পর্তুগাল-স্পেন (রাত ১টা)
যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম (কাল সকাল ৬টা)

ময়মনসিংহে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর চার ছেলে গলা কেটে হত্যা করেছে অভিযুক্ত যুবককে। নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ গেছে এক যুবকের। চট্টগ্রামে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মারা গেছেন আরেক যুবক। বগুড়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে সন্ত্রাসীদের হামলায় জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকায় মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ময়মনসিংহ : নগরীতে এক নারীকে ধর্ষণের পর অভিযুক্ত যুবককে তাঁর বাসায় ঢুকে গলা কেটে হত্যা করেছে ভুক্তভোগী নারীর চার ছেলে। এই অভিযোগ ওঠার পর ভাইদের দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
গতকাল সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল (৩৫) আর কে মিশন রোডের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল আকুয়া ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসাভাড়া নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে থাকত। বন্ধুরা সবাই আপন ভাই। গত শুক্রবার বন্ধুদের মাকে ধর্ষণ করে রাজিব। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীর চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছি। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ (সিটি) : ফতুল্লায় ছিনতাইকারী সন্দেহে বাসা থেকে ধরে নেওয়ার পর এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিজান (২৫) ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাওসার আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য রাতে সিজানকে তাঁর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযুক্ত ইমাম কাওসার আহমেদ দাবি করেন, সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। তাঁকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে ডেকে বুঝিয়ে বলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করে।
এদিকে সিজানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রাম : হাটহাজারীতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে বেলাল হোসেন (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বেলালের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় থাকতেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, একজনের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি বেলালের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বগুড়া : দুপচাঁচিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে আপন চাচার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা মারা গেছেন। শনিবার রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ছিলেন। এর আগে গত ১ জুলাই রাতে মামলার প্রধান আসামি চাচা আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রীকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা : হাতিরঝিল থানার মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহত তাহমিদুল ইসলাম (১০) আল-ফুরকান মসজিদ মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কাজীপুর গ্রামের শাহিন রেজার ছেলে।
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, শনিবার রাতে মাদরাসার ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সহপাঠীসহ অন্যরা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল : সদর উপজেলায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে খবর পেয়ে মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ী এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’

হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯২৫ জন। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গতকাল সাত শিশুর মধ্যে চারটিরই ঢাকায় এবং সিলেটে এক, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৩৮ শিশুর। এর মধ্যে হাম শনাক্ত ৯৩ শিশুর ও উপসর্গ নিয়ে ৬৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬১৮ শিশু। এ এ সময় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৬৩২ শিশুর। মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ২৫০ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭৮ জন। এ নিয়ে রোগটিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮ হাজার ৮৪৪ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫ হাজার ১২২ জন।
এ বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৪২৩ জন। এটি মোট মৃত্যুর ৪৫.৩৯ শতাংশ ও আক্রান্তের ৪০.৯৪ শতাংশ।
এর আগে গত প্রায় সাত বছরে হামে ৪০০-এর বেশি সংক্রমণ হয়নি কোনো বছর। আর মৃত্যু হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজনের। এর কারণ ছিল নিয়মিত টিকাদান। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দিতে চরম অবহেলা করা হয়। এ কারণেই এবার হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যু। হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মুখে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০ স্থানে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়। আর দেশজুড়ে টিকা দেওয়া শুরু হয় ১৫ এপ্রিল থেকে। এর পরও হামের প্রকোপ যেমন কমেনি, তেমনি কমেনি শিশুর মৃত্যু। প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে হামকে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার দাবি ওঠে জনস্বাস্থ্যবিদদের পক্ষ থেকে। তবে সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।
সরকারের সাম্প্রতিক ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় যত শিশু পৌঁছেছিল, হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত তার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ কম শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ঘাটতি দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকার একটি কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ কিছুটা কমলেও তা প্রত্যাশিত হারে কমছে না। রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা আইসোলেশনে রাখতে হয়, যা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বাড়তি জটিলতা তৈরি করছে।
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক হামের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। এই বড় জনগোষ্ঠী টিকার বাইরে থাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরো বাড়ানো জরুরি।

বাংলা একাডেমির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও তাঁর সাবেক ছাত্র অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানান, রবিবার দুপুরে মিরপুর-১ নম্বর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শুচিতা শারমিন জানান, আজ সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর জানাজা হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টায় বাংলা একাডেমিতে কফিন রাখা হবে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। পরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর দাফন হবে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের শোক : অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার যৌথভাবে এই শোকবার্তা প্রদান করেন।
শোকবার্তায় সাদা দল তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও জাতীয় জ্ঞানচর্চায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অবদান অনন্য। তাঁর গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তা-ভাবনা দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অসামান্য অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমগ্র জাতি দীর্ঘদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পর ২০১১ সালে অবসর নিলেও সুপারনিউমারারি অধ্যাপক এবং পরে আহমদ শরীফ চেয়ারের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকায় অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। স্বাধীনতার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসে লেখালেখি, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে লেখক-প্রকাশক ও মুক্তচিন্তার কর্মী ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন। মেয়ে ড. শুচিতা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে আবুল কাসেম ফজলুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর প্রথম বই ‘মুক্তিসংগ্রাম’ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’সহ ৩২টির মতো মৌলিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর।
সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখক শিবির হুমায়ুন কবির স্মারক পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।