ভাইভা হয়েছিল ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। বোর্ড চেয়ারম্যান ছিলেন বিজ্ঞ সদস্য নুরুল কাদির স্যার। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম আনুমানিক ১৫ মিনিট। সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে ভাইভা রুমে ঢুকে অনুমতি নিয়ে বসলাম।
চেয়ারম্যান : মি. নূরে আলম জাবেদ, আপনি কবে থেকে বিসিএসের ট্র্যাকে আছেন?
—স্যার, ৪৩তম বিসিএস থেকে।
কী পেয়েছেন এখন পর্যন্ত?
—স্যার, একটা নন-ক্যাডার পদ।
নন-ক্যাডার পাওয়ার জন্য এসেছেন?
—স্যার, ক্যাডার পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মানে, বিসিএস না পেয়ে ছাড়বেন না? চেষ্টা করেই যাবেন?
—(স্মিত হেসে) স্যার, ছাড়ার উপায় নেই! বারবার আসাই লাগছে। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
দ্যাটস গুড। এবার প্রশ্নে আসি। প্রথম প্রশ্নটা মন দিয়ে শুনুন, কোনো টাইম নেওয়া যাবে না। তাৎক্ষণিক বলবেন। লেখা ছাড়াও কলম আর কী কী কাজে ব্যবহার হতে পারে, বলুন।
—স্যার, ছোটবেলায় পেন ফাইট খেলতাম কলম দিয়ে। পেপারওয়েট হিসেবে, আত্মরক্ষায় (জন উইকের অ্যাকশন সিনে দেখেছিলাম) এবং কলমের মুখ ক্লিপের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
Now tell me, which one is faster? Law or technology? What’s the relationship between them?
—টেকনোলজি ফাস্টার। কারণ এটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। কিন্তু ‘ল মেকিং’ নির্ধারিত প্রসেসের মাধ্যমে হয়, সময়সাপেক্ষ। সম্পর্ক হচ্ছে দুইটাই পরিবর্তনশীল, স্থির নয়। তবে টেকনোলজি দ্রুত আপডেট হওয়ায় ‘ল’ যদি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন না হয়, তখন বিভিন্ন লুপহোল তৈরি হয় সিস্টেমে।
How invest diversification reduces risk? Explain briefly.
—Don’t put all your eggs in one busket থিওরিটা এক্সপ্লেইন করলাম।
How planning affects persons and business?
(‘A good plan is work half done’ ব্যাখ্যা করলাম। বললাম—প্ল্যানিংয়ের ওপর সফলতার সম্ভাব্যতা নির্ভর করে।)
How is inflation related to purchasing power?
(ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা দিলাম—কিভাবে ডিমান্ডের তুলনায় সাপ্লাই কম থাকলে মুদ্রার মানের অবনমন হয়।)
একটা মুভির নাম বলছি, সেটাকে কয়েকটি শব্দে এক্সপ্রেস করবেন—‘টুয়েলভথ ফেইল’।
—সৎ উদ্দেশ্যে কোনো কিছুর জন্য ডেডিকেশন নিয়ে পরিশ্রম করলে স্রষ্টা সহায় হন।
আচ্ছা জাবেদ, বলুন তো মৃত নক্ষত্র কি আমরা দেখতে পাই?
—(ভাবলাম মৃত গুণী ব্যক্তিদের কথা বুঝিয়েছেন) যাঁদেরকে কর্ম দিয়ে মনে রাখি, তাঁদেরকে আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই!
আকাশের মৃত নক্ষত্রের কথা বলুন, দেখতে পাই আমরা?
—দুঃখিত স্যার, জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম।
Okay, last question for you. Define dead weight loss in case of market efficiency.
(প্রথমে মার্কেট এফিসিয়েন্সি ডিফাইন করেছিলাম। পরে বললাম, দুঃখিত স্যার, ‘ডেড ওয়েট লস’ টার্মটা আমার জানা ছিল, এই মুহূর্তে রিলেট করতে পারছি না।)
এক্সটার্নাল-১ (ম্যাডাম) : সরকারি চাকরিতে কেন আসতে চান?
—ম্যাম, আমি এরই মধ্যে একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছি।
কিসে আছেন এখন?
—ম্যাম, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসবে কর্মরত আছি।
Give a speech as a foreign delegate representing Bangladesh in one minute.
(অ্যাডমিন ক্যাডার পছন্দক্রম তালিকায় প্রথমে থাকায় এই প্রশ্ন প্রত্যাশা করিনি। তাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম মনে মনে। তবু ঠোঁটে হাসি রেখে দাঁড়িয়ে বলার অনুমতি নিলাম। ম্যাডাম বসেই বলতে বললেন। প্রথমে ফর্মাল সম্বোধন করে জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশন, বিগ ইন্টার্নাল মার্কেট, কালচারাল হেরিটেজ, লংগেস্ট সি-বিচ, বিগেস্ট ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ইত্যাদি টেনে শেষে বিদেশিদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলাম। তখন ম্যাডাম ইশারা দিয়ে বোঝালেন ঘড়িতে এখনো এক মিনিট হয়নি।)
ফার্স্ট চয়েস কোনটা?
—ম্যাম, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার।
প্রশাসনে কেন আসতে চান?
—দেশের জন্য, মানুষের জন্য কন্ট্রিবিউট করার ইচ্ছা; জব ডাইভার্সিটি; সোশ্যাল রিকগনিশন ইত্যাদি কারণে।
What are the divisions of Administrative System?
(আমি স্থানীয় প্রশাসনের স্তরগুলো বললাম।)
Tell the difference between Manner vs Etiquette.
—Manner is a person’s natural way of behaving, while etiquette is the socially accepted rule that guides how one should behave in a given situation.
এক্সটার্নাল-২ : কেমন প্রশাসন আপনি প্রত্যাশা করেন বা দেখতে চান?
—একটি জনবান্ধব প্রশাসন প্রত্যাশা করি, যে প্রশাসনের কাছে মানুষ আসবে না, বরং প্রশাসনের লোকজনই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
কিভাবে এটা করবেন?
—স্যার, আমি এ ক্ষেত্রে একটি প্রশাসন-জনগণ ব্রিজ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব। হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি, ফেসবুক গ্রুপ—এমন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ইন্টিগ্রেট করে একটি ডেডিকেটেড টিম দ্বারা রিয়াল-টাইম সার্ভিস চালু করব। এখানে স্থানীয় জনগণ যেকোনো সময় তাদের যেকোনো সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করতে পারবে। প্রশাসনও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবে।
আচ্ছা, এখন তো কথায় কথায় অনেক আন্দোলন হয়। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কী পদক্ষেপ নেবেন?
—প্রথমেই হ্যান্ডমাইক ইউজ করে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেব—আমরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মনোযোগসহকারে শুনতে চাই। এ জন্য তাদের মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধিকে আমাদের সঙ্গে বসে লিখিত আকারে দাবি পেশ করতে আহবান জানাব। পরে তাদের আশ্বস্ত করব, এই দাবিগুলো নিয়ে আমরা নির্ধারিত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। যৌক্তিক দাবিগুলো যাতে পূরণ করা হয়, এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাব।
(এক্সটার্নাল-২ স্যারের প্রশ্নের উত্তর চেয়ারম্যান স্যার খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। শেষ প্রশ্নটির পরই স্যাররা আমাকে ছেড়ে দেন।)



কয়েক বছর আগে অ্যালগরিদমিক ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক খাতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার এই পরিবর্তনকে আরো বেগবান করেছে। বর্তমানে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আধুনিক এআই সিস্টেম এখন বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পড়তে, হিসাব-নিকাশের ভুল শনাক্ত করতে এবং ব্যাংকিংসংক্রান্ত নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজিয়ে রাখতে সক্ষম। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ফিন্যান্স খাতে এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষকের মতে, এআই পুরো কর্মশক্তির জায়গা দখল করবে না। অর্থাৎ পুরো কার্যক্রমের কিছু কিছু অংশের জায়গা নেবে এআই। তবে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে ফিন্যান্স পেশাজীবীদের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যাঁরা আর্থিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে সফলভাবে টিকে থাকবেন।
