• ই-পেপার

বৃষ্টির অপেক্ষায় উপকূলবাসী এখন 'চাতক পাখি'

সাদাপাথরে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, সিলেট
সাদাপাথরে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশের (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধলাই নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা সেটি উদ্ধার করে কূলে নিয়ে আসেন। পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদাপাথরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় ধলাই নদীর উৎসমুখে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন সুব্রত সাহা বিকাশ। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা এবং মিহির লাল সাহার ছেলে। তিন বন্ধুর সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেট ভ্রমণে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

প্রধান শিক্ষকের মাতলামির ভিডিও ভাইরাল, সাংবাদিকদের কুপ্রস্তাবের পর শোকজ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রধান শিক্ষকের মাতলামির ভিডিও ভাইরাল, সাংবাদিকদের কুপ্রস্তাবের পর শোকজ
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে নিজকক্ষে বসে প্রধান শিক্ষকের মদ্যপান ও মাতলামি করার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন নিজকক্ষে নিজের চেয়ারে বসে মাতলামি করছেন। বিদ্যালয়ে তখন এইচএসসির ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হন। তাদের দেখে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘মদ আমি দীর্ঘদিন ধরেই খাই। কোনো মাদা...., হয়তো আপনাদের খবর দিছে। আপনাদের কাছে মাফও চাই, দোয়াও চাই, আপনারা বসেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজে দৌলতদিয়ায় যাই। আপনাদের সবাইকে দৌলতদিয়া নিয়ে যেতে চাই। এজন্য দেড় লাখ টাকা বাজেট করব। কে কে যেতে রাজী আছেন বলেন’? একপর্যায়ে নিজের চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে এক সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে সব কিছু ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেন এই প্রধান শিক্ষক। এর পর সংবাদ পেয়ে তার স্বজনরা এসে তাকে টেনেহিচঁড়ে ও ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাড়িতে নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসব কিছু দেখলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘রুহুল আমিন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের পাশেই তাদের বাড়ি। দীর্ঘদিন থেকে তিনি নিজকক্ষে নিচের চেয়ারে বসে মদপান করে চিৎকার চেঁচামেচি ও মাতলামি করে আসছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে ভয় পায়। যে কারণে কেউ কিছু বলার বা কোথাও অভিযোগ করার সাহসও পায় না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন জগন্যতম অপকর্মের শাস্তি হওয়া উচিত।’

এদিকে, স্বনামধন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বসেই মদ্যপান করায় হতভম্ব অভিভাবক এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং শিক্ষার মান বাড়াতে ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল বলেন, ‘মানুষিক অশান্তির জন্য মদ খেয়েছিলাম। ওই সময় মাথা ঠিক ছিল না, মদ্যপ অবস্থায় কি বলেছি এবং কি করেছি মনে নেই। তবে মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে ঠোকা ঠিক হয়নি, অন্যায় হয়েছে।’

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়ায় নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের মদ্যপ অবস্থার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম সেখ তাকে শোকজ করেছেন। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’

ভালুকা

বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
বাবা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় হাফিজুল (৩১) ও তার শিশুপুত্র ইব্রাহীমকে (১১) অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাফিজুলের ছোট ভাই মো. মিলন ফকির বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।  

অপহৃত হাফিজুল পিরোজপুর ইন্দুরকান্দি থানার চর বলেশ্বর গ্রামের আবদুল জলিল ফকিরের ছেলে। তিনি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আমতলী এলাকার কবির হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। তিনি ও তার স্ত্রী পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্যের জের ধরে গত ২৩ জুন দুপুরে হাফিজুল তার ১১ বছর বয়সী শিশুপুত্র ইব্রাহিমকে সঙ্গে নিয়ে বাসার মালামালসহ গাড়িতে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বিষয়টি তার স্ত্রীর বড় বোন শাহিনা বেগম মোবাইলে হাফিজুলের পরিবারকে জানায়। এর পর থেকে হাফিজুলের মোবাইল বন্ধ ছিল। 

পরে রাত ৯টার দিকে হাফিজুলের মোবাইল থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়, হাফিজুলকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখা হয়েছে। অন্য আরেকটি নম্বর থেকে ফোন করে তার মুক্তি বাবদ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হাফিজুলকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হাফিজুলের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম জানান, মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকার জন্য বারবার ফোন করছে এবং টাকার জন্য হাফিজুলকে মারধরও করছে।

ভালুকা মডেল থানায় এসআই সোহেল রানা জানান, ওই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিকটিম উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। 
 

ভিডিও কলে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ভিডিও কলে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি
চুরির পর ভিডিও কলে মোটরসাইকেল দেখাচ্ছে চোর। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল ইমু ভিডিও কলে দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে একটি চোর চক্র। অভিনব এই ঘটনার শিকার হয়েছেন মো. মনিরুল ইসলাম নাঈম (২৪) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনো মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার ভাটিসাভার গ্রামের মো. খোকন মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম নাঈম দুই দিন আগে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৮ হাজার টাকায় একটি ব্যবহৃত টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল কেনেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে তিনি বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলটি রেখে পাশের বাড়ির একটি জানাজার নামাজে অংশ নিতে যান। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এর কোনো সন্ধান পাননি।

ভুক্তভোগী নাঈম জানান, মোটরসাইকেল চুরির কয়েক ঘণ্টা পর তার মামার ইমু নম্বরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ৫০ হাজার টাকা দিলে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়া হবে।

প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস না করলে চোর চক্রটি ইমুতে ভিডিও কল দেয়। ভিডিও কলে একটি শোরুমসদৃশ স্থানে রাখা মোটরসাইকেলটি দেখানো হয়। নাঈমের দাবি, ভিডিওতে দেখা মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট তার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলের নম্বরের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

এরপর তিনি কোথায় এবং কিভাবে টাকা দিলে মোটরসাইকেলটি ফেরত পাবেন জানতে চাইলে চোর চক্র জানায়, পরে সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো যোগাযোগ না করে তারা নীরব হয়ে যায়। পরে নাঈম মেসেঞ্জারে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জবাবে লেখা হয়, ‘সমস্যা নেই, গাড়ি পাবেন; আগে একটু ঘুমিয়ে নিই।’

এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার মোটরসাইকেল ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং জড়িত চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

বৃষ্টির অপেক্ষায় উপকূলবাসী এখন 'চাতক পাখি' | কালের কণ্ঠ