না বন বিভাগ। তাছাড়া গত দুই বছরে  বনদস্যুর অত্যাচার বেড়েছে। এসব কারণে মৌয়াল ও মধু সংগ্রহের পরিমাণ কমেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের প্রধান কেন্দ্র হলো পশ্চিম ও পূর্ব বন বিভাগ। পশ্চিম বন বিভাগ থেকে এ বছর সংগ্রহ করা মধুর পরিমাণ ১৩১৭ কুইন্টাল।  অন্যদিকে যেখানে পূর্ব বন বিভাগ থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৪২১ কুইন্টাল । 

পশ্চিম বন বিভাগে খুলনা রেঞ্জ থেকে ৪৪০ কুইন্টাল এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ৮৭৭ কুইন্টাল মধু পাওয়া গেছে। আর  পূর্ব বন বিভাগে চাঁদপাই রেঞ্জে ২৮৮ কুইন্টাল এবং শরণখোলা রেঞ্জে ১৩৩ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, সংগ্রহ করা মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিপাকে  পড়েছেন সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার প্রায় তিন হাজার মৌয়াল। খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের গোলখালি গ্রামের মৌয়াল আমজাদ আলি সরদার জানান, বাঘ, সাপ, কুমিরের ভয় উপেক্ষা করে ১৭ বছর ধরে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করছেন তিনি। কিন্তু মধুর পরিমাণ কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো লাভ হয় না। 

আমজাদ আলি বলেন, ‘গত বছর আমি সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়েছিলেন। এবার যাইনি। এখন বনের ভেতর গত দুই বছরে জলদস্যু বেড়েছে। একবার তাদের হাতে ধরা পড়লে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ  দিতে হয়। নির্যাতন তো আছেই। তাই এই বছর বাদ যাইনি।’

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ গ্রামের মৌয়াল নুরমান শেখ জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মধু আহরণ করতে হয়। তার ওপর মধু কমে গেছে। এ কারণে এ পেশা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি।

কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকার মৌয়াল আবু ইছা ও আফজাল হোসেন জানান, গত বছর ১২ সদস্যের দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মণের বেশি মধু পেয়েছিলেন। মৌসুমে খরচ প্রতিজন ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর দুই মণ মধু বিক্রি করে আয় হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। 

তারা জানান, এ বছর আট সদস্যের দলের সঙ্গে মধু আহরণের যান তারা। কিন্তু একেকজন এক মণের একটু বেশি মধু পেয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ‘কোনো রকম খরচটা উঠেছে, লাভ হয়নি। কীভাবে সংসার চলবে সেই চিন্তায় আছি।’

মৌয়াল পরিবার ও বাঘ বিধবাদের নিয়ে কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আশিকুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের বাজারে মধুর প্রচুর চাহিদা। ভেষজ গুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং স্বাদে বৈচিত্র্যের কারণে সুন্দরবনের মধু সবসময়ই ক্রেতাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে। 

তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এ বছর সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ করা মধুর পরিমাণ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ফলে মধু কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, দাম বাড়ছে দাম এবং ভেজালের প্রবণতাও বাড়ছে।

এদিকে, মধু উৎপাদনের এই ধস এমন এক সময় দেখা দিয়েছে, যখন বাংলাদেশের মধু আন্তর্জাতিকভাবে নতুন একটি পরিচিতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের মধু ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি পেয়েছে, যা একটি দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলের পণ্যের মান, বৈশিষ্ট্য ও সুনামকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। 

এই স্বীকৃতির ফলে সুন্দরবনের মধু আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের আগেই মধু সংগ্রহে এ ধসকে উদ্বেগজনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় শুধু দেশীয় বাজারই নয়, ভবিষ্যতের রপ্তানি বাজারও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়  বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। মধু সংগ্রহের  পরিমাণ এ বছর তুলনামূলক কম হলেও আমরা মৌয়ালদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’ 

বন কর্মকর্তা বলেন, ‘বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি মৌয়ালদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মৌয়াল ও সংগ্রহ করা মধুর  পরিমাণ বাড়বে।’

সুদের টাকা না দেওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন, অতঃপর...

নোয়াখালী প্রতিনিধ
সুদের টাকা না দেওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন, অতঃপর...

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুদের টাকা আদায় করতে এক অটোরিকশাচালককে অপহরণ করে দুদিন আটকে রেখে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৮ জুন) বিকেল ৪টায় পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

​ভুক্তভোগী মো. রিপন ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করেন। অপরদিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেম সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা।

​ভুক্তভোগী রিপনের অভিযোগ, ‘গত বছর অটোরিকশা কেনার জন্য আমি চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঁইয়ারহাট এলাকার আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের কাছ থেকে সুদে এক লাখ টাকা ঋণ করি। পরবর্তীতে আমি সেই এক লাখ টাকা পরিশোধও করি। কিন্তু এরপরও আমার কাছে সুদের আরো এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।

​তিনি বলেন, হাতিয়ার চানন্দি ও হরণি ইউনিয়ন এবং সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করেন।
দুই দিন আগে আল আমিন বাজার এলাকা থেকে কেদা কাশেমের নেতৃত্বে ৭-৮ ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর চোখ বেঁধে তাকে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের কমান্ডার বাজার এলাকার একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে দুই দিন তাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং ১ লাখ টাকা আনতে বলা হয়।

​তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা অটোরিকশাটি বিক্রি করে অভিযুক্তদের ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উল্টো সুবর্ণচরের ভূঁইয়ারহাট এলাকায় কেদা কাশেমের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তার পায়ে শিকলবেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

​ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, রিপনকে খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় আরো দুই যুবক অভিযুক্তদের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। 

​তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ওরফে কেদা কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে ​চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাশীষ সরকার জানান, ‘ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নোয়াখালী

মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
মামাতো বোনকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব উদ্দিন (২২) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৮ জুন) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন। অভিযুক্ত উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী সম্পর্কে তার আপন মামাতো বোন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। গত ২ জুন তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ৫ জুন বিকেলে কিশোরী তার এক খালাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে বড় বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত সাকিব জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা খালাতো বোন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি। পরে তাকে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার পর তিনি অভিযুক্তের পরিবার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হাতিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগে গত ১২ জুন মামলা করেন।

তিনি আরো জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ১৬ জুন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও বহিরাগত কয়েকজন মিলে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। হামলায় তিনিসহ, জ্যাঠা-জ্যাঠি ও শিশুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন এবং হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় একটি এবং পরে হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শিশুকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টা, আটক মা

জামালপুর প্রতিনিধি
শিশুকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টা, আটক মা
সংগৃহীত ছবি

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আট মাস বয়সী ছেলে শাওনকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে মা শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

রবিবার (২৮ জুন) ভোরে উপজেলার ভাবকি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন ওই এলাকার হুমায়ূন আহমেদ ও শ্রাবন্তী আক্তার দম্পতির ছেলে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত মা শ্রাবন্তী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে জামলপুর পৌরসভার কম্পপুর এলাকার মমতাজ আলীর মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। রবিবার ভোররাত ৩টার দিকে স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শ্রাবন্তী শাওনকে নিয়ে ঘর থেকে বের হন। পরে তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে পুকুরে মরদেহ ফেলে এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। 

পরে তিনি হেঁটে ভাবকি বাজারে পৌঁছলে নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হলেও তিনি সেখানে না গিয়ে এক অটোরিকশাচালকের বাড়িতে গিয়ে অটোরিকশা ভাড়া করার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এদিকে বাড়ির পাশে পুকুরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়রা শ্রাবন্তীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত শিশুর ফুফু সুমাইয়া বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোরে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে শাওনকে গলা টিপে হত্যা করে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান। পরে এলাকার লোকজন তাকে ধরে নিয়ে আসে। এ সময় এক শিশু পুকুরে শাওনের মরদেহ দেখে চিৎকার করলে আমরা সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।’

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি শিশুটিকে হত্যা করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

আশুলিয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪ | কালের কণ্ঠ