• ই-পেপার

বাজেট ২০২৬-২৭

ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটিতে পরিণত করেছে সরকার। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি কর্মসূচির জন্য মোট ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবার, প্রান্তিক কৃষক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রস্তুত করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের আওতায় এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানি বাবদ রাখা হয়েছে আরো এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সরকারি সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পাওয়ার পেছনে বিএনপির অন্যতম বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। এখন আগামী অর্থবছর থেকেই এটি সারা দেশে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শনিবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় প্রায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার এডিপির খসড়া প্রাথমিক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা আসবে সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এবং এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে। গত অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে প্রায় ৩০.৪৩ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য ও পরিকল্পনাসচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থায়নও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আয় কমে যাওয়া এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই সহায়তা বড় ভূমিকা রাখবে।

এডিপির নথিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভ রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করেই আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। প্রতিটি পরিবারকে মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচনী ইশতেহারে। প্রস্তাবিত ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ লাখ ৩০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাবে বলে হিসাব করা হয়েছে। গড়ে প্রতি পরিবারে ৪.২৬ জন সদস্য ধরে দেখা যাচ্ছে, প্রায় দুই কোটি ৫৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলট কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এসব পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং বিভিন্ন সরকারি সুবিধাও পাচ্ছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব অর্থ আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত শনাক্ত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বড় পরিসরের কর্মসূচির শুরুতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক। তবে প্রকল্পটিকে শতভাগ কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, কোথাও প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ পড়েছেন কি না বা অনিয়মের মাধ্যমে কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কি নাএসব বিষয় গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য যাচাই, তালিকা হালনাগাদ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে, যা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, নারীর সামাজিক স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায়ও প্রান্তিক কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ভোলায় মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত তোফায়েল আহমেদ

ভোলায় মা-বাবার কবরের পাশে সমাহিত তোফায়েল আহমেদ

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ

ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ | কালের কণ্ঠ