• ই-পেপার

পাশের রুমে বাবা-মাকে রেখে কিশোরীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝটিকা মিছিল, আটক ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝটিকা মিছিল, আটক ২
ছবি : কালের কণ্ঠ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা-নগরকান্দা সীমান্তে ঝটিকা মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দিনভর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।

আজ সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী শুয়াদি এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার নগরকান্দা সীমান্তে মিছিলটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। 

স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর তাদের মারধর করা হলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আটক দুজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা মিছিলে অংশ নিয়েছিল এবং আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ফরিদপুর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুর পৌরশহর, ভাঙ্গা, মধুখালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেহকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো পক্ষ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জেলার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখা গেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিশুদ্ধ হওয়া ছাড়া আ. লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই : মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
পরিশুদ্ধ হওয়া ছাড়া আ. লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই : মীর হেলাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিশুদ্ধ হওয়া ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।  

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ যারাই জড়িত, সবাইকে বিচারের আওতায় আসতে হবে। জুলাই গণহত্যার জন্য তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বিচারের মধ্য দিয়ে তাদের পরিশুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে রাজনীতি করা অধিকার নেই।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে মীর হেলাল বলেন, ‘শুধু আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ সংগঠন নয়, যারা আমাদের রাজপথে অভ্যুত্থানের ভয় দেখায়, তারা ভুলে গেছে ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের লাশের ওপর দিয়ে এই নির্বাচন হয়েছে। তারেক রহমান জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন ও জীবনমান উন্নত করতে চান। তাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ফেলার ক্ষমতা মহান রাব্বুল আলামিন ছাড়া কারো নেই।’ 

বাজেট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা জনমুখী বাজেট। প্রত্যেকটি নিত্যপণ্যের দাম কমানো হয়েছে। হার্টের রোগীদের জন্য রিংয়ের দাম কমানো হয়েছে, ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে।’ 

মীর হেলাল আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দর্শন হচ্ছে দেশপ্রেমিক জনতা নিয়ে একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া।’ এই কর্মসূচি পালনের যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সেটি খেয়াল রাখার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মোংলায় জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় আহত ৭

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় আহত ৭
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের মোংলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় সাতজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের দত্তেরমেঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দত্তেরমেঠ এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মণ্ডল (৬৫) ও তার প্রতিবেশী লুৎফর ফকিরের (৫৫) মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের জমি মাপজোকের কাজ শুরু হয়। এ সময় জমি মাপার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, জমি মাপজোক চলাকালে একপর্যায়ে লুৎফর ফকির তার সমর্থকদের নিয়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা হাতে সন্দীপ মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে সন্দীপ মণ্ডলসহ গোপাল চন্দ (৪২), মনোজিত মণ্ডল (৪২), শিপু মণ্ডল (২৪), রিম্পা মণ্ডল (২২), নিপু মণ্ডল (৩৪) ও কল্পনা মণ্ডল (৫৫) গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হামলাকারী হিসেবে লুৎফর ফকির (৫৫), রজব আলী (৭০) ও ফাহাদ (২৮)-এর নাম উল্লেখ করে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-স্বর্ণালংকার হাতিয়ে গ্রেপ্তার ৩ তরুণ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-স্বর্ণালংকার হাতিয়ে গ্রেপ্তার ৩ তরুণ
প্রতীকী ছবি

মুন্সীগঞ্জে এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তিন সদস্যের একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নগরপাড়া গ্রামের শাহীনের ছেলে ফেরদৌস আলম হামিম (১৯), মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার গজারকান্দি এলাকার ফারুখ সরকার লিটনের ছেলে মো. হোসেন শাওন তাজ সরকার বাবু (২০) এবং মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া এলাকার মৃত গবিন্দ মুখার্জীর ছেলে সুধাংশ মুখার্জী (৪৬)।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, প্রায় এক বছর আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা ফেরদৌস আলম হামিমের (১৯) ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে হামিম ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করতে থাকে। টাকা জোগাড় করতে না পেরে কিশোরী পরিবারের গচ্ছিত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে হামিমকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠায়। পরে আরো অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সে স্বর্ণ বিক্রির উদ্যোগ নেয়।

তিনি জানান, এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত হওয়া মো. হোসেন শাওন তাজ সরকার বাবু (২০) কিশোরীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করেন। পরে তিনি এসব স্বর্ণ মুন্সীগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশ মুখার্জীর (৪৬) কাছে বিক্রি করেন।  

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল অভিযান চালায়। গতকাল বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট এলাকা থেকে শাওন তাজ সরকার বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশ মুখার্জীকে তার দোকান থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বর্ণ গলিয়ে অন্য জায়গায় বিক্রি করেছেন বলে জানান। পরে একই দিন রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকা থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত ফেরদৌস আলম হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার মূল অভিযুক্ত ফেরদৌস আলম হামিমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করেছে। এসব ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাশের রুমে বাবা-মাকে রেখে কিশোরীর আত্মহত্যা | কালের কণ্ঠ