• ই-পেপার

আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় পলক আহত

বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীদের নিয়ে ১৫ সদস্যের বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীদের নিয়ে ১৫ সদস্যের বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটি
সংগৃহীত ছবি

আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থী শীর্ষ আইনজীবীদের নিয়ে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যাডহক কমিটিতে জামায়াতের দুজন শীর্ষ আইনজীবী ও এনসিপির একজন আইনজীবীকে রাখা হয়েছে।

অ্যাডহক কমিটিতে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান থাকবেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অ্যাডহক কমিটি সদস্যরা হলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, নাসির উদ্দিন অসীম, সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন। তারা সবাই বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

অ্যাডহক কমিটিতে জামায়াতের দুই আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যাডহক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন এনসিপির মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 4-এর Clause (2)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অ্যাডহক বার কাউন্সিল আগামীকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

নতুন মামলায়ও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন মামলায়ও খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
সংগৃহীত ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা হয়েছে। তবে আজকের মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই।

এর আগে এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ-র‍্যাবসহ কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় তার ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে একে একে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধে হাছান মাহমুদ ও নওফেলের বিচার শুরুর আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবতাবিরোধী অপরাধে হাছান মাহমুদ ও নওফেলের বিচার শুরুর আদেশ
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর জন্য আগামী ৬ আগস্ট প্রসিকিউশনের ‘সূচনা বক্তব্য’ উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এই আদেশ দেন।

এই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার আছেন। মঙ্গলবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। এরপর উপস্থিত আসামিদের কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, তাঁরা দোষ স্বীকার করেন কি না। উপস্থিত আসামিরা বলেন, তাঁরা নির্দোষ।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুল্যান্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে স্ট্রেচারে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। বিচারের কাজ চলার সময় এজলাসে স্ট্রেচারে শুয়ে ছিলেন তিনি।

মামলার ২২ আসামির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার। আর তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান ও আবদুল কাইয়ুম। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।

গত ২ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা। পরে ৫ এপ্রিল তা আমলে নিয়ে ৭ এপ্রিল পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

নতুন মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে খোবাইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। সেই সঙ্গে রুল জারি করে আদালত জানতে চান, কেন তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না।

হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাত মামলায় জামিনপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এক রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গত ১৭ মে রুলসহ এই আদেশ দেওয়া হয়।

হত্যা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১২ মে এই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগের পাঁচ মামলার জামিনও বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে খায়রুল হকের কারামুক্তির পথ খোলে। কিন্তু নতুন মামলায় ফের তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হক। সেই রিটে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার ও হয়রানী না করার নির্দেশ এসেছিল উচ্চ আদালত থেকে। এরপর কারামুক্তির অপেক্ষার মধ্যে গত ২৩ মে খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এ বি এম খায়রুল হককে। এ মামলায় গত ২১ জুন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় জামিন হওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।’

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আট দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁকে একে এক আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সব মামলাতেই তিনি এখন জামিনপ্রাপ্ত।