• ই-পেপার

আবু সাঈদ হত্যার বিচারের দাবিতে বেরোবিতে শহীদি মার্চ

জবি মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এআই ও শিল্পসংযোগের ওপর গুরুত্ব

জবি প্রতিনিধি
জবি মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার দিনব্যাপী আলোচনা ও একাডেমিক সেশনের আয়োজন করা হয়। বিভাগের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের দীর্ঘ পথচলা, একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে একাডেমিয়া ও কর্পোরেট জগতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ, আধুনিক বিপণন চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্পোরেট প্রতিনিধির উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কর্পোরেট ব্যক্তিত্বদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সুদৃঢ় করতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি মার্কেটিং শিক্ষার সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় উদ্ভাবনী চিন্তার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহা. আলী নূর। অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন মার্কেটিং বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবোজ্জ্বল বিভাগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর নেতৃত্ব, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে ‘মার্কেটিংয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বিপণনে একাডেমিক গবেষণা ও অনুশীলন’ শীর্ষক আলোচনায় মার্কেটিং-এ বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে মার্কেটিং বিষয়ে অভিজ্ঞ একাডেমিক ও কর্পোরেট ব্যক্তিত্বরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। একইসাথে ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০-এর অধীনে মার্কেটিং’ বিষয়ক আলোচনায় শিল্পখাতে সাম্প্রতিক মার্কেটিং কৌশল, শিল্প-চালিত মার্কেটিং উন্নয়ন, শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে মার্কেটিং শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে বিপণন বিষয়ে অভিজ্ঞ একাডেমিক এবং দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্পোরেট প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ডেনমার্কের অ্যালবর্গ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. বখতিয়ার রানা, পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক ও কৃষাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. আবেদ চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশিদ, পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, মেটলাইফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলাউদ্দিন, বিডিজবসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. আলী ফিরোজসহ দেশের খ্যাতনামা কর্পোরেট ব্যক্তিত্বরা।

বক্তারা মার্কেটিং বিভাগের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু একাডেমিক শিক্ষাই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পরিবর্তিত বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।’ তাঁরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোক্তা আচরণ (কনজ্যুমার মার্কেট) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সময়োপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মাহ্‌মুদুল হাসান ফৈজী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান আগামী ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনের কর্মসূচিতে বর্ণাঢ্য র্যাালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অ্যালামনাই, বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ঢাবি সাদা দলের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে ঢাবি সাদা দলের শোক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। রবিবার (৫ জুলাই) সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের স্বাক্ষরিত বার্তায় এ শোক প্রকাশ হয়।

এদিকে আজ দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

সাদা দলের শোকবার্তায় বলা হয়, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও জাতীয় জ্ঞানচর্চায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ এক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীকে হারাল।

মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী, একমাত্র কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শোকবার্তায় সাদা দল তার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

সাদা দলের নেতারা বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তা, গবেষণা ও শিক্ষাবিষয়ক অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমগ্র জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের ২০২৭ সালের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষা আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবে।

রবিবার (৫ জুলাই) কওমি মাদরাসাভিত্তিক কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। 

এর আগে গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) বোর্ডের সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১২/১৩ শাবান ১৪৪৮ হিজরি, ২১ জানুয়ারি ২০২৭ (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩/২৪ শাবান ১৪৪৮ হিজরি, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ (সোমবার) শেষ হবে।

পরীক্ষার মধ্যে ২২ জানুয়ারি ও ২৯ জানুয়ারি ২০২৭, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

পরীক্ষার নিবন্ধনের সময়সূচি ও বিস্তারিত নির্দেশনা শিগগিরই পৃথকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 
 

ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেমের ইন্তেকাল, উপাচার্যের শোক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেমের ইন্তেকাল, উপাচার্যের শোক
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এক শোকবাণীতে তিনি বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক, প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক ছিলেন। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদান এবং অসাধারণ সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৬১ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ‘লোকায়ত’ নামে একটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন এবং সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখেছেন। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলা একাডেমির সভাপতি নিযুক্ত হন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বাংলাদেশ লেখক শিবির পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রাম, কালের যাত্রার ধ্বনি, উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাংলা সাহিত্য, রাজনীতি ও দর্শন, সাহিত্যচিন্তা, রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশসহ আরো অনেক গ্রন্থ এবং বেশ কিছু অনুবাদ ও সম্পাদিত গ্রন্থ।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলা বিভাগও। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) এক শোকবাণীতে বলেন, তিনি ছিলেন একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক এবং তার প্রয়াণে বাংলাদেশ একজন গুরুত্বপূর্ণ মনীষীকে হারাল।

আবু সাঈদ হত্যার বিচারের দাবিতে বেরোবিতে শহীদি মার্চ | কালের কণ্ঠ