বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এক নারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) স্বাক্ষরিত ওই পত্রে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরীকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসিড হামলার শিকার ফাতিমা জমাদ্দার অর্পা নামের এক নারী গত ২০ মে আদালতের নির্দেশে পাথরঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৯ মে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর এসিড নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
ফাতিমা জমাদ্দারের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনকে গত বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘুষের বিনিময়ে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানতে গত বৃহস্পতিবার সকালে থানায় যাওয়ার পথে তাঁর ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় ওসির কক্ষে প্রবেশের পর ওসি তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি সেই মাল? ইবলিশ যেন কোথাকার।’ এছাড়া তাঁর সঙ্গে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এতে তিনি অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু। তিনি দাবি করেন, তাঁর সামনেই ওসি ভুক্তভোগী নারীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণে উপস্থিত সবাই বিব্রত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে এ ঘটনার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসি মো. এনামুল হকের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’





