সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মরা চেলা নদীর বালু মহালসংলগ্ন ফকিরটিলা মৌজার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও কৃষিজমি থেকে তিন রাতে বিপুল পরিমাণ বালু জোরপূর্বক উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিক শাহীন মিয়া।
অভিযোগকারী শাহীন মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পাথারীপুর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে। বুধবার রাতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ছাতক নৌ-পুলিশের কাছেও পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফকিরটিলা মৌজার জে.এল. নং-৭১, খতিয়ান নং-৩৯৫৬ ও দাগ নং-১২৩-এর প্রায় ৬ একর পুকুর ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে শাহীন মিয়া ও তাঁর সহ-শরিকরা মৌরসি স্বত্বে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই জমি থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ জুন রাত থেকে তারা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে বালু উত্তোলন শুরু করে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন প্রতিদিন রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিপুলসংখ্যক লোক গভীর গর্ত খনন করে নৌকাযোগে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। জমির মালিক ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিন রাতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে জমিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শাহীন মিয়া বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সালিস চলাকালীন সময়েও অভিযুক্তরা বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। যাওয়ার সময় আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।’
এ ঘটনায় গনেশপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল কদ্দুছের ছেলে দুলু মিয়া, মঈন উদ্দিনের ছেলে আলাল হোসেন, মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে বাবুল মিয়া, মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে ইমন মিয়া, আনোয়ার পাশাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’






