• ই-পেপার

বড়াইগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে চালক নিহত

কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ রতন আলী (৪০) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে শহরের কলেজপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক রতন আলী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শহরের কলেজপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় রতন আলীকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে তার দেহ তল্লাশি করা হলে ১৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের কারবার কিংবা এর সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। 

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ধানবোঝাই ভ্যানকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কালাইয়ে আহত নারীসহ ১১

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
ধানবোঝাই ভ্যানকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কালাইয়ে আহত নারীসহ ১১
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।

আহত আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

কালাই থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জে ৯৬ বোতল ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে ৯৬ বোতল ভারতীয় মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ৯৬ বোতল মদসহ সালমান ফকির (২৮) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের গামাইরতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সালমান ফকির উপজেলার গামাইরতলা গ্রামের মো. আব্বাস আলীর ছেলে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধনপুর ইউনিয়নের গামাইরতলা এলাকার একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার উদ্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছে বলে খবর পায় র‍্যাব। পরে র‍্যাব-৯ এর একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরে তার হেফাজতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ৯৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সালমান ফকির জানান, তিনি এবং পলাতক সহযোগী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন।

র‍্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার  ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে এবং জব্দ করা আলামত বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‍্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

‘আমি আরিশাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন’

অনলাইন ডেস্ক
‘আমি আরিশাকে পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন’

গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের এক শিশুকে পানিভর্তি বালতিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত এক কিশোরী নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এসে ইসরাত জাহান শীম (১৪) নামের এক কিশোরী ডিউটি অফিসারের কাছে দাবি করে, ‘আমি শিশু আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসরাত জাহান শীম কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার রাজপাড়া গ্রামের আবু কালামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
 
থানার ডিউটি অফিসার জোনাকি তাকে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে শীম জানায়, তার মা ছোট্ট আরিশাকে বেশি আদর করতেন। এ ছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। এর বাইরে নিহত শিশু কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও দাবি করে সে।
 
শীমের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমি ঘরের ভেতরে ছিলাম। বাইরে এসে দেখি আরিশা টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে একটি খালি বালতি ছিল। পরে আমি বালতিটি পানি দিয়ে ভরে তাকে পা ধরে উল্টো করে প্রায় পাঁচ মিনিট পানিতে চুবিয়ে রাখি।’
 
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
 
নিহত আরিশা আক্তার (২) রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা আকাশ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

আরিশার মা জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্বামী ঘরে বসে স্বামীর চাকরি নিয়ে সমস্যা হওয়া একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে টিউবওয়েলের পাশে থাকা একটি বালতির মধ্যে শিশুটিকে দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মেয়েটি হয়তো গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে পুলিশ এসে জানায়, বাড়িওয়ালার মেয়ে থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।’
 
শিশুটির বাবা আকাশ শেখ বলেন, আমি কিছু সময়ের জন্য কারখানায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার মেয়ে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে একসঙ্গে খেলছে। এমনকি সে আমার মেয়েকে টোস্ট বিস্কুটও খেতে দিয়েছিল। পরে ঘরে চলে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা পর মেয়েকে আনতে বললে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বালতির ভেতরে তাকে পাওয়া যায়।
 
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইমরান হোসেন জানান, দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।
 
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত কিশোরীর বক্তব্যসহ সব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।