kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যাবজীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৭ মামলার আসামি

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কালা জন্টু

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কালা জন্টু

বাঁশখালীর বাহারচড়া ইউনিয়নের পূর্ব ইলশা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মিয়ার পুত্র শীর্ষ সন্ত্রাসী জয়নাল আবেদীন প্রকাশ কালা ঝন্টু। ওয়ারেন্টভুক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৭ মামলার ভয়ংকর এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ইলশা গ্রামের বাসিন্দারা গত ৭ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। 

বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও বিভিন্ন থানার মামলার রেকর্ড অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা জন্টুর বিরুদ্ধে বাঁশখালী, চান্দগাঁও, কর্ণফুলি, সাতকানিয়া ও আনোয়ারা থানায় ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, শতাধিক গুলি ছুড়ে সশস্ত্র দাঙ্গা-হাঙ্গামা, প্রতারণা, বনের গাছ কর্তন, আগ্নেয়াস্ত্র রাখা, ইয়াবা সেবন ও পাচারসহ নানা অপরাধে ১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণ, বন মামলা ও চেক প্রতারণা মামলায় পৃথক পৃথকভাবে যাবজ্জীবন সাজা ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, ৪টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে, অস্ত্র মামলায় ১ নম্বর আসামি হলেও জামিন নেননি, প্রকাশ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা মামলায় শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি মামলায়ও ১ নম্বর আসামি হয়েও জামিনে নেই। 

এভাবে ভয়ংকর ১৭টি মামলার আসামি হলেও প্রকাশ্যে ঘুরছেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জয়নাল আবেদীন প্রকাশ জন্টু। ওইসব মামলায় গত ১৮ মে তার দুর্ধর্ষ সহযোগী ডাকাত হারুনুর রশিদ, ডাকাত দিদার, ডাকাত জামাল উদ্দিন, আব্দুর রহমান ওরফে দানু নামের চারজন ২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকলেও কালা জন্টুকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রকাশ্যে বনের কাঠ কেটে বাঁশখালীর ইলশা গ্রামে লাইসেন্সবিহীন বিএম নামের ব্রিক ফিল্ড ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এক মামলার তদন্ত বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. রফিকুল হাসান বলেন, পেনাল কোড ধারায় আব্দুর রহমান ওরফে দানু নামের আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত আসামি স্বীকারোক্তি দেন যে, সশস্ত্র দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় তাদেরকে মামলার ১ নম্বর আসামি জয়নাল আবেদীন ওরফে কালা জন্টু অস্ত্র সরবরাহ করেন। তার কাছে একাধিক অস্ত্র আছে। আমি গত ১ সেপ্টেম্বর এসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত ১৭টি মামলার আসামি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা জন্টুর প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় আমরা আতঙ্কে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছি।

ধর্ষণ মামলার বাদী বলেন, আমার মামলায় জয়নাল আবেদীন ওরফে কালা জন্টুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হলেও প্রকাশ্যে সে ঘুরছে। বাঁশখালীর ইলশা গ্রামে লাইসেন্সবিহীন বিএম নামের ব্রিক ফিল্ড ব্যবসা করছেন। নানাভাবে আমাকে হত্যার জন্য আসামিরা ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই তাকে গ্রেপ্তার করে আমার প্রাণ রক্ষার জন্য। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী, চান্দগাঁও, কর্ণফুলী ও সাতকানিয়া থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে।

বাঁশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত কিংবা পলাতক আসামির প্রকাশ্যে ঘোরার কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ যেকোনো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হবে।

অভিযুক্ত কালা জন্টু বলেন, আমার মামলাগুলো ষড়যন্ত্রমূলক। আমি কিছু মামলায় জামিনে আছি কিছু মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। সবক'টি মামলায় জামিন নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে কাউকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছি না। ওইসব অভিযোগও ষড়যন্ত্রমূলক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা