• ই-পেপার

মায়ের ‘ধর্ষক’কে গলা কেটে হত্যা করল চার ভাই

  • ৬ জেলায় ৪ খুন, ২ লাশ

আজকের খেলা

আজকের খেলা

পর্তুগাল-স্পেন (রাত ১টা)

যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম (কাল সকাল ৬টা)

হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৭৩৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট ৭৩৮

হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯২৫ জন। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল সাত শিশুর মধ্যে চারটিরই ঢাকায় এবং সিলেটে এক, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৩৮ শিশুর। এর মধ্যে হাম শনাক্ত ৯৩ শিশুর ও উপসর্গ নিয়ে ৬৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬১৮ শিশু। এ এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৬৩২ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ২৫০ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন। এ নিয়ে রোগটিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫ হাজার ১২২ জন।

এ বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৪২৩ জন। এটি মোট মৃত্যুর ৪৫.৩৯ শতাংশ ও আক্রান্তের ৪০.৯৪ শতাংশ।

এর আগে গত প্রায় সাত বছরে হামে ৪০০-এর বেশি সংক্রমণ হয়নি কোনো বছর। আর মৃত্যু হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনের। এর কারণ ছিল নিয়মিত টিকাদান। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দিতে চরম অবহেলা করা হয়। এ কারণেই এবার হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যু। হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মুখে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০ স্থানে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। আর দেশজুড়ে টিকা দেওয়া শুরু হয় ১৫ এপ্রিল থেকে। এর পরও হামের প্রকোপ যেমন কমেনি, তেমনি কমেনি শিশুর মৃত্যু। প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে হামকে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার দাবি ওঠে জনস্বাস্থ্যবিদদের পক্ষ থেকে। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

সরকারের সাম্প্রতিক ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় যত শিশু পৌঁছেছিল, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত তার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ কম শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ঘাটতি দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকার একটি কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও তা প্রত্যাশিত হারে কমছে না। রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা আইসোলেশনে রাখতে হয়, যা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বাড়তি জটিলতা তৈরি করছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক হামের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এই বড় জনগোষ্ঠী টিকার বাইরে থাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরো বাড়ানো জরুরি।

 

চিফ প্রসিকিউটর

তদন্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
তদন্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মো. আমিনুল ইসলাম

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল রবিবার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন। ঠিক ১০ মাস আগে গত বছর ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ৪ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই রাজনৈতিক দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। গতকাল ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জানতে চান আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না?

জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগটি আমরা যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে তদন্ত সংস্থা আছে, সেই সংস্থায় আমরা প্রেরণ করেছি। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার হবে কি হবে না, সেই বিষয়ে আমাদের সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত করার পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, আমার কাছে যদি রিপোর্ট দাখিল করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। আপাতত অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, এই বিষয়ে আমাদের তদন্ত সংস্থায় তদন্ত চলমান আছে।

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের পাশাপাশি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও আওয়ামী লীগের অপরাধের তদন্ত করার সুযোগ আছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে গত বছর ৮ মে রাতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একদল নেতাকর্মী। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপি মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরদিন এই অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানায় জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এদিন এনসিপির নেতাকর্মীরা মিন্টো রোডের প্রবেশ মুখে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশও করেন। পরে মিন্টো রোড থেকে সরে এসে তাঁরা শাহবাগে অবস্থান নেন। ১০ মে বিকেলে সেখানে গণজমায়েত করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এর কিছু সময় পরই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলার মধ্যে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে সরে এসে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে অবস্থান নেন। রাত ১০টার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছিলেন ওই সময়ের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছিলেন, সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক দল, দলের অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

বাংলা একাডেমির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও তাঁর সাবেক ছাত্র অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানান, রবিবার দুপুরে মিরপুর-১ নম্বর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শুচিতা শারমিন জানান, আজ সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর জানাজা হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় বাংলা একাডেমিতে কফিন রাখা হবে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর দাফন হবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের শোক : অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার যৌথভাবে এই শোকবার্তা প্রদান করেন।

শোকবার্তায় সাদা দল তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও জাতীয় জ্ঞানচর্চায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অবদান অনন্য। তাঁর গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তা-ভাবনা দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অসামান্য অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমগ্র জাতি দীর্ঘদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পর ২০১১ সালে অবসর নিলেও সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পরে আহমদ শরীফ চেয়ারের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকায় অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। স্বাধীনতার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে লেখালেখি, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে লেখক-প্রকাশক ও মুক্তচিন্তার কর্মী ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন। মেয়ে ড. শুচিতা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবুল কাসেম ফজলুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রথম বই মুক্তিসংগ্রাম প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। সুন্দরমলোকায়ত নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, রাজনীতি দর্শন, সাহিত্য চিন্তা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা, সংস্কৃতির সহজ কথাসহ ৩২টির মতো মৌলিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর।

সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখক শিবির হুমায়ুন কবির স্মারক পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।