জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।
আহত আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।
কালাই থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।