• ই-পেপার

মুমিনের বাসরঘর যেমন হবে

হাদিসের বাণী

শুধুমাত্র যে তিন ব্যাক্তি অন্যের কাছে চাইতে পারবে

ইসলামী জীবন ডেস্ক
শুধুমাত্র যে তিন ব্যাক্তি অন্যের কাছে চাইতে পারবে
সংগৃহীত ছবি

আবু বিশর কাবিসাহ ইবনুল মুখারিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমার ওপর কিছু আর্থিক দন্ড (হুদুদ জাতীয়) এসে বর্তায়, তাই আর্থিক কিছু সাহায্য নেয়ার জন্য আমি মহানবী (সা.)-এর কাছে আসলাম। মহানবী (সা.) বললেন, সাদাকাহের মাল আসার আগ পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা করো। সাদাকাহের মাল এলে আমি তোমাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করব। তারপর তিনি বললেন, হে কাবিসাহ, তিন ধরনের ব্যক্তি ব্যতীত আর কারও জন্য অন্যের কাছে কোনো কিছু চাওয়া বৈধ নয়: 

আরো পড়ুন
সদকায় মিলে সম্মান ও নিরাপত্তার জীবন

সদকায় মিলে সম্মান ও নিরাপত্তার জীবন

 


১. যে ব্যক্তি আর্থিক সংকটে পড়বে। তার জন্য অন্যের কাছে চাওয়া বৈধ। তবে যখনই তার প্রয়োজন ও সংকট শেষ হয়ে যাবে, তখন আর সে কখনো আর অন্যের কাছে কোনো আর্থিক সাহায্য চাইতে পারবে না। 
২. যে ব্যক্তি কোনো বিপদে পড়বে, তাহলে তার জন্য সচ্ছল অবস্থায় ফিরে আসার আগ পর্যন্ত অন্যের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার অবকাশ আছে। 
৩. যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং তার সম্প্রদায়ের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দেবে যে, অমুক লোক অভাবী, তখন তার জন্য অন্যের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার সুযোগ আছে। হে কাবিসাহ, এ ছাড়া অন্য কারও জন্য কারো কাছে কোনো কিছু চেয়ে খাওয়া সুদ হবে। সে যা খাবে, তা তার জন্য সুদ হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৪০৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১৫৯১৬)


শিক্ষা ও বিধান

১. অকারণে মানুষের কাছে হাত পাতা নিষিদ্ধ। তাই ইসলাম মানুষকে আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা দেয়। প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ নয়।

২. প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাহায্য চাওয়া বৈধ। যে ব্যক্তি বাস্তবিকই বিপদগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত বা অভাবী, তার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য চাওয়ার অনুমতি রয়েছে।

৩. ঋণ ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা নেওয়া জায়েজ। তাই কোনো ব্যক্তি যদি মানুষের মধ্যে মীমাংসা, রক্তপণ বা অন্য কোনো সামাজিক দায়িত্ব পালনের কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে, তবে সে সাহায্য চাইতে পারে।

৪. বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা সমাজের কর্তব্য।

৫. প্রকৃত অভাবীকে সহায়তা করা উচিত। যারা সত্যিকার অর্থে অভাবগ্রস্ত, তাদের প্রয়োজন পূরণে জাকাত, সদকা ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করা ইসলামের নির্দেশ।

৬. মিথ্যা অভাব দেখিয়ে সাহায্য নেওয়া মহাপাপ। অভাবী না হয়েও মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তা ভোগ করা হারাম ও গুনাহের কাজ।

৭. সম্পদের ক্ষেত্রে সততা অবলম্বন করা আবশ্যক। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নিজের আর্থিক অবস্থার ব্যাপারে সত্য বলা এবং প্রতারণার আশ্রয় না নেওয়া।

৮. সমাজের বিশ্বস্ত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই কোনো ব্যক্তি প্রকৃত অভাবী কি না, তা নির্ধারণে সমাজের বিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

এই হাদিস আমাদের বিশেষভাবে শিক্ষা দেয় যে, ইসলাম আত্মমর্যাদা রক্ষা, পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরশীলতাকে উৎসাহিত করে; তবে প্রকৃত অসহায়, ঋণগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভাব দেখিয়ে মানুষের সম্পদ গ্রহণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো মহাপাপ

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো মহাপাপ
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পারস্পরিক পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও অনুগ্রহ।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২১)

এ মেলবন্ধনের তৎপর্য—
‘কোনো কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।’
(কাজী নজরুল ইসলাম)

পবিত্র কোরআনের শিক্ষায় স্বামী-স্ত্রী পরস্পর ‘ভূষণতুল্য’। পোশাক যেমন লজ্জা নিবারণের উপায়, তেমনি আকর্ষণের অবলম্বন। পারস্পরিক অনুভূতি, মনের কথা মুখে প্রকাশ, প্রিয়তমাকে রোমান্টিক কথকতায় আকৃষ্ট করা প্রিয় নবী (সা.)-এর আদর্শ।

সংসারের ঘানি টেনে ক্লান্ত দম্পতি নিজের যত্ন, নিজের সৌন্দর্য সম্পর্কে বেখেয়াল হয়ে পড়েন। অথচ প্রিয় নবীর (সা.) শিক্ষা—‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকা পছন্দ করি।’ (বায়হাকি)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নারীর প্রতি সহিংসতায় বাংলাদেশের অবস্থান ঊর্ধ্বমুখী। ঘটনার ৮০ শতাংশ হয় পরিবারের মধ্যে এবং এর ৮৪ শতাংশ শাশুড়ি ও ৬৩ শতাংশ ননদের হাতে। মুসলিম পরিবার দর্শন হলো প্রীতিময় সহাবস্থান। কিন্তু এতে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ান আপনজনরাই! এখানেই স্পষ্ট অব্যক্ত হাহাকার—
আমার শিয়রে শাশুড়ি ঘুমায় জ্বলন্ত নাগিনী 
হায়রে জ্বলন্ত নাগিনী
আমার পৈথানে ননদী শুয়ে দুরন্ত ডাকিনী...
...বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে নলের বেড়া
ওরে হাত বাড়ায়া দিতে পান
কপাল দেখি পোড়া!

মহান আল্লাহর কাছে চরম অপছন্দনীয় বিষয় এবং জঘন্যতম কবিরা গুনাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানো। জাদুর ক্ষতিকর দিক প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তাদের (হারুত মারুত)-এর কাছে তারা এমন জাদু শিখত, যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যায়...।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১০২)

খারাপ কাজে উৎসাহ না দেওয়া ইসলামের বিঘোষিত নীতি—‘...মন্দকর্ম ও সীমা লঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না’। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)

কিন্তু স্বার্থান্বেষী জঘন্য মানুষ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ লাগানোকে পৌঁছিয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। এদের সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.)-এর সতর্কবার্তা, ‘কোনো নারী যেন নিজ স্বার্থের জন্য এবং বিয়ে বসার জন্য তার বোনের তালাক না চায়...।’ (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ)
শয়তানের দৌরাত্ম্য বোঝাতে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘ফিতনা-ফাসাদ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য শয়তান তার বাহিনী পাঠায়। ...শয়তানের বাহিনী যখন ফিরে আসে প্রত্যেকে সরদারের কাছে নিজ নিজ রিপোর্ট পেশ করে... এরই মাঝে এক সৈন্য সরদারের সামনে গিয়ে তার রিপোর্ট পেশ করে বলে ‘এভাবে আমি সুকৌশলে সূক্ষ্মভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হইনি।’ তিনি (সা.) বলেন, শয়তান এ রিপোর্ট শুনে খুশিতে লাফিয়ে উঠল। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে উদ্বেলিত স্বরে বলল, ‘তুমিই আসল কাজ করেছ!’ (মুসলিম)

দুটি প্রাণ ও পরিবারের মেলবন্ধনে সংসার সুখের স্বর্গ। সংসারধর্ম বজায় রাখা ইবাদততুল্য পুণ্যময় সাধনা। কিন্তু একেবারেই যদি তা অসম্ভব হয়ে ওঠে, তবে তো আফসোস! ভিন্ন কথা। বিরুদ্ধ পরিবেশে পারিবারিক শান্তি-স্বস্তির নির্দেশনায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেসব নারীর অবাধ্যতা আশঙ্কা করো, তবে তাদেরকে উপদেশ দাও; শয্যাসঙ্গী হতে বিরত রাখো এবং তাদেরকে শাসন করো (সামান্য প্রহার)। যদি তারা অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্য অন্য কোনো বিকল্প খুঁজবে না...। আর যদি উভয়ের মধ্যে বিরুদ্ধভাব প্রবল মনে করো, তবে পুরুষ ও নারীর পক্ষে একজন করে স্বজনকে মীমাংসাকারী মেনে সমাধানে উদ্যোগী হও। যদি তারা সমাধানে ইচ্ছুক হয়, তবে আল্লাহও তাদের প্রতি অনুকূল হবেন...।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৪ ও ৩৫ ভাবানুবাদ)

বিচ্ছেদের চরম সিদ্ধান্তের আগে চারটি উপায় অনুসরণের নির্দেশের পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেন দুপক্ষই আন্তরিক হয়ে সমঝোতায় পৌঁছে। কেননা প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তালাকের চেয়ে অধিক ঘৃণ্য কোনো জিনিস বৈধ করেননি।’ (আবু দাউদ)

বস্তুত পুরুষ মানুষ সময়মতো ঘরে না ফিরলে ‘বউ গরম ভাত ঠাণ্ডা’-এর ঘটনা ঘটে! বিরোধের কারণ আরো অনেক—

অসম দৃষ্টিভঙ্গি—ব্যক্তিত্বের সংঘাত,
প্রবাসজীবন এবং পরকীয়া,
জৈবিক আর্থিক অসাম্য,
অবহেলা—সময় না দেওয়া,
পারিবারিক অশিক্ষা, তৃতীয়পক্ষ।

প্রেমময় সম্পর্কের একজন ছাড়া, আরেকজনের জীবন একেবারে শেষ; এমনও নয়। শরত্চন্দ্রের ভাষায়, ‘দেবদাস ভাবিয়াছিল তাহাকে ছাড়া পার্বতী মরিয়া যাইবে, অথচ তাহার জ্বরটুকু অব্দি আসিল না!’

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর-১৭৩০

মা-বাবার অবহেলাকারীকে মহানবী (সা.)-এর অভিশাপ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মা-বাবার অবহেলাকারীকে মহানবী (সা.)-এর অভিশাপ
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবীতে মানুষ যাদের ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবে না, তারা হলেন মা-বাবা। সন্তান যখন নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও সচেতন নয়, তখন মা তাকে নিজের রক্ত-মাংস দিয়ে গড়ে তোলেন। মায়ের গর্ভধারণের কষ্ট, প্রসবের যন্ত্রণা, রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটানো এবং বাবার নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে মানুষ করার প্রতিদান পৃথিবীর কোনো সন্তানই পূর্ণভাবে দিতে পারে না।


এ কারণেই ইসলাম আল্লাহর হকের পরপরই মায়ের হককে গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বোলো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)

অন্য আয়াতে মায়ের কঠিন ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)

কোরআনের এই বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন মা। অথচ আজ অনেক সন্তান বৃদ্ধা মাকে বোঝা মনে করে, তার প্রয়োজনের খোঁজ নেয় না, এমনকি কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করে। অথচ ইসলাম এটিকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। হাদিস শরিফে এসেছে, আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) একদা তিনবার বললেন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? সবাই বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং মা-বাবার অবাধ্য হওয়া।
(বুখারি, হাদিস : ২৬৫৪)

নাউজুবিল্লাহ! মা-বাবাকে অবহেলা করা কতটা জঘন্য অপরাধ হলে এই হাদিসে শিরকের পরপরই মা-বাবার অবাধ্যতার কথা বলা হয়েছে। ইসলাম মা-বাবার অধিকারকে এতটাই প্রাধান্য দিয়েছে যে নফল ইবাদত রেখে তাদের আদেশ পালন করা বা তাদের খিদমত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বনি ইসরাঈলের বিখ্যাত আবেদ জুরাইজের ঘটনা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত শিক্ষণীয়। তিনি নির্জনে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। একদিন তার মা তাঁকে ডাকলেন। তিনি নফল নামাজে ছিলেন। মা কয়েকবার ডাকলেও তিনি নামাজ ছেড়ে সাড়া দিলেন না। এতে মা কষ্ট পেয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ! তাকে মৃত্যু দিও না, যতক্ষণ না তাকে ব্যভিচারিণীদের মুখোমুখি করো।’ মায়ের এই কষ্টের পরিণতিতে জুরাইজ ভয়াবহ পরীক্ষার সম্মুখীন হন। এক ব্যভিচারিণী নারী তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় যে তার গর্ভের সন্তানের পিতা জুরাইজ। লোকেরা তাঁর ইবাদতখানা ভেঙে দেয়, তাঁকে অপমানিত করে এবং জনসমক্ষে হেয় করে। পরে আল্লাহ অলৌকিকভাবে নবজাতক শিশুর মুখ দিয়ে সত্য প্রকাশ করেন এবং জুরাইজ নির্দোষ প্রমাণিত হন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৮২)

আরো পড়ুন
ইমাম তাবারি (রহ.) : জ্ঞান, সাধনা ও কর্মনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

ইমাম তাবারি (রহ.) : জ্ঞান, সাধনা ও কর্মনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

 

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কারো ইবাদত, ইলম, পদবি অনেক বড় থাকলেও মায়ের মনে কষ্ট দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব নয়। এর বিপরীতে কোনো ঈমানদার যদি তার মায়ের যত্ন নিতে পারে, তাহলে তা তার জন্য জান্নাতের দ্বার খুলে দিতে পারে। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। (নাসায়ি, হাদিস : ৩১০৪)

অর্থাৎ যে সন্তান মায়ের সেবা করবে, তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ হবে। আর যে ব্যক্তি সেই জান্নাত লাভের সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করবে, মা-বাবাকে অবহেলা করবে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাদের যত্ন নেবে না—তাদেরকে মহানবী (সা.) অভিশাপ দিয়েছেন। তারা সেই অভিশাপের আগুনে ছারখার হয়ে যাবে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক (সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক), আবার সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার তার নাক ধূলিমলিন হোক।’ জিজ্ঞেস করা হলো, কার হে আল্লাহর রাসুল (সা.)। তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার মা-বাবা উভয়কে কিংবা তাদের একজনকে বার্ধক্যজনিত অবস্থায় পেল, এরপরও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪০৫)

আহ! কত হৃদয়বিদারক কথা! বৃদ্ধ মা-বাবা ঘরে থাকা মানে জান্নাত অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ ঘরে থাকা। অথচ অনেকেই এই সুযোগকে বোঝা মনে করে। তাদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং নিজেকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করে—নিজেকে দুনিয়াতে লাঞ্ছনাকর কঠিন শাস্তির সম্মুখীন করে। কেননা হাদিসের ভাষ্য মতে, যেসব পাপের সাজা মহান আল্লাহ দুনিয়ায়ও দেন, তার একটি হলো মা-বাবার অবাধ্যতা ও অবহেলা।

মা-বাবার অবাধ্যতার আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো—এর শাস্তি শুধু আখিরাতে নয়, দুনিয়াতেও আসে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তার মর্জিমাফিক গুনাহসমূহের মধ্যে যেকোনো গুনাহের শাস্তি প্রদান কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহ, মা-বাবার অবাধ্যাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার গুনাহর শাস্তি অপরাধীর মৃত্যুর আগেই এই দুনিয়াতে দিয়ে থাকেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯৪)

আরো পড়ুন
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ১২ গুণ

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ১২ গুণ

 

ইতিহাস সাক্ষী, যে সন্তান মায়ের চোখের পানি ঝরিয়েছে, তার জীবন থেকে বরকত উঠে গেছে; আর যে সন্তান মায়ের দোয়া অর্জন করেছে, আল্লাহ তার জন্য এমন দরজা খুলে দিয়েছেন, যা সে কল্পনাও করেনি।

তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত যদি মা-বাবা জীবিত থাকেন, তবে তাদের পাশে বসা, তাদের কথা শোনা, তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করা, তাদের জন্য সময় বের করা। আর যদি তারা পৃথিবী থেকে চলে গিয়ে থাকেন, তবে তাদের জন্য দোয়া করা, সদকা করা এবং তাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা।

মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও মায়ের একটি দোয়া ফিরে পাবে না। কিন্তু যার মা জীবিত আছেন, তার কাছে এখনো জান্নাতের একটি দরজা খোলা আছে। সে একটু চেষ্টা করলেই মা-বাবার খিদমতের মাধ্যমে সে দরজা অতিক্রমের চাবি সংগ্রহ করতে পারে।

তাই প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য, মা-বাবাকে অবহেলা নয়, ভালোবাসা দেওয়া; বিরক্তি নয়, সম্মান দেওয়া; কষ্ট নয়, শান্তি দেওয়ার চেষ্টা করা। কারণ মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর মা-বাবার চোখের পানির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেসব অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন। মহানবী (সা.)-এর অভিশাপ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ৪ জুন ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ৪ জুন ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জিলহজ ১৪৪৭।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০০ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৩৬ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৪৭ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১২ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৪৭ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১০ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।