• ই-পেপার

সোনার দামে ফের বড় পতন, ভরি কত?

১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

টাকার সংকটে পড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি।

সম্প্রতি ব্যাংকটিতে চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক এবং গ্রাহক ফোরামের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। এর ফরে নগদ টাকার সংকটে পড়েছে ব্যাংকটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনো টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দেশের বাজারে সোনার ভরি আজ কত?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে সোনার ভরি আজ কত?

ঈদুল আজহার পর দেশে দ্বিতীয় দফায় কমেছে সোনার দাম। গত শনিবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। যা ওই দিনই সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, নতুন করে দামে পরিবর্তন না আসায় আজ বুধবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, যানবাহনে আগুন

বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, যানবাহনে আগুন

 

এর আগে, ২ জুন ঈদের পর প্রথম দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করে সংগঠনটি।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

২৭ হাজার আমানতকারীর জমা ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন আমানতকারীরা

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের পদক্ষেপ হিসেবে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশের ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বোর্ডে আলোচনা হয়। সভায় বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্সকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

এখন আমাদের প্রথম কাজ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা। এরপর এসব প্রতিষ্ঠানে একীভূত ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। প্রশাসক নিয়োগের পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি আমানতকারী ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। তিনি আরো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে, তাদের এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতা দেখাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে না পারলে সেগুলোকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না এই মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (পরে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার চারটি এনবিএফআই পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত কয়েক বছর ধরেই তীব্র তারল্যসংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল সুশাসনের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত?

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত?
সোনা-রুপার গয়না। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছর সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। বিশ্ববাজারের সামগ্রিক মন্দাভাবের প্রভাব পড়েছে এই মূল্যবান ধাতুর ওপর। বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশ পেতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে চোখ রাখছেন। খবর রয়টার্স

মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৮ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে অবশ্য দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্স বা অগ্রিম বাজারে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ দশমিক ৯০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আরজেও ফিউচার্সের জ্যেষ্ঠ বাজার কৌশলবিদ বব হ্যাবারকর্ন বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন বাজার নিয়ে কিছুটা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। সব বাজারেই বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি এড়াতে চাইছেন। আর এই প্রবণতার কারণেই সোনার বাজারে পতন দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ফেডারেল রিজার্ভের কাছ থেকে সুদের হারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত না পাওয়া পর্যন্ত সোনা ও রুপার দাম চাপের মধ্যেই থাকবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের শক্তিশালী তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূল্যস্ফীতির দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে সবাই বুধবারের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন।

জার্মানির কোমার্জব্যাংক এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চড়া হয়, তবে সোনার দাম আরও পড়ে যেতে পারে। তবে ফেড যদি শেষ পর্যন্ত সুদের হার না বাড়ায়, তাহলে বছরের শেষের দিকে সোনার বাজারে আবার সুদিন ফিরতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার (স্পট সিলভার) দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৩৬ দশমিক ০৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৪ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।