kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আমতলীতেও জনপ্রিয় হচ্ছে পাচিং পদ্ধতি

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমতলীতেও জনপ্রিয় হচ্ছে পাচিং পদ্ধতি

বরগুনার আমতলীতে আমন ক্ষেতের পোকা দমনে কৃষকরা পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। কৃষকের কাছে পদ্ধতিটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমতলীর প্রায় ৭৫ ভাগ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৫ শ হেক্টর। আর ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় হলো ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পাচিং পদ্ধতি, ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহার করছে। তবে এর মধ্যে পাচিং পদ্ধতিটা কৃষিবান্ধব পদ্ধতি। এটি দিনদিন কৃষকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে একরপ্রতি ক্ষেতে ৯/১০ বাঁশের কাঠি ও বিভিন্ন গাছের ডাল (খুঁটি) পুঁতে দিতে হয়। এই ডালে (খুঁটি) ওপর বিভিন্ন পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করায় ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার কম ও আর্থিকভাবে লাভবান হয় কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান ক্ষেত ঘুরে দেখাগেছে, কৃষকরা ধানক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কাঠি ও বিভিন্ন গাছের ডাল (খুঁটি) পুঁতে রেখেছে। এসব ডালে (খুঁটি) ওপর দোয়েল, ফিঙ্গে, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। এ সকল পাখি ধানক্ষেতের পোকা খেয়ে ফেলছে।

চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের কৃষক মো. শানু মিয়া জানান, ধানক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। কুকুয়া গ্রামের কৃষক আলমগীর গাজী বলেন, ধানক্ষেতে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি। আমি ক্ষেতের মধ্যে অনেকগুলো গাছের ডাল পুঁতে রেখেছি। এসব ডালে পাখি বসে ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে।

গুলিশাখালী গ্রামের কৃষক জাফর মোল্লা জানান, ক্ষতিকারক পোকার হাত থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষায় গুলিশাখালী গ্রামের অধিকাংশ কৃষক পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। হলদিয়া গ্রামের কৃষক আবুসালেহ জানান, পাচিং পদ্ধতি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। বিনা খরচে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা যেমন পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষা করছে তেমনি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, উপজেলায় প্রায় ৭৫ ভাগ কৃষক ধানক্ষেতে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। বাকি কৃষকদেরও এ পদ্ধতিতে আনার চেষ্টা করছি। পাচিং একটি কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। কোনো খরচ ছাড়াই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা