সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার পর ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। এতে তাঁরা শুধু আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা-ই নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) কাজ শুরু না হওয়ায় শিক্ষকরা নতুন গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না। এই ছয় মাসেও বেতন নির্ধারণের দাপ্তরিক কাজটুকু কেন সম্পন্ন হলো না, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সর্বাত্মক অবস্থান নেবেন।
কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীত করা হয়। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারির দিনই প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের জন্য চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিন্তু হতাশার ব্যাপার হলো, আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের বেতনকাঠামো সময়োপযোগী করার দাবি আজকের নয়। ২০১৪ সালে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দশম গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদার দাবিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৪৫ জন শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার রায় দেন আদালত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর সব প্রধান শিক্ষক একযোগে মামলার প্রস্তুতি নিলে প্রধান শিক্ষকের পদটিই দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার।
বাস্তবতা হলো, সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের টানাপোড়েন অনেক। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯ হলেও মাত্র ৩০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকিগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত দিয়ে দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। অনেক দিন হলো পদোন্নতি নেই।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন না হওয়ার ব্যাপারটি এত দিন আমার নজরে আনা হয়নি। সম্প্রতি ব্যাপারটি জানতে পেরেছি। যেকোনো মূল্যে বিষয়টি আমরা সমাধান করব।’
আশা করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অবিলম্বে বেতন নির্ধারণে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করা হবে।

