• ই-পেপার

সমিতির টাকা নিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ

প্রকল্পের কাজে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না : এমপি আনোয়ারুল হক

বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকল্পের কাজে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না : এমপি আনোয়ারুল হক
ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেছেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। সব প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে।’

শনিবার (২০ জুন) বারহাট্টা উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে তিনি কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করেন। এ সময় বাউশী ও আসমা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিংয়ের কাজসহ একাধিক প্রকল্প ঘুরে দেখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এমপি আনোয়ারুল হক বাউশী গ্রামের মোতালেবের বাড়ি থেকে জব্বারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাট, বাউশী-ভেটুয়াকান্দা সড়ক সংলগ্ন শেখেরপাড়া রাস্তার উন্নয়ন, দেওপুর থেকে সুসংধোবাহালা পর্যন্ত নতুন সড়কে মাটি ভরাট, আসমা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে ইটের সলিং এবং বারহাট্টা মডেল স্কুল মোড়ের অটোস্ট্যান্ডে মাটি ভরাটের কাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্কাস আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লালু, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উবায়েদ উল্লাহ খানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি আনোয়ারুল হক বলেন, ‘অতীতে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অনেক কাজই জনসাধারণের অগোচরে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ বাস্তবায়নও হয়নি। একই স্থানে একাধিকবার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই আমি সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি গ্রামে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তবে উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার সুযোগ না পায়।’

উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বামীর পাটার আঘাতে স্ত্রী নিহত

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বামীর পাটার আঘাতে স্ত্রী নিহত
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহের জেরে শিলপাটা দিয়ে স্বামীর আঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে আটক করেছে এপিবিএন পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উখিয়া উপজেলার ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এল-৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনারা বেগম (২৯) একই এলাকার মো. আবু তাহেরের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক নানা বিষয়ে স্বামী আবু তাহের ও স্ত্রী মিনারা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরেও পূর্ববিরোধের জেরে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে আবু তাহের ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে মিনারার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। এ সময় চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে মিনারাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে মৃত অবস্থায় মিনারাকে উদ্ধার করে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মারধরের কাজে ব্যবহৃত শিলপাটা জব্দ করা হয়। এসময় ঘটনাস্থলে জনতার হাতে আটক স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।’

উখিয়ার থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মিরসরাইয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর উদ্ধার, বনে অবমুক্ত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৃষিজমির চারপাশে দেওয়া জালে আটকা পড়া ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় সাপটি উদ্ধার করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সদস্যরা। পরে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন বাওয়াছড়া লেকসংলগ্ন গভীর জঙ্গলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ডাকঘর এলাকায় কৃষিজমির চারপাশে দেওয়া জালে অজগর সাপ আটকে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের খবর দেন। সংবাদ পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সদস্য নাইমুল ইসলাম নিলয় জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অক্ষত অবস্থায় অজগরটি উদ্ধার করা হয়। সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৫ কেজি। পরে বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন বাওয়াছড়া লেক এলাকার গভীর জঙ্গলে সাপটি অবমুক্ত করা হয়।

বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা অরুণ রায় বলেন, ‘উদ্ধারকারী দলের সদস্য নাইমুল ইসলাম নিলয় একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে বনাঞ্চল ছেড়ে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করছি।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুরের ২০ স্থানে একযোগে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুরের ২০ স্থানে একযোগে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুর জেলার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। নগরীর কাচারী বাজারে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়ে বাস্তবায়ন কাজ শুরুর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে নদীটির যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় এর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকটের মতো নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে।

গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীশাসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।’

রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’

গঙ্গাচড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। উত্তরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। নদীভাঙন, বন্যা, পানিসংকট ও কৃষি ক্ষতির স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বক্তারা আরো বলেন, বর্ষাকালে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

তাদের দাবি, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কাচারী বাজার ছাড়াও রংপুর প্রেসক্লাব, লালবাগ মোড়, ডিসি মোড়, কাউনিয়া তিস্তা সেতু এলাকা, মহিপুর তিস্তা সেতু, বুড়িরহাট বাজারসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সমিতির টাকা নিয়ে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ | কালের কণ্ঠ