রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। এই ফোনালাপে ট্রাম্প আবারও ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে গতকাল রবিবার জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চলতি বছর এটি দুই নেতার চতুর্থ ফোনালাপ। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই আলোচনাকে ‘ব্যাবসায়িক সুলভ এবং অত্যন্ত গঠনমূলক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ট্রাম্প ইউক্রেন সংঘাতের দ্রুততম অবসান ঘটাতে তাঁর প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে রাশিয়া এই সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তাদের অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় পৃষ্ঠপোষকরা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে।
তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে এবং ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেত্স্ক অঞ্চলে রুশ বাহিনীর জোরদার অভিযানের পটভূমিতে এই ফোনালাপটি অনুষ্ঠিত হলো। রাশিয়ার দাবি, তারা দোনেেস্কর গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এই দাবিকে ‘ভুল তথ্য’ এবং রাশিয়ার ‘মিথ্যাচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের দাবি, ছোট ছোট রুশ দল অনুপ্রবেশ করলেও তাদের প্রতিহত করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, গত শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ‘খুব অর্থবহ ফোনালাপ’ হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষ করার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির পাশাপাশি ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। গত শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। গত এক মাসে রাশিয়ার আটটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ৬০টিরও বেশি স্টোরেজ ট্যাংক ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএসডব্লিউয়ের মতে, ইউক্রেনের এই পাল্টা কৌশল রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সূত্র : সিএনএন