• ই-পেপার

উপজেলার মূল সড়কটি এখন মরণফাঁদ

ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, আহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, আহত ৮
গ্রেপ্তার মাদক কারবারিরা। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদক কারবারিদের ইট পাটকেলের ঢিলে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত হয়েছে। এসময় শীর্ষ কারবারি ফাইটার মনিরসহ ৩ জনকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় ফতুল্লার মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন এসআই নন্দন সরকার এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন, কনস্টেবল আশিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন পথচারী হেলালউদ্দিম ড্রাইভার বাবু ও একেএম শফিউদ্দিন। তাদের প্রত্যেককে শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে ফাইটার মনিরের মাদকের আখড়ায় অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমাণের মাদকসহ ফাইটার মনির তার সহযোগী নাইম (৩০) ও মাসুমকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তখন গ্রেপ্তারদের ছিনিয়ে নিতে তাদের সহযোগীরা প্রথমে পুলিশের উপর এলোপাতাড়ি ইট পাটকেলের ঢিল ছুড়ে। পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রায় ৫/৬ রাউন্ড গুলি করে মাদক কারবারিরা। তখন পুলিশও পাল্টা দুই রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছুড়ে। কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও পুলিশ পথচারী ও গ্রেপ্তার মাদক কারবারিরা ইটের ঢিলে আহত হয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলায় র‍্যাব-পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী জেলা শহরের জজ আদালতের বিপরীতে শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিনগত ভোর রাতে তিন-চার যুবক নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। ভোর রাতে জনশূন্য থাকায় আগুন জ্বলে নিভে যায়। 

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৫ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার সময় এক যুবক বলছেন—‘স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’

ভিডিওর শেষাংশে তাদের আরো বলতে শোনা যায়, ‘নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। শেখ হাসিনার স্মরণে, ভয় করি না মরণে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

বিকেলে এই ঘটনায় জানাজানির পর স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সকালে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, ভোর রাতে কোনো এক সময় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

লাকসামে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লাকসাম থানা পুলিশ একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. শাহ আলম (২৮) নামে এক যুবককে দীর্ঘ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবক পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাদ্রা গ্রামের ডিম বেপারী বাড়ির আবদুস ছোবহানের ছেলে। 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে তাকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী  কামরুন্নাহার লাইলী ওই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলম ২০২০ সালের একটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। দীর্ঘ বছর ধরে ওই যুবক পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১২ জুন) গভীর রাতে পৌর শহরের কাদ্রা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী ওই যুবককে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। এক্ষেত্রে পুলিশের জিরো টলারেন্স ঘোষণা রয়েছে।

ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ফরিদপুরের মধুখালীতে ওষুধ কম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নওপাড়া বাজার থেকে বাগাট বাজার আঞ্চলিক সড়কের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত বিক্রয় প্রতিনিধির নাম রবিউল আউয়াল আলফাদ। তিনি একমি ওষুধ কম্পানির (ভেটেরিনারি ডিভিশন) মধুখালী উপজেলার প্রতিনিধি।

জানা গেছে, শনিবার একমি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল আলফাদ সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বকেয়া টাকা সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যার পর নওপাড়া বাজার থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে বাগাট বাজারের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে রওনা দেন তিনি। পথে নওপাড়া ইউনিয়নের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকার নির্জন স্থানে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

রবিউল আউয়াল আলফাদ বলেন, সারাদিন বিভিন্ন বাজার থেকে টাকা সংগ্রহ করেছি। নওপাড়া বাজার থেকে বাগাট বাজারে যাওয়ার পথে তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তারা আমাকে কুপিয়ে আহত করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি মধুখালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজম খান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

উপজেলার মূল সড়কটি এখন মরণফাঁদ | কালের কণ্ঠ