• ই-পেপার

চকরিয়ায় বর্বরতা: রহস্য খুঁজতে কাজ করছে তদন্তদল

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১ লাখ ৬১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১ লাখ ৬১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) প্রধানঝিরি এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হলে একদল চোরাকারবারি মায়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ইয়াবার কার্টন ফেলে জঙ্গলের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬টি কার্টনে রাখা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।

সেনবাগে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
সেনবাগে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ভাড়া বাসা থেকে ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৪২) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সেনবাগ পূর্ব বাজার এলাকার সামছু মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঋণ ও প্রতারণার কারণে পিন্টু পাশের ফেনী জেলা থেকে এখানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ফেনীর পশুরাম উপজেলার গুতমা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিন্টু নিজের গ্রামের এলাকার মানুষের থেকে ঋণ ও প্রতারণা করে বেশকিছু অর্থ হাতিয়ে নেন। যে কারণে নিজেকে আড়াল করতে গত ১৫ জুন ফেনী থেকে গোপনে পালিয়ে এসে সেনবাগ পূর্ব বাজার এলাকায় সামছু মিয়ার একটি বাসা ভাড়া নেন। দুইদিন পর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন। বাসার মালিক তার পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে পরে দেবেন বলে জানালেও আর জমা দেননি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বাসার পাশের একটি হোটেলে খাবার খেয়ে বাসায় ফিরে আসেন। পরে রাত ১০টার দিকে দিকে বাসার মালিক ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

কমলগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক বৃদ্ধ

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, মৌলভীবাজার
কমলগঞ্জে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক বৃদ্ধ
প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে দোকানঘরের ভেতর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত চান মিয়াকে (৬৫) আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে নির্যাতিত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মইদাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের রশিদ মিয়ার দোকানের কর্মচারী চান মিয়া দোকানের ভেতরে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত চান মিয়া কৌশলে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালে কমলগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিন, এস আই মিঠু রায় ও এএসআই হামিদুর রহমানের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চান মিয়াকে উপজেলার মুন্সিবাজার থেকে আটক করা হয়।

শিশুর বাবা মানিক মিয়া জানান, আমার শিশুর সঙ্গে যা হয়েছে, আমি তার বিচার চাই। এমন বিচার চাই যাতে এটা দেখে কেউ আর এসব করতে সাহস না পায়। তিনি বলেন, আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পরপরই আমাদের টিম অভিযানে নামে এবং রাত ১০টার দিকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

বাবা-দাদার পর মৃত্যুর কাছে হার মানল ৭ বছরের বন্ধন

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
বাবা-দাদার পর মৃত্যুর কাছে হার মানল ৭ বছরের বন্ধন
বাঁ থেকে নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ও নাতি বন্ধন চন্দ্র রায়। সংগৃহীত ছবি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও দাদাকে হারানোর পর হাসপাতালের এনআইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিল ৭ বছর বয়সী বন্ধন চন্দ্র রায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো গেল না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় উপজেলার বড়বিল মন্থনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বন্ধনের মৃত্যুতে এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩ জনে।

এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন বন্ধনের বাবা প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান তার দাদা নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫)। নিহতরা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের বাসিন্দা। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলে করে তুলশীহাটে একটি দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রশান্ত চন্দ্র রায় নিহত হন। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র রায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আর গুরুতর আহত বন্ধনকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেও মৃত্যুর কাছে হার মানল।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

চকরিয়ায় বর্বরতা: রহস্য খুঁজতে কাজ করছে তদন্তদল | কালের কণ্ঠ