• ই-পেপার

স্পিডবোট-বাল্কহেড সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

মেহেরপুরে বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলে মো. সিফাত ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক গোলাম কবির এ রায় দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গাংনী উপজেলার নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মনির উদ্দীন রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নিহতের ছেলে সিফাত ফকিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এস এম বুলবুল আহাম্মেদ। পরে সিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

 

২০১৯ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সিফাত ফকিরকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি মো. নজরুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন এ কে এম শফিকুল আলম।

দেবীদ্বারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চার হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক অশোক বিক্রম চাকমা এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ৩০৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজের এন-৫৩ জাতের বীজ, হাইব্রিড মরিচ বীজ, রোপা আমন ধানের (উফশী) বীজ, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির (উফশী ও হাইব্রিড) বীজ, পেঁয়াজের এয়ার ফ্লো মেশিন, বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও কলম, লেবুর চারা এবং ১০ মেট্রিক টন রাসায়নিক ও জৈব সার বিতরণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। এ সময় অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশারসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় কৃষকদের আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, বিনা মূল্যে পাওয়া বীজ, সার ও চারা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন ও লাভ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে তরুণীকে বিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
প্রেমের টানে বাংলাদেশে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে তরুণীকে বিয়ে
চীনা নাগরিক লি বিং ও বাংলাদেশের তরুণী তন্দ্রা খাতুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা ও হাজারো মাইলের দূরত্ব পেরিয়ে প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে যশোরের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক লি বিং। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন নবদম্পতি।

তরুণী তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে। তিনি যশোর সদর উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চীনা জামাইকে একনজর দেখতে তন্দ্রাদের বাড়িতে প্রতিদিনই ভিড় করছে আশপাশের এলাকার কৌতূহলী মানুষ।

তন্দ্রা খাতুন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যালোটক-এর মাধ্যমে লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে উইচ্যাট-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় আট মাসের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘লি বিং গত ১৮ জুন বাংলাদেশে আসে। পরদিন সন্ধ্যায় আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আগে সে কোনো ধর্ম অনুসরণ করত না। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতেই রয়েছে। ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আমি তার সঙ্গে চীনে চলে যাব।’

লি বিং জানান, তিনি চীনের বেইজিং শহরের বাসিন্দা এবং একটি স্মার্ট লক (তালা) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

বাংলাদেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার বউ ভালো, খুব ভালো। বাংলাদেশের বাতাস খুব ভালো, আমার বউয়ের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনও খুব ভালো এবং দয়ালু। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি তোমাদের দেশটাকে খুব পছন্দ করছি। বিয়ের পর অনুভূতি খুব ভালো।’

তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েকে বিয়ে করার জন্য সে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে দিয়েছি।’

প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো বিদেশি, বিশেষ করে চীনের কোনো ছেলে এসে বিয়ে করেছে—এমন ঘটনা দেখিনি বা শুনিনি। তাই বিষয়টি নিয়ে মানুষের বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে চীনা জামাইকে দেখতে আসছেন।’

বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বায়োগ্যাস প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর বাগমারায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্প (দ্বিতীয় ফেজ)-এর আওতায় উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে দেখা গেছে, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন না করেই ৪১০ জন উপকারভোগীর নামে ভুয়া তালিকা তৈরি করে অন্তত ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে।

দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি নথি সূত্রে জানা যায়, বাগমারা উপজেলার তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রকল্পের আওতায় ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা দাখিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে পায়, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ উপকারভোগীর বাড়িতে কোনো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়নি। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা এ প্রকল্পের কোনো সুবিধাই পাননি।

তদন্ত শেষে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) আন-আমিন সই করা এক পত্রে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া উপকারভোগীর তালিকা দাখিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রস্তুত করেন। তাদের মাধ্যমেই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।