• ই-পেপার

পিকআপ বোঝাই গাঁজা!

নারায়ণগঞ্জে ২ ইটভাটায় জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে ২ ইটভাটায় জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে বায়ুদূষণ রোধে পরিচালিত অভিযানে দুটি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভাটাগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার কেওঢালা এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল মাহমুদ প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় খান ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারারকে ৭০ হাজার টাকা এবং মেসার্স আল্লাহ মহান ব্রিকসকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর আরো জানায়, অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়া ও নির্গমন বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। এসব কার্যক্রম পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তাই আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এইচ এম রাশেদ বলেন, ‘বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে অবৈধ ইটভাটা বা পরিবেশদূষণকারী কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।’

বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন সেই আলোচিত ব্যবসায়ী : পুলিশ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
বিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন হন সেই আলোচিত ব্যবসায়ী : পুলিশ
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ব্যবসায়ী সোহেল মুন্সী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর প্রথম স্বামী মো. দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে লৌহজং উপজেলার কালুরগাঁও গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা সেফালী বেগম বাদী হয়ে লৌহজং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা করেন।

ঘটনার পর জেলা পুলিশ ও লৌহজং থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঘর থেকে তিন বোতল মদ, মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সোহেল মুন্সী ভাঙারি ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী নুপুরের প্রথম স্বামী ছিলেন দ্বীন ইসলাম। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান নামে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে নুপুর দ্বীন ইসলামের সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই সোহেল মুন্সীকে বিয়ে করেন। পরে সোহেল ও নুপুরের সংসারেও সাফওয়ান মুন্সী নামে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দ্বীন ইসলাম। ঘটনার রাতে তিনি গোপনে সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন দেখতে পেয়ে সোহেল ঘর থেকে বের হয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করলে চাপাতি দিয়ে তার গলা, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। এ সময় সোহেলের মা ও স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পরবর্তী তদন্ত ও গ্রেপ্তারের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, সোমবার ভোর ৬টার দিকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি নেভি-ব্লু রঙের ফুলহাতা শার্ট, একটি ফুল প্যান্ট, এক জোড়া সাদা কেডস, একটি লাল গামছা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মোবাইল চুরির সন্দেহে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
মোবাইল চুরির সন্দেহে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে অপু (১৪) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের সাঁতারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত অপু সাঁতারপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সীমান্ত মিয়া (১৫) নামের আরেক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। সীমান্ত মৃত অপুর ফুফাতো ভাই। সে একই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন সীমান্তের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। তার সন্দেহ ছিল, ফোনটি অপু চুরি করেছে। এ নিয়ে এলাকায় একটি সালিস বসে। তবে সালিসে অপুর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সীমান্ত বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি এবং অপুর ওপর সন্দেহ বজায় রাখে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সীমান্ত সাঁতারপুর গ্রামের একটি সেতুর কাছে অপুকে ডেকে আনে। সেখানে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত সঙ্গে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে অপু। পরে স্থানীয় লোকজন সীমান্তকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। আর আহত অপুকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুবীর কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মূলত মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সীমান্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সিলেটে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আরো ৪ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠনের আরো ৪ জন গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সিলেট মহানগর পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরো চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ নিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শিঙ্গাউলী গ্রামের মৃত এবাদ আলীর ছেলে আসাদুল হক একরাম (১৯), সিলেট নগরের ছড়ারপাড় এলাকার নূর আহমদ খাঁনের ছেলে তারেক আহমদ তপু (২৮), মাছিমপুর এলাকার মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে জুবেদ আহমদ (৩৫) এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ এলাকার মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. আফসার হোসেন মুন্না (২২)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, গত রবিবার দিবাগত রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন সকাল ৭টার দিকে সিলেট নগরের নবাব রোড এলাকার পিডিবি অফিসের সামনে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পিকআপ বোঝাই গাঁজা! | কালের কণ্ঠ