kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

তোর যা কিছু প্রয়োজন সবকিছু আমি তোকে দেব

কুলাউড়ায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের ভীমরতি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তোর যা কিছু প্রয়োজন সবকিছু আমি তোকে দেব

‌'তুই স্কুলে আমার নামে যে অভিযোগ দিয়েছিলি তা তুই তুলে নে' আমি তোকে আমার খরচে মেট্রিক পাশ করাব। তোর যা কিছু প্রয়োজন সবকিছু আমি তোকে দেব। এভাবে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মেয়েটির মা ১৬ জুলাই বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। 
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম মামুন কর্তৃক ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে কুপ্রস্তাব ও দুটি মোবাইল নম্বরসহ একটি টুকন দেয়। এতে মেয়েটির মা মামুনকে তাদের বাড়ি আসতে নিষেধ করে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবগত করেন। 

এর জের ধরেই ১০ জুলাই বুধবার ওই মেয়েটি স্কুলে যাবার পথে মামুন তার পথরোধ করে ও নানাভাবে ইভটিজিং করে। মেয়েটি উক্ত বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে বিদ্যালয়ে গেলে মামুনও ওইদিন বিদ্যালয়ে যান। তখন মামুন মেয়েটিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে শিক্ষকদের সামনে তার নামে নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপমান ও লাঞ্ছিত করেন। 

এছাড়াও মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দিবেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করিয়ে রাখবেন, উপবৃত্তির নাম কেটে দিবেন এরকম নানা ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেন। পরদিন ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার মেয়েটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মামুন আবারও তার গতিরোধ করে এবং হুঙ্কার দিয়ে বলেন, 'তুই স্কুলে আমার নামে যে অভিযোগ দিয়েছিলি তা তুই তুলে নে' আমি তোকে আমার খরচে মেট্রিক পাশ করাব। তোর যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু আমি তোকে দেব। 

এভাবে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে ইভটিজিং করে। এসব ঘটনায় মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে মেয়ের বাবা-মা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি অবগত করলে প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম মামুনের বিচার করতে পারবেন না, তাঁর কিছু করার নেই বলে অনীহা প্রকাশ করেন। 

এরপর বিষয়টি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের অবগত করলে তারাও একই জবাব দেন। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা-মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি যেকোনো সময় মামুন মেয়েটির ক্ষতিসাধন করতে পারে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম মামুন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে বিদ্যালয়ের ৮ম ও ১০ম শ্রেণীর দুই ছাত্রী বাইরের একটি ছেলেকে নিয়ে ঝগড়া করলে আমি তাদেরকে স্কুলে ডেকে এনে একটু শাঁসিয়েছি মাত্র। স্কুলের ভেতর সুন্দর পরিবেশ রক্ষার্থে শাসন করাই কি আমার অপরাধ?

কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজল উদ্দিন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্কুলছাত্রীর মধ্যে যে ঘটনা ঘটেছে তা বিদ্যালয়ে মিমাংসা করে দিয়েছি। স্কুলের বাইরে কিছু ঘটে থাকলে তা আমার জানা নেই।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা