kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

মুমিনের বাসরঘর যেমন হবে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মুমিনের বাসরঘর যেমন হবে

বিয়ের পর বর-কনেকে একত্রে থাকার জন্য বাসরঘরের ব্যবস্থা করা ও কনেকে সাজিয়ে সুন্দর করে বরের সামনে উপস্থিত করা সুন্নত। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদিনায় এলাম এবং বনু হারিস গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জরে আক্রান্ত হলাম।

বিজ্ঞাপন

এতে আমার চুল পড়ে গেল। পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল, সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সঙ্গে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রুমান আমাকে উচ্চ স্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারিনি। তিনি আমার হাত ধরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। তখন আমি হাঁপাচ্ছিলাম। শেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হলো। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং তা দিয়ে আমার মুখমণ্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভেতর প্রবেশ করালেন। সেখানে কয়েকজন আনসারি নারী ছিলেন। তাঁরা বললেন, কল্যাণময়, বরকতময় ও সৌভাগ্যময় হোক। আমাকে তাঁদের কাছে দিয়ে দিলেন। তাঁরা আমার অবস্থান ঠিক করে দিলেন, তখন ছিল দ্বিপ্রহরের পূর্ব মুহূর্ত। হঠাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখে আমি হকচকিয়ে গেলাম। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে তুলে দিলেন। সে সময় আমি ছিলাম ৯ বছরের বালিকা। (বুখারি, হাদিস : ৩৮৯৪, ৩৮৯৬)

স্ত্রীর মাথার অগ্রভাগে হাত রেখে দোয়া করা :

বাসর রাতে বা তার আগে স্বামী স্ত্রীর মাথার সম্মুখভাগে হাত রেখে বরকতের দোয়া করবে। নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করবে অথবা চাকর ক্রয় করবে, সে যেন তার কপালে হাত রেখে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে অতঃপর বলে, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে তার মঙ্গল ও যে মঙ্গলের ওপর তাকে সৃষ্টি করেছেন তা প্রার্থনা করছি। আর তার অমঙ্গল ও যে অমঙ্গলের ওপর তাকে সৃষ্টি করেছেন তা থেকে আশ্রয় চাই। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৬০)

স্বামী-স্ত্রী একত্রে সালাত আদায় করা :

বাসর রাতে স্বামী নববধূকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। এটা মুস্তাহাব। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেন, স্ত্রী স্বামীর কাছে গেলে স্বামী দাঁড়িয়ে যাবে এবং স্ত্রী তার পেছনে দাঁড়াবে। অতঃপর তারা একসঙ্গে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং বলবে, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন এবং আমার ভেতরেও বরকত দিন পরিবারের জন্য। হে আল্লাহ, আপনি তাদের থেকে আমাকে রিজিক দিন আর আমার থেকে তাদেরও রিজিক দিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের যত দিন একত্রে রাখেন কল্যাণেই একত্রে রাখুন। আর আমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটান। ’ (তাবারানি, মুজামুল কাবির, হাদিস : ৮৯০০; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ৭৫৪৭)

সহবাস সম্পর্কিত কিছু করণীয় :

সহবাসকালে দোয়া পাঠ করা : সহবাসের আগে রাসুল (সা.) নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতে বলেছেন, ‘বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শায়তা-না ও জান্নিবিশ শায়তানা মা রাজাকতানা। ’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ, আমাদের শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন তাদের শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। ’ (বুখারি, হাদিস : ১৪১, ৩২৭১)

এ দোয়া পাঠ করে সহবাস করলে আল্লাহ যদি ওই স্বামী-স্ত্রীকে কোনো সন্তান দান করেন, তাহলে শয়তান সন্তানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি, হাদিস : ১৪১, ৩২৭১)

সহবাসে স্বাচ্ছন্দ্যময় পদ্ধতি গ্রহণ :

সহবাসের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর সম্মুখভাগে যে দিক দিয়ে ইচ্ছা সহবাস করতে পারে। উম্মু সালামা (রা.) বলেন, মুহাজিররা মদিনায় এসে আনসার নারীদের বিবাহ করলেন। মুহাজির নারীরা চিৎ হয়ে শয়ন করত। কিন্তু আনসার নারীরা চিৎ হয়ে শয়ন করত না। একবার এক মুহাজির ব্যক্তি তার আনসার স্ত্রীকে এরূপ করার ইচ্ছা করলে সে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস না করে তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। উম্মু সালামা (রা.) বলেন, ওই নারী রাসুল (সা.)-এর কাছে এলো; কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মু সালামা (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। এমন প্রেক্ষাপটে একটি আয়াত নাজিল হয়। আয়াতটি হলো—‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেতস্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেতে যেভাবে ইচ্ছা আগমন করো। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২২৩)

এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসুল (সা.) বলেন, ‘না, শুধু একই রাস্তায় সহবাস করা যাবে। ’ (মুসনাদ আহমাদ, ৭/৬১)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘স্ত্রীর কাছে আসো সম্মুখ ও পেছন উভয় দিক দিয়ে, যদি তা লজ্জাস্থান হয়। ’ (তাবরানি, কাবির, ৭/৬২)

নিষিদ্ধ স্থানে সহবাস করা যাবে না :

স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ (কিয়ামতের দিন) ওই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করে। ’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৬৩৯)

বাসরের পর অলিমা করা : 

বাসর-পরবর্তী সকালে বরের অন্যতম কর্তব্য হলো অলিমা করা। অলিমা করা সুন্নত। রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রী জায়নাব (রা.)-এর বিবাহে অলিমা করেছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৫১৬৮)। বাসর-পরিবর্তী তিন দিন অলিমা করা যায়। (আদাবুজ জিফাফ, পৃষ্ঠা ৭৪)



সাতদিনের সেরা