• ই-পেপার

ছয়টি বাড়িতে \'মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি\' লিখে দিল বিজিবি

বাঁশের সাঁকোই হলো কাল, খালে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বাঁশের সাঁকোই হলো কাল, খালে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে খালে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ৭ বছরের শিশু মো. সজীবের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুরা পশ্চিমপাড়া শ্মশানখলা খালে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মো. সজীব উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের পূর্ব উত্তরপাড়া এলাকার ওজাকাজীর বাড়ির বাসিন্দা মো. শরীফ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে একটি মামলা-সংক্রান্ত কাজে সজীবের বাবা কুমিল্লা আদালতে যান। একই সময়ে অসুস্থ হয়ে সজীবের মা রোজিনা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা সজীবকে পাশের বেজুরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় তার ফুফুর বাড়িতে রেখে যান।

সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সজীব ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে রাস্তায় যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে যায়। ঘটনাটি প্রথমে কেউ টের পাননি। পরে হাসপাতাল থেকে ফিরে দাদি সজীবকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খালের পানিতে সজীবের একটি জুতা ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়রা খালে নেমে দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বুড়িচং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর ১টার দিকে সাঁকো থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে খালের পানির নিচ থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা রোজিনা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সন্তানের নিথর দেহ দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা আতাউর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ প্রধান শিক্ষক, গণপিটুনি

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ প্রধান শিক্ষক, গণপিটুনি
মো. মুক্তল হোসেন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক প্রধান শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখেন। পরে কিছু ছেলে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে সটকে পড়ে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৯টায় উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. মুক্তল হোসেন (৫০)। তিনি মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বনকোট গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

সংবাদ পেয়ে রাত ১২টার পর দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এসে শোনেন চিকিৎসার জন‍্য স্থানীয় কিছু ছেলে মুক্তল হোসেনকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে হাসপাতালে তাকে আনা হয়নি।

রাত ১টায় দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেন নিখোঁজ। তাকে খুঁজতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে।

ইউপি সদস‍্য মো. জাকির হোসেন মোল্লা, শিউলি আক্তারসহ স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঊজানীজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩০) তার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পাশের গ্রামের মোল্লা বাড়ির জলিল মোল্লার ঘরে ভাড়ায় থাকেন। তিনি উজানীজোড়া আদর্শ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

স্থানীয়দের দাবি, এরই মধ‍্যে উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেন ওই নারীর ঘরে প্রায়ই রাতে আসা-যাওয়া করতেন। স্থানীয়রা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পাহারা বসান। পরে মঙ্গলবার রাতে ওই প্রধান শিক্ষক ঘরে ঢুকলে বাড়ির নারীরা এসে খোঁজ নেন। প্রবাসীর স্ত্রী ঘরের গেট বন্ধ করে ঘরে কেউ নেই বলে জানান। পরে গ্রামবাসী ঘরটি ঘিরে রাখলে শিক্ষক মুক্তল পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন।

এ ব‍্যাপারে ওসি মো. মনিরুজ্জামান একটি অজ্ঞাত ফোনের বরাত দিয়ে জানান, রাতে এক ব‍্যক্তি ফোনে জানিয়েছেন, ওই নারীর প্রবাসী স্বামী বলেছেন, শিক্ষক মুক্তলকে পারিবারিক একটি বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। বাসায় আসার পর কিছু ছেলে সিনক্রিয়েট করে এ জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, অভিযুক্ত মুক্তল হোসেনকে না পাওয়া পর্যন্ত এবং ঘটনার তদন্তের আগে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

উল্লেখ‍্য, গত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে দিনভর একটি সংঘবদ্ধচক্র বিদ্যালয়ে ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর দিন ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগে থানায় মামলা করলে মুক্তল হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের একটি বন্দুক খোয়া গেলেও পরে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে ওই শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাবে প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল থাকেন।

আজ রাত ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সন্ধান পায়নি পুলিশ।

মিয়ানমার পাচারের পথে ১০০ বস্তা সার জব্দ, বিজিবির হাতে আটক ২

বিসিআইসির আমদানি করা সার চট্টগ্রাম থেকে রাখাইনে পাচার অব্যাহত

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও রামু প্রতিনিধি
মিয়ানমার পাচারের পথে ১০০ বস্তা সার জব্দ, বিজিবির হাতে আটক ২

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচারের জন্য সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের একটি চালানসহ ২ পাচারকারিকে আটক করেছে। বিসিআইসির আমদানি করা এ পরিমাণ সারের চালান চট্টগ্রাম থেকে রাখাইনে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানির এত বড় সারের চালানের নেপথ্যে সীমান্তের পাচারকারি সিন্ডিকেট ছাড়াও কৃষি বিভাগ ও বিসিআইসির কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। 

কক্সবাজারের বিজিবি রামু-৩০ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে বিজিবি সদস্যরা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে সার বোঝাই একটি মিনি ট্রাক আটক করে। পরবর্তীতে রামু ও উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদ্বয়ের উপস্থিতিতে মিনি ট্রাক থেকে ১০০ বস্তা সারসহ দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারের সরকারি মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। আটকদের একজনের নাম মোহাম্মদ জাহেদ (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা ও অপরজন মিনি ট্রাকের চালক নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা সৈয়দ করিম (২৮)। এ ব্যাপারে রামু থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহেদ আলম জানিয়েছেন, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সার ও ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেট রাখাইনে পাচার করার জন্য সারের চালানটি নিয়ে যাচ্ছিল আনজুমান সীমান্তে। রামু উপজেলা সদরের ফতেখারকুল ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স রামু স্টোরের মালিকানাধীন গুদাম থেকে সারের বস্তাগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সীমান্ত এলাকায়। আটক সারের পাচারকারি সিন্ডিকেট এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত হয়নি। তবে পাচারকারি সিন্ডিকেটের সবাই উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) উপ-পরিচালক (ডিডি) বিমল কুমার প্রামাণিক কালের কণ্ঠকে বলেন- ‘প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে সারের চালানটি রাখাইনে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রামু উপজেলা সদরের গুদামটি আমি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছি।’

তিনি জানান, কক্সবাজারে কেবল একজন ডিলারের কাছে এত বিপুল পরিমাণের সার মজুদ নেই। রাখাইনে পাচারের জন্য সারের বস্তা চট্টগ্রাম থেকে এনে রামুতে হয়তোবা মজুদ করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে আমদানির সার পাচারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাখাইনে ইউরিয়া সারের ব্যাপক চাহিদার কারণে পাচার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। প্রতি বস্তা সারের মূল্য রাখাইনে ৫/৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশে বস্তা প্রতি সারের সরকারি মূল্য হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকা। সারের ডিলারগণ চট্টগ্রামের খোলা বাজার এবং বিসিআইসি সংশ্লিষ্ট লোকজনের নিকট থেকে প্রতি বস্তা ২ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে পাচার করছে উখিয়ার আনজুমান সীমান্ত দিয়ে। বস্তাপ্রতি পাচারের খরচ এক হাজার টাকা হলেও আরো ২/৩ হাজার টাকা মুনাফা হয়ে থাকে পাচারকারিদের। একমাত্র মুনাফার লোভে পাচারকারিরা নাফনদ পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সার পাচার অব্যাহত রেখেছে।

সার পাচারের বিষয়ে উখিয়ার বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জাহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান- ‘রাখাইনে সারের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় বিজিবি টহল দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচারকারিরা নানা কৌশলে সারের চালান পাচার করে আসছে। প্রতি রাতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নাফনদ দিয়ে পাচারকালে ৩০/৪০ বস্তা করে সার জব্দ করে থাকেন। তবুও পাচারকারিদের পাচার থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ইয়াবা ও সার পাচার রোধে বিজিবি এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে।

দোহারে মা-মেয়ের মৃত্যু, ঋণের চাপের অভিযোগ এনজিওর বিরুদ্ধে

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে মা-মেয়ের মৃত্যু, ঋণের চাপের অভিযোগ এনজিওর বিরুদ্ধে
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকার দোহারে ৫ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঋণের কিস্তি আদায়ে এনজিও কর্মকর্তাদের চাপ, ভয়ভীতি ও গালাগালির কারণে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং এর জেরেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিহতরা হলেন দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার বাসিন্দা লাভলী আক্তার এবং তার মা রেহানা বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, লাভলী আক্তার তার ছেলে‌কে সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য প্রায় ১ বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামের একটি এনজিওর বটিয়া শাখা থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার ছেলে নিয়মিত অর্থ পাঠাতে না পারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে তিনি ব্যর্থ হন।

পরিবারের দাবি, কিস্তি বকেয়া থাকায় এনজিও কর্মকর্তারা নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভয়ে লাভলী আক্তার তার মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। 

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ জুন লাভলী আক্তার মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন তথ্য পেয়ে এনজিওর এক কর্মকর্তা সঙ্গে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। ওই ঘটনার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের আরো অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য রেহানা বেগমের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হয়। সোমবার সন্ধ্যার আগে এনজিওর লোকজন নাগেরকান্দা এলাকায় গিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখায়। এরপর রেহানা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ রেহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঋণ আদায়ে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা অসদাচরণ করা হয়নি। তারা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছয়টি বাড়িতে \'মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি\' লিখে দিল বিজিবি | কালের কণ্ঠ