• ই-পেপার

ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে নেই পানি, টিউবওয়েল চেপে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা!

শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দে অতীতের সব সরকারকে পেছনে ফেলেছে বর্তমান সরকার: আমান উল্লাহ

কেরাণীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দে অতীতের সব সরকারকে পেছনে ফেলেছে বর্তমান সরকার: আমান উল্লাহ
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দে বর্তমান সরকার অতীতের সব সরকারকে পেছনে ফেলেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে কেরাণীগঞ্জ উপজেলার পুরাতন ভাড়ালিয়া আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষা খাতকে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে সরকার এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

কেরাণীগঞ্জকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, ভূমিদস্যুমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির সভাপতি হাজী শামীম হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান। এছাড়া বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ মন্টু, মাসুদ রানাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব

জয়পুরহাটে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমানকে জুতাপেটা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী অভিভাবক সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। নির্বাচন শেষে স্থানীয় রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২১ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে হারুনুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ ও আতিয়ার রহমান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মীর মো. আতিকুজ্জামান মুন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা নির্বাচনের কাগজপত্র দেখতে চান এবং নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানালে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে তাঁর গালে আঘাত করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, হামলায় তাঁর কানে আঘাত লাগে এবং চিকিৎসা নিতে হয়। পরে ২২ জুন আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তাঁকে বান্দরবানে বদলির ভয় দেখিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ বলেন, ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে কয়েকজন অভিভাবকের আপত্তি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য আনা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ ও আতিয়ার রহমানও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি শান্ত করতেই তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় যুবলীগের এক নেতাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করার চেষ্টা করছিলেন, তাঁরা শুধু এর বিরোধিতা করেছেন।

ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁকে মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তবে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশের তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে আলাদাভাবে কিছু করার সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবিঃ অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন ও নিহত মরিয়ম আক্তার

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মরিয়ম আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৬ জুন) নিহতের পরিবার কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়নের হাটমুড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী আলমগীর হোসেন একই গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৮ বছর আগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মুটুকি গ্রামের মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে আলমগীর একই বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। মরিয়ম পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ পরিবারের।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বিষয় নিয়ে আবারও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আলমগীর মরিয়মকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে তাকে প্রথমে সাচারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তার কথিত পরকীয়া সম্পর্কের নারী শাহীন আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

নিহতের মা হোসনে আরা বেগম ও ননদ সায়েরা বেগম দাবি করেন, এর আগেও আলমগীর একাধিকবার মরিয়মকে মারধর করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিসও হয়েছে। তাদের দাবি, মরিয়মের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ওসি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চরের বালু নিয়ে দ্বন্দ্ব

পাবনায় বিএনপি নেতার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা, আটক ২

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনায় বিএনপি নেতার ভাতিজাকে গুলি করে হত্যা, আটক ২
জহুরুল ও জমির খাঁ (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পদ্মার চরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার ভাতিজা মঞ্জু শেখকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

আটকরা হলেন ভাঁড়ারা ইউনিয়নের খাস চর বলরামপুর গ্রামের মজিদ প্রামাণিকের ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৮) এবং চর মধুপুর গ্রামের মৃত ছমির খাঁর ছেলে জমির খাঁ (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পদ্মার মধ্যচরের জোতকাকুরিয়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মঞ্জু শেখ। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চর তারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়রা জহুরুল ইসলাম ও জমির খাঁকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, তাঁরা ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, মারধরের শিকার হওয়ায় আটক দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে নেই পানি, টিউবওয়েল চেপে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা! | কালের কণ্ঠ