• ই-পেপার

বাস ও প্রাইভেটকার সংঘর্ষ

স্ত্রী-তিন সন্তানসহ ব্র্যাক কর্মকর্তা নিহত

পিরোজপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

আঞ্চলিক (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি শনিবার (২০ জুন) শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়।

‎‎ভুক্তভোগী ওই শিশুর মা জানান, শিশুটিকে ডেকে একটি খালি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত কিশোর। সেখানে তার সঙ্গে থাকা আরেকজন বাইরে পাহারা দেয়। শুক্রবার রাতে মেয়ে অসুস্থ বোধ করলে তাকে আগের দিনের ঘটনা জানায়। ওই কিশোর শিশুটিকে এ ঘটনা বাবা-মাকে বললে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপর শনিবার সকালে তাকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার পিরোজপুর হাসপাতালে পাঠান।

‎‎পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে এম আসিফ আহমেদ জানান, নাজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আসা পাঁচ বছরের শিশুটিকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সঠিক তথ্য দেওয়া যাবে।  

‎নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের বিষয়টি মৌখিকভাবে অভিযোগ এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আশুলিয়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় এক কিশোরীকে (১৬) ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তাকারী আরেক অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রবিবার (২১ জুন) সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন সিফাতের ভাড়াবাসায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে লীলা চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. জয়নালের ছেলে সিফাত (১৮), ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার চাপখণ্ড এলাকার মো. মোবারক শেখের ছেলে মো. মমিন শেখ (১৮), সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা থানার রাউলী এলাকার মো. দেলোয়ার শেখের ছেলে মো. সুমন শেখ (১৮)। এ ছাড়া পলাতক অভিযুক্ত হলেন মো. জাকির হোসেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও অন্য আসামিদের মোবাইল ফোন নিজের হেফাজতে নিয়ে তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। 

থানা​ পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী কিশোরীকে জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে সিফাতের ভাড়াবাসায় ডেকে নিয়ে যান মমিন। সেখানে সিফাত, মমিন ও সুমন মিলে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন।

আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর মোবাইল ফোন ও তথ্য-প্রমাণ লুকিয়ে পালিয়ে যাওয়া অপর অভিযুক্ত জাকির। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উঠানে বাবার লাশ, সম্পত্তির জন্য সন্তানদের সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক
উঠানে বাবার লাশ, সম্পত্তির জন্য সন্তানদের সংঘর্ষ
সংগৃহীত ছবি

সম্পত্তির জন্য ভোলার চরফ্যাশনে এক ব্যক্তির লাশ দাফন নিয়ে তার চার স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পাহারায় লাশ দাফন করা হয়। 

গতকাল শনিবার (২০ জুন) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল জলিল পণ্ডিত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল পণ্ডিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের চার স্ত্রীর ছেলেমেয়েরা বাড়িতে এসে তাদের ওয়ারিশ ও পাওনা সম্পত্তির হিসাব দাবি করেন।

এ সময় জলিল পণ্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর ঘরের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্মৃতি দাবি করেন, তার বাবার কোনো সম্পত্তি নেই এবং অন্য কেউ কোনো অংশ পাবে না। এই নিয়ে তাদের প্রথম দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

মৃত জলিল পণ্ডিতের চতুর্থ স্ত্রীর প্রাক্তন জামাতা খোকন অভিযোগ তোলেন যে, তার উপার্জিত সমস্ত টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুর ও স্ত্রী স্মৃতির কাছে গচ্ছিত ছিল, যা দিয়ে দুটি বসতঘর ও জমি কেনা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। তার সম্পদ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা তাকে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।

​পরে লাশ দাফনের সময় পুনরায় দুইপক্ষের মাঝে বিরোধ বাধে। বড় তিন স্ত্রীর সন্তানদের দাবি—বাবা জীবিত থাকাকালীন ঘরের সামনে দাফন করার অসিয়ত করে গেছেন। অপর দিকে, চতুর্থ স্ত্রীর মেয়ে স্মৃতি দাবি করেন—লাশ বাড়ির বাইরে অন্য কোনো কবরস্থানে দাফন করতে হবে। এই নিয়ে দুইপক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হলে খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশি পাহারায় বসতঘরের সামনেই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। 

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নড়াইলে

প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে ঘুস দাবির অভিযোগ পিআইও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নড়াইল সংবাদদাতা
প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে ঘুস দাবির অভিযোগ পিআইও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

নড়াইল কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে টিআর প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়ের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৮ জুন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখত অভিযোগ দিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. আ. কাদের সিকদার। 

অভিযোগকারী মো. আ. কাদের সিকদার নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি এলাকার বাসিন্দা।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি মারকায ছওতুল কোরআন ও নড়াগাতি মহিলা মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসা দুটির পরিচালক হাফেজ রহমাতুল্লাহ। মাদরাসা দুটির জন্য টিআর প্রকল্প বরাদ্দ আনা হয়৷ প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থে মাদরাসার নির্মাণকাজ ও মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলাকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার কাছে অফিস খরচের বাইরে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। একই সঙ্গে ওই অগ্রিম টাকা পরিশোধ না করলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় করা হবে না বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। 

অভিযোগকারীর দাবি, ঘুস দাবির ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষণ রয়েছে। ভিডিওটি দেখে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কালিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ছয় লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প তাকে দেওয়া হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে ৩ লাখ টাকা সে উত্তোলন করেছেন, কিন্তু কোনো কাজ করেনি। পরে সে আমাকে অনুরোধ করেন প্রকল্পের টাকা ছেড়ে দিতে। আমি একটি প্রকল্পের টাকা ছেড়ে দিয়েছি। বাকি দুইটা প্রকল্পের কাজ এখনো করেনি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ২২ জুন পর্যন্ত। আমরা সরকারি চাকরি করি, আমাদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। সেই জায়গা থেকে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি যে এক লাখ টাকা নিচ্ছেন, কাজ কেন করেননি। তখন তিনি বলেন, আপনার টাকা আমি ফেরত দিয়ে দেব। পরে তিনি অফিসে এলে আমি জানতে চেয়েছিলাম, টাকা এনেছেন কি না। ভিডিওতে আগের-পরের নানা কথা বাদ দিয়ে এখন তিনি দাবি করছেন, তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুস চাওয়া হয়েছিল। আমি তার কাছে কোনো ঘুস দাবি করিনি।’

এ বিষয়ে জানতে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ বি এম মনোয়ারুল আলম বলেন, ‘কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।  ভিডিওটি আমি দেখিনি। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
 

স্ত্রী-তিন সন্তানসহ ব্র্যাক কর্মকর্তা নিহত | কালের কণ্ঠ