লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিশারী জামে মসজিদ থেকে তহসিলদার বাড়ি পর্যন্ত ‘মুক্তিযোদ্ধো সায়েদুলহক সড়ক’ নামের এক কিলোমিটার রাস্তাটি ২৬ বছরেও পাকা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
জানা যায়, ২০০০ সালে রামগতি পৌরসভা গঠিত হলে রাস্তাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চলে যায়। এর আগে এটি রামগতি উপজেলার আওতাধীন ছিল। ১৯৯০ সালের দিকে রাস্তাটি প্রথমে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে চলাচলের জন্য নির্মাণ করেন। পরে এটি পৌরসভার রাস্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরেও রাস্তাটি পাকা করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধি আসছে আর গেছে, কিন্তু কেউই এ রাস্তার দিকে নজর না দেওয়ায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।
তবে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সায়েদুলহক সড়কসহ মোট ৫টি রাস্তা নিয়ে একটি প্যাকেজ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে প্যাকেজটি অনুমোদন হয়। বর্তমান ওই প্যাকেজের কাজটি চলমান রয়েছে। অল্পসময়ের মধ্যে ওই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আলেকজান্ডার আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম নয়ম বলেন, ‘যখন উপজেলার আওতাধীন ছিল, তখনও পাকা করার কোন উদ্যোগ নওয়া হয়নি। এর পর পৌরসভা গঠিত হলেও কেউ জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির দিকে নজর দেয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও কাজ হয়নি। তাই রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পৌরসভার রাস্তার এমন অবস্থা হলে গ্রামের রাস্তা কেমন হবে? তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা।’
এ বিষয়ে রামগতি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফখরুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘রাস্তাটি পাকা করণের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
রামগতি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন কাজ শুরু হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হবে।’
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।’





