• ই-পেপার

এআই উদ্ভাবনে মঞ্চ গড়ছে ড্যাফোডিল, শুরু হচ্ছে ‘এআই হ্যাকাথন ২০২৬’

শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট : পরিবেশ সচেতন নির্মাণকে এগিয়ে নেওয়ার পথে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট : পরিবেশ সচেতন নির্মাণকে এগিয়ে নেওয়ার পথে
সংগৃহীত ছবি

এশিয়া অঞ্চলজুড়ে নির্মাণ খাতের অগ্রগতি বৈশ্বিক অবকাঠামোর চেহারা বদলে দিচ্ছে। চীন, ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক রেডি মিক্স কংক্রিট বাজারের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশও এই আঞ্চলিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতে-কলমে, শ্রমনির্ভর সাইট-মিক্সিং পদ্ধতির পরিবর্তে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর, শিল্পায়িত কংক্রিট ব্যবস্থায় রূপান্তর এখন আর শুধু বিকল্প নয়, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয়তা।

নির্ভুলতার ক্রমবর্ধমান ঐতিহ্য
বাংলাদেশে রেডি মিক্স কংক্রিটের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও এর অগ্রগতি হয়েছে দ্রুত। ১৯৯৩ সালে দেশে এই প্রযুক্তির সূচনা হলেও ১৯৯৮ সাল থেকে এটি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক গতি পেতে শুরু করে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরকেন্দ্রগুলোতে। একসময় যা ছিল একটি সীমিত পরিসরের সমাধান, তা আজ একটি বৃহৎ শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান সারাদেশে ১০০টিরও বেশি রেডি মিক্স কংক্রিট প্ল্যান্ট পরিচালনা করছে।

খাতটি প্রতিযোগিতামূলক হলেও শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট, ক্রাউন, বসুন্ধরা রেডি মিক্স কংক্রিট, এনডিই রেডি মিক্স কংক্রিটসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রকৌশলের কঠোর চাহিদা পূরণ এবং বাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট সর্বোচ্চ বাজার অংশীদারি নিয়ে এককভাবে শিল্প খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে প্রচলিত নির্মাণ সাইট মানেই ছিল পরিবেশগত দূষণের একটি পরিচিত চিত্র। খোলা সিমেন্টের ব্যাগ, উন্মুক্ত অ্যাগ্রিগেটের স্তূপ এবং সাইটে মিক্সারের অবিরাম শব্দ ছিল নগর উন্নয়নের সাধারণ দৃশ্য। তবে এই প্রচলিত পদ্ধতির মূল্যও ছিল অনেক বেশি। উপকরণের উল্লেখযোগ্য অপচয়, শব্দদূষণ এবং বাতাসে সূক্ষ্ম ধুলিকণার ছড়িয়ে পড়া। শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট এই চিত্রে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। জনবহুল সড়ক ও নির্মাণস্থল থেকে উৎপাদন সরিয়ে নিয়ন্ত্রিত ও কম্পিউটারাইজড ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচ্ছন্ন নির্মাণ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় অনুমাননির্ভরতা দূর হয়। যেহেতু মিক্সিং একটি আবদ্ধ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তাই আশপাশের মানুষের জন্য সাধারণত যে ধুলা ও শব্দদূষণ তৈরি হয়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ট্রানজিট মিক্সার যখন সাইটে পৌঁছে, তখন কংক্রিট ঢালাইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে। এটি নির্মাণকে করে আরও পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর।

জিরো-ওয়েস্ট দর্শন
নির্মাণে টেকসইতার শুরু হয় কাঁচামালের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে। প্রচলিত সাইট-মিক্সড কংক্রিটে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্ডার বা ভুল মিক্সিং অনুপাতের কারণে অতিরিক্ত উপকরণ তৈরি হয়, যা পুনর্ব্যবহার করা যায় না এবং শেষ পর্যন্ত পরিবেশগত বর্জ্যে পরিণত হয়। শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট জিরো-ওয়েস্ট উৎপাদন মডেলের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেছে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা নির্দিষ্ট ঢালাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক পরিমাণ ও গ্রেড নির্ধারণ করতে সাইটে প্রি-ভিজিট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করেন

শাহ সিমেন্ট রেডি-মিক্স কংক্রিট থাইল্যান্ডের বৃহত্তম রেডি-মিক্স কংক্রিট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিয়াম সিটি গ্রুপ-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক দক্ষতা ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্ট্যান্ডার্ডাইজড মিক্স ডিজাইন তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি ব্যাচ নির্ভুল অনুপাতে প্রস্তুত ও সমভাবে মিশ্রিত হয়। যা প্রতিটি ডেলিভারিতে নিশ্চিত করে ধারাবাহিক মান, উন্নত শক্তি এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স। শাহ সিমেন্ট রেডি-মিক্স নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং BUET কর্তৃক স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটার কংক্রিটে নিশ্চিত করে ধারাবাহিক গুণগত মান, উচ্চতর শক্তি এবং অতুলনীয় নির্ভরযোগ্যতা। 

সবুজ কৌশল হিসেবে লজিস্টিকস
২৫০টিরও বেশি ট্রানজিট মিক্সার এবং ৫০টি পাম্পের বিশাল বহর নিঃসন্দেহে একটি বড় শিল্প সক্ষমতার পরিচয়। তবে শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট তাদের লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করে। ঢাকার মতো শহরে, যেখানে যানজট একটি ছোট দূরত্বকেও দীর্ঘ যাত্রায় পরিণত করতে পারে, সেখানে পরিবহন সময় টেকসইতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শাহ্‌ সিমেন্ট একটি ভৌগোলিক সমাধান গ্রহণ করেছে। রাজধানী ও এর আশপাশে ১২টি কৌশলগত লোকেশনে ১৪টি প্ল্যান্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা নির্মাণস্থলের কাছাকাছি থাকার জন্য পরিকল্পিত। মূল কৌশল হলো নির্মাণ সাইটের যতটা সম্ভব কাছাকাছি থাকা। পাশাপাশি, কম ডেলিভারি দূরত্ব মানে কম জ্বালানি ব্যবহার।

রেডি মিক্স কংক্রিটের দিকে এই রূপান্তর বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। বাংলাদেশ যখন বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে নিজেকে সামঞ্জস্য করছে, তখন রেডি মিক্স কংক্রিট শুধু একটি লজিস্টিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল নির্মাণের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি।
 

একনজরে শাহ্‌ সিমেন্ট রেডি মিক্স কংক্রিট
•    কৌশলগত বিস্তৃতি: পরিবহন সময় ও নিঃসরণ কমাতে ১২টি লোকেশনে ১৪টি প্ল্যান্ট।
•    উন্নত বহর: নির্ভুল ও দক্ষ ডেলিভারির জন্য ২৫০টিরও বেশি GPS-অপ্টিমাইজড ট্রানজিট মিক্সার।
•    জিরো-ওয়েস্ট প্রযুক্তি: সিয়াম সিটি গ্রুপের সঙ্গে উন্নত উচ্চ-নির্ভুল কম্পিউটারাইজড ব্যাচিং ব্যবস্থা।
•    যাচাইকৃত মান: প্রতিটি ব্যাচ ল্যাবরেটরিতে যাচাইকৃত এবং BUET-পরীক্ষিত।
•    মেজর প্রজেক্টে অবদান: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহৃত।

ন্যাশনাল আরবান ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করল ইউএনওপিএস-রাজউক

তরুণ স্থপতিদের চোখে অধিকতর পরিবেশবান্ধব ঢাকার নতুন রূপ কল্পনা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ন্যাশনাল আরবান ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করল ইউএনওপিএস-রাজউক
সংগৃহীত ছবি

কার্বন কনসিয়াস আরবান ডিজাইন আইডিয়া কম্পিটিশন ২০২৬-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে সবার সামনে উঠে আসে তরুণ স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলো, যা আগামী প্রজন্ম ঢাকার জন্য যে পরিবেশবান্ধব, অধিক স্থিতিশীল এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে তা তুলে ধরে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক করপোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেট)-এর অর্থায়নে ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর প্রোজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস), দি ইউনাইটেড ন্যাশনস ইনভাইর্নমেন্ট প্রোগ্রামি (ইউএনইপি), ইউএন-হ্যাভিটেট এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বিল্ট এনভায়রনমেন্টের রূপান্তর’ প্রকল্পের অধীনে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়েছিল।

টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য উদ্ভাবনী সমাধান অনুসন্ধানে অনুপ্রেরণা জোগানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জলবায়ু-সচেতন ডিজাইনের মাধ্যমে গণপরিসরকে নতুনভাবে ভাবার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

5555

অংশগ্রহণকারীরা ঢাকার ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাস্তুতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্বল্প-কার্বন উপকরণ ব্যবহার, পানির ব্যবহার ও প্রাপ্যতা, সংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিসরকে সমন্বিত করে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন।

স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা, প্রকৌশল এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বরেণ্য বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে গঠিত একটি যথাযথ জুরির মাধ্যমে গৃহীত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা মোট ৩৬টি ডিজাইন প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করা হয়। ওই জুরির বিজ্ঞ মতামত অনুযায়ী জমাকৃত প্রস্তাবগুলোতে অসাধারণ সৃজনশীলতা ও কারিগরি উৎকর্ষতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর, অধিক স্থিতিশীল এবং জনকেন্দ্রিক নগর পরিবেশ তৈরির জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর টিম বার্ন/ব্রেথ তাদের ‘দ্য রিসিডিং মেমব্রেন’ শীর্ষক প্রস্তাবনার জন্য প্রথম পুরস্কার লাভ করেছেন। এই প্রস্তাবনাটি একটি অব্যবহৃত জলাশয়কে উদ্ভাবনী উপায়ে ও পরিবেশগতভাবে পুনরুদ্ধারযোগ্য বিবেচনায় সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি গণপরিসর এলাকা হিসেবে ব্যবহারযোগ্যরুপে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে বিচারকমণ্ডলীকে মুগ্ধ করেছে। প্রকল্পটি ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।

‘স্যাটুর‌্যাট : অ্যান আর্বানসক্যাপ দ্যাট রিটার্নস ওয়াটার টু আর্থ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে চুয়েটের টিম ইউনিট ফাইভ এবং ‘মেমোরিস অব বেঙ্গল : অ্যান ইকোলোজি অফ বিলংগিঙ ইন দি আরবান ফ্যাবরিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর টিম ওয়েস্ট লাইন।

এই প্রতিযোগিতায় চারটি বিশেষ পুরস্কারের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক অসামান্য অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির টিম ভ্যানগার্ড আরবানিস্টস ‘লো-কার্বন পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’, খুলনা ইউনিভার্সিটির টিম ছায়া ‘ক্লাইমেট-রেসিলিয়েন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার-রেডি পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) টিম অরণ্যক ‘ইনক্লুসিভ অ্যান্ড অ্যাক্সেসিবল পাবলিক স্পেস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। এ ছাড়া প্রথম পুরস্কার বিজয়ী প্রজেক্টটি ‘এক্সিলেন্স ইন প্রেজেন্টেশন’-এর জন্যও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। 

স্বীকৃতির পাশাপাশি জয়ী দলগুলোকে মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও ডিজাইনারদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি স্বল্প-কার্বন ও সম্পদ-সাশ্রয়ী বিল্ট এনভায়রনমেন্টের দিকে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার একটি অংশ হলো এই প্রতিযোগিতা। 

এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ পেশাজীবীদের কিভাবে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, টেকসই উপকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশা বাংলাদেশজুড়ে জলবায়ু-সহনশীল শহর নির্মাণে অবদান রাখতে পারে তাই প্রদর্শন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বিজয়ী দল ও সব অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে আয়োজকবৃন্দ, বিশেষ করে রাজউকের চেয়ারম্যান মহোদয় এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মহোদয় জমাকৃত প্রস্তাবনাগুলোর গুণগতমানের প্রশংসা করেছেন এবং বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়ন কর্মসূচিতে অবদান রাখে, এমন উদ্ভাবনী পন্থাকে সমর্থন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‍্যালি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবসে রাজধানীতে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের র‍্যালি

বিশ্ব মোটরসাইকেল দিবস ও ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গত ২১ জুন ঢাকার ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। সেখানে ৫০০-রও বেশি বাইকার তাদের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল নিয়ে অংশ নেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই দিন দুপুরের পর থেকেই র‌্যালিটি বাইকারদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের পছন্দের জার্সি ও পতাকা নিয়ে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিটে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন। ক্লাবের সদস্যদের মতে এটি শুধু একটি র‌্যালি নয়; এটি ঐক্য, ভালোবাসা আর আবেগের এক অনন্য উদযাপন।

১০ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর-এ ‘নগদ’ পেমেন্ট

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১০ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর-এ ‘নগদ’ পেমেন্ট
সংগৃহীত ছবি

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ গ্রাহকদের জন্য চালু করেছে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট সেবা। একই সঙ্গে সকল ব্যাংক এবং অন্যান্য মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে ‘ট্রান্সফার মানি’ করে লেনদেন করার সুবিধাও চালু করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগদ জানায়, বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে দেশজুড়ে থাকা প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট পরিবারে যুক্ত হলো ‘নগদ’। ক্যাশলেস লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে বাংলা কিউআর এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) সুবিধা। এর মাধ্যমে কোটি কোটি গ্রাহকের লেনদেনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলো। 

​বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যাবাড়ির মাঠে বাংলা কিউআর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নগদ এক মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রশাসক দলের অন্যান্য সদস্য এবং ঢাকায় কর্মরত নগদের চারশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

অনুষ্ঠান থেকে জানানো হয়, বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করতে নগদ সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ​এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো দোকান, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট কিংবা বাজারে প্রদর্শিত বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করেই সরাসরি নগদ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।

আলাদা আলাদা এমএফএস অপারেটর বা ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা দূর করতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিল নগদ। 
​তাই এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের পাশাপাশি ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীদের জন্যও এই সেবা দারুণ স্বস্তি নিয়ে আসবে। তাদেরকে এখন আর একাধিক কিউআর কোড রাখতে হবে না। যেকোনো একটি ‘বাংলা কিউআর’ থাকলেই নগদ গ্রাহকেরা স্মার্টফোন দিয়ে চোখের পলকে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে ব্যবসা পরিচালনা আরো সহজ হবে এবং ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাও অনেকাংশে কমে যাবে।

​দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে এতদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা ছিল। বাংলা কিউআর সেই বাধা দূর করে একটি অভিন্ন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

​বাংলা কিউআরের পাশাপাশি নগদে যুক্ত হয়েছে এনপিএসবি সেবা। এই সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনে গ্রাহকেরা দেশের যেকোনো ব্যাংক হিসাব বা সকল এমএফএস থেকে নগদ ওয়ালেটে ‘ট্রান্সফার মানি’ করতে পারবেন। একইভাবে নগদ থেকে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। ফলে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে অর্থ লেনদেন আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে। এই দুটি উদ্যোগের ফলে মানুষের ছাপা টাকা ব্যবহার কমবে এবং দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

​এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, “গ্রাহক ও ব্যবসায়ী এবং উভয় পক্ষের জন্যই ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে ‘বাংলা কিউআর’ একটি বৈপ্লবিক মাইলফলক। এখন থেকে নগদ গ্রাহকেরা যেকোনো দোকানে একটি মাত্র সমন্বিত কিউআর কোড স্ক্যান করেই চোখের পলকে ক্যাশলেস পেমেন্ট করতে পারবেন, যা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদেরও ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে। এই একক কিউআরভিত্তিক ব্যবস্থা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ও সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরো বলেন, “এনপিএসবি যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের সাথে নগদের তাৎক্ষণিক সংযোগ তৈরি হলো। এখন গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে ‘ট্রান্সফার মানি’ এবং নগদ থেকে ব্যাংকে ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার মানি’ করতে পারবেন। এটি গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়ার সময় বাঁচানোর পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।” 

বহুদিন থেকে এক এমএফএস থেকে আরেক এমএফএস-এর লেনদেনের পরিপূর্ণ সুবিধার চালুর আলোচনা হয়েছে। তবে নগদের এই উদ্যোগের ফলে এখন গ্রাহকরা সত্যিকার অর্থে লেনদেনে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তসংযোগ সুবিধা পেলেন।