kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঘনিয়ে আসছে ঈদ

টুপি পাঞ্জাবির ব্যবসা মন্দা

বাজার বন্ধ থাকায় সংকটে বিক্রেতা অনলাইনে ঝুঁকছে সবাই

রফিকুল ইসলাম   

১৩ মে, ২০২০ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টুপি পাঞ্জাবির ব্যবসা মন্দা

ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দ এক বেশিই রঙিন হয় নতুন পাঞ্জাবী ও টুপিতে। তাইতো প্রতিবছর ঈদ আসলে পুরুষের পোশাকের বাজারে পাঞ্জাবীর চাহিদা থাকে শীর্ষে। ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহা ধর্মীয় এই দুই উৎসব উদযাপিত হয় নামায পড়ে। বিশেষ এই দিনটিতে সবাই সাধ্যমত পাঞ্জাবি বা অন্য যেকোনো পোশাকের সঙ্গে সব বয়সী পুরুষের মাথায় থাকে বাহারি নকশার টুপি থাকা চাই।

তবে এবার টুপি-পাঞ্জাবীর বাজারে মন্দা। করোনা ভাইরাসের কারণে বিপণীবিতান ও মার্কেট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। আবার ক্রেতার আগ্রহ থাকলেও পণ্য কিনতে পারছেন না। করোনা ভাইরাস এবারের ঈদানন্দকে অনেকটাই নীরস করে তুলেছে।

গত মার্চ মাসে দেশে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়। এরপর থেকে সংক্রমণ ঠেকাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২৪ ও ২৬ মার্চ থেকে দেশের সব বিপণীবিতান, শপিং মল বন্ধ। জরুরী ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া সবকিছুই থমকে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের চাওয়ার প্রেক্ষিতে গত রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

চলছে রমজান। প্রায় অর্ধেক শেষ। আর সপ্তাহ দুয়েক পরই ঈদ। কিন্তু রাজধানীর বাজারে ঈদের তোড়জোড় নেই। সব মার্কেট বন্ধ। করোনা শঙ্কার মধ্যে গত রবিবার সীমিত পরিসরে দেশের মার্কেট খুলেছে। খোলার পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তির পর সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলবে দোকান। যদিও রাজধানীর সবচেয়ে বড় বিপণীবিতান বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেটসহ অনেক বাজারই বন্ধ থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর সব মার্কেটেই ঈদের পাঞ্জাবী বিক্রি হয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশি জনপ্রিয় আজিজ সুপার মার্কেটে পাওয়া যায় সব ধরনের পাঞ্জাবী। কিন্তু এবার দোকান খুলতে পারেনি আজিজ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কোনো মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ঈদবাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না।

প্রথাগত মার্কেটের বাইরে বিকল্প অনলাইন প্লাটফর্মে ঈদের পণ্য পাঞ্জাবী, টুপি আতর ও শাড়ি-থ্রি-পিচ বিক্রির তোড়জোড় চলছে। ফেসবুকে পণ্যে সম্পর্কে প্রচার করে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। অনলাইন প্লাটফর্ম এখন বড় বাজার হিসাবে দেখা যাচ্ছে। ঘরে বসে ক্রেতা পণ্যের চাহিদা পাঠাচ্ছেন আর ঘরে বসে সেই পণ্য পাচ্ছেন ক্রেতা।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, চকবাজার, কাঁটাবন মসজিদ ও কাকরাইল মসজিদ এলাকা টুপির বড় বাজার। এসব জায়গায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে টুপি বিক্রি হয়। জালি, গোল, আড়ি, এসি, সাতে এবং চায়নাসহ বিভিন্ন ধরনের টুপি বাজারে বিক্রি হয়। রজমান মাস আসলেই টুপি কেনার হিড়িক পড়ে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে বিভিন্ন মানের টুপি পাইকারি বিক্রির বড় বাজার হচ্ছে পুরান ঢাকার চকবাজার। সারা বছর বিক্রি চললেও টুপির ব্যবসা অনেকটা মৌসুমী। বিশেষ করে ঈদকেন্দ্রিক। ঈদের আগে টুপি কিনতে ক্রেতার চাহিদা থাকে। রমযানের আগে থেকে ব্যবসায়ীরা পুরোদমে প্রস্তুতি নেন।

বায়তুল মোকাররমের টুপি ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান শুরুর আগ থেকে টুপি বিক্রি ধুম পড়ে। মানুষ রোজা রাখলে নামাজও পড়ে। তাই সবার টুপি প্রয়োজন হয়। কিন্তু এবারের চিত্র ঠিক ভিন্ন। রোজার আগ থেকেই মার্কেট বন্ধ। কোনো ব্যবসা হয়নি। ঈদকে ঘিরে নেওয়া প্রস্তুতিও থমকে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা