খুলনায় পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ অভিযানের মধ্যেই দিনদুপুরে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বগুড়ায় এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ ও গাজীপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন সোহেলি ইসলাম নামের এক নারী। প্রায় প্রতিদিন এমন বহু ঘটনা বলে দিচ্ছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, খুলনার লবণচরা মাথাভাঙ্গা এলাকায় গত শুক্রবার দুপুরে একটি দোকানে বসেছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে মুহূর্তেই চলে যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান রফিকুল। একই দিন অর্থাৎ গত শুক্রবারই জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে থাকা ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’। এ সময় দুজন মোটরসাইকেলে এসে ফিল্মি স্টাইলে পলাশকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ রকম ঘটনা একটি-দুটি নয়, অনেক।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, রাজধানীসহ প্রতিটি জেলায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বেড়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৩২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়েছে ৩৩১ জন। ছিনতাইকারী, দস্যু-ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে দুই হাজার ২১১ জন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ৮০৮ জন। কিন্তু এসব অভিযান যে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল তা পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
দেখা যাচ্ছে, দিন দিন অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা নিত্যনতুন কায়দায় অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাদের হাতে উঠেছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। জানা গেছে, সীমান্ত দিয়েও দেশে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে। কিন্তু হতাশার দিক হলো, সে তুলনায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ছে না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে উল্টো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই আক্রান্ত হয়েছেন।
আমরা মনে করি, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাদের নিয়মিত ও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। অভিযানের পরিসর বাড়াতে হবে। অপরাধ করে কেউ যেন পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

