• ই-পেপার

২৮০ অফিস সহায়ক নেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

ভাইভা অভিজ্ঞতা

কথায় কথায় আন্দোলন, কী পদক্ষেপ নেবেন?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে পড়ছেন নূরে আলম জাবেদ। তিনি ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

কথায় কথায় আন্দোলন, কী পদক্ষেপ নেবেন?
নূরে আলম জাবেদ

ভাইভা হয়েছিল  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫। বোর্ড চেয়ারম্যান ছিলেন বিজ্ঞ সদস্য নুরুল কাদির স্যার। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম আনুমানিক ১৫ মিনিট। সালাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে ভাইভা রুমে ঢুকে অনুমতি নিয়ে বসলাম।

 

চেয়ারম্যান : মি. নূরে আলম জাবেদ, আপনি কবে থেকে বিসিএসের ট্র্যাকে আছেন?

—স্যার, ৪৩তম বিসিএস থেকে।

কী পেয়েছেন এখন পর্যন্ত?

—স্যার, একটা নন-ক্যাডার পদ।

নন-ক্যাডার পাওয়ার জন্য এসেছেন?

—স্যার, ক্যাডার পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মানে, বিসিএস না পেয়ে ছাড়বেন না? চেষ্টা করেই যাবেন?

—(স্মিত হেসে) স্যার, ছাড়ার উপায় নেই! বারবার আসাই লাগছে। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

দ্যাটস গুড। এবার প্রশ্নে আসি। প্রথম প্রশ্নটা মন দিয়ে শুনুন, কোনো টাইম নেওয়া যাবে না। তাৎক্ষণিক বলবেন। লেখা ছাড়াও কলম আর কী কী কাজে ব্যবহার হতে পারে, বলুন।

—স্যার, ছোটবেলায় পেন ফাইট খেলতাম কলম দিয়ে। পেপারওয়েট হিসেবে, আত্মরক্ষায় (জন উইকের অ্যাকশন সিনে দেখেছিলাম) এবং কলমের মুখ ক্লিপের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

Now tell me, which one is faster? Law or technology? What’s the relationship between them?

—টেকনোলজি ফাস্টার। কারণ এটি প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। কিন্তু ‘ল মেকিং’ নির্ধারিত প্রসেসের মাধ্যমে হয়, সময়সাপেক্ষ। সম্পর্ক হচ্ছে দুইটাই পরিবর্তনশীল, স্থির নয়। তবে টেকনোলজি দ্রুত আপডেট হওয়ায় ‘ল’ যদি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন না হয়, তখন বিভিন্ন লুপহোল তৈরি হয় সিস্টেমে।

How invest diversification reduces risk? Explain briefly.

—Don’t put all your eggs in one busket থিওরিটা এক্সপ্লেইন করলাম।

How planning affects persons and business?

(‘A good plan is work half done’ ব্যাখ্যা করলাম। বললাম—প্ল্যানিংয়ের ওপর সফলতার সম্ভাব্যতা নির্ভর করে।)

How is inflation related to purchasing power?

(ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা দিলাম—কিভাবে ডিমান্ডের তুলনায় সাপ্লাই কম থাকলে মুদ্রার মানের অবনমন হয়।)

একটা মুভির নাম বলছি, সেটাকে কয়েকটি শব্দে এক্সপ্রেস করবেন—‘টুয়েলভথ ফেইল’।
—সৎ উদ্দেশ্যে কোনো কিছুর জন্য ডেডিকেশন নিয়ে পরিশ্রম করলে স্রষ্টা সহায় হন।

আচ্ছা জাবেদ, বলুন তো মৃত নক্ষত্র কি আমরা দেখতে পাই?

—(ভাবলাম মৃত গুণী ব্যক্তিদের কথা বুঝিয়েছেন) যাঁদেরকে কর্ম দিয়ে মনে রাখি, তাঁদেরকে আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই!

আকাশের মৃত নক্ষত্রের কথা বলুন, দেখতে পাই আমরা?

—দুঃখিত স্যার, জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই কম।

Okay, last question for you. Define dead weight loss in case of market efficiency.

(প্রথমে মার্কেট এফিসিয়েন্সি ডিফাইন করেছিলাম। পরে বললাম, দুঃখিত স্যার, ‘ডেড ওয়েট লস’ টার্মটা আমার জানা ছিল, এই মুহূর্তে রিলেট করতে পারছি না।)

 

এক্সটার্নাল-১ (ম্যাডাম) : সরকারি চাকরিতে কেন আসতে চান?

—ম্যাম, আমি এরই মধ্যে একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছি।

কিসে আছেন এখন?

—ম্যাম, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসবে কর্মরত আছি।

Give a speech as a foreign delegate representing Bangladesh in one minute.

(অ্যাডমিন ক্যাডার পছন্দক্রম তালিকায় প্রথমে থাকায় এই প্রশ্ন প্রত্যাশা করিনি। তাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম মনে মনে। তবু ঠোঁটে হাসি রেখে দাঁড়িয়ে বলার অনুমতি নিলাম। ম্যাডাম বসেই বলতে বললেন। প্রথমে ফর্মাল সম্বোধন করে জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশন, বিগ ইন্টার্নাল মার্কেট, কালচারাল হেরিটেজ, লংগেস্ট সি-বিচ, বিগেস্ট ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ইত্যাদি টেনে শেষে বিদেশিদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করলাম। তখন ম্যাডাম ইশারা দিয়ে বোঝালেন ঘড়িতে এখনো এক মিনিট হয়নি।)
ফার্স্ট চয়েস কোনটা?

—ম্যাম, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার।

প্রশাসনে কেন আসতে চান?

—দেশের জন্য, মানুষের জন্য কন্ট্রিবিউট করার ইচ্ছা; জব ডাইভার্সিটি; সোশ্যাল রিকগনিশন ইত্যাদি কারণে।

What are the divisions of Administrative System?

(আমি স্থানীয় প্রশাসনের স্তরগুলো বললাম।)

Tell the difference between Manner vs Etiquette.

—Manner is a person’s natural way of behaving, while etiquette is the socially accepted rule that guides how one should behave in a given situation.

 

এক্সটার্নাল-২ : কেমন প্রশাসন আপনি প্রত্যাশা করেন বা দেখতে চান?

—একটি জনবান্ধব প্রশাসন প্রত্যাশা করি, যে প্রশাসনের কাছে মানুষ আসবে না, বরং প্রশাসনের লোকজনই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

কিভাবে এটা করবেন?

—স্যার, আমি এ ক্ষেত্রে একটি প্রশাসন-জনগণ ব্রিজ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব। হোয়াটসঅ্যাপ কমিউনিটি, ফেসবুক গ্রুপ—এমন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ইন্টিগ্রেট করে একটি ডেডিকেটেড টিম দ্বারা রিয়াল-টাইম সার্ভিস চালু করব। এখানে স্থানীয় জনগণ যেকোনো সময় তাদের যেকোনো সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করতে পারবে। প্রশাসনও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবে।

আচ্ছা, এখন তো কথায় কথায় অনেক আন্দোলন হয়। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে কী পদক্ষেপ নেবেন?

—প্রথমেই হ্যান্ডমাইক ইউজ করে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেব—আমরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মনোযোগসহকারে শুনতে চাই। এ জন্য তাদের মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধিকে আমাদের সঙ্গে বসে লিখিত আকারে দাবি পেশ করতে আহবান জানাব। পরে তাদের আশ্বস্ত করব, এই দাবিগুলো নিয়ে আমরা নির্ধারিত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। যৌক্তিক দাবিগুলো যাতে পূরণ করা হয়, এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাব।

 

(এক্সটার্নাল-২ স্যারের প্রশ্নের উত্তর চেয়ারম্যান স্যার খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। শেষ প্রশ্নটির পরই স্যাররা আমাকে ছেড়ে দেন।)

 

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারে। দ্রুত, নির্ভুল ও দক্ষতার সঙ্গে অনেক মানুষের কাজ করতে পারে বলে আজকাল ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে বিভিন্ন সেক্টরের কর্মীরা চাকরি হারাবে ঠিকই, কিন্তু নতুন করে চাকরির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। আরো জানাচ্ছেন হাবিব তারেক

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে এআই। কাজের ধরন ও দক্ষতার চাহিদাও বদলে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। এর ফলে নতুন পেশা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বেশ কিছু পদ বা পেশার চাহিদা একেবারেই কমে যাবে। এগুলোর মধ্যে আছে—প্রশাসনিক সহায়ক কর্মী, ক্যাশিয়ার, গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস ক্লার্ক। এ ছাড়া সশরীরে যোগাযোগ বা উপস্থিতির প্রয়োজন কম এমন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও পর্যায়ক্রমে এআইয়ের দখলে চলে যাবে।

 

এন্ট্রি লেভেলের চাকরির ভবিষ্যৎ

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতের এন্ট্রি লেভেলের (কর্মজীবনের প্রাথমিক স্তর) চাকরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আগে যেসব কাজ নতুন কর্মীদের ওপর ন্যস্ত করা হতো, এখন এ ধরনের কাজ এআই দিয়েই করা যাচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব পদে কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রবণতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি এআইয়ের দখলে গেলেও নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে দক্ষ কর্মীদেরই চাহিদা বাড়ছে। বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিওর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা এ  ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মসংস্থান ৬৭ শতাংশ বাড়তে পারে।

 

যেসব চাকরি টিকে থাকবে

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনেক পেশার চাহিদা আগামী বছরগুলোতে বাড়তে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডেটা সায়েন্টিস্ট, আর্থিক নিরীক্ষক (ফিন্যানশিয়াল এক্সামিনার), তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপক এবং অপারেশনস রিসার্চ বিশ্লেষক। তবে ভবিষ্যতের শ্রমবাজার সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন বলে মনে করেন ড. ম্যাকঅসলান। তাঁর ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে এমন কোনো পেশার কথা বলা কঠিন, যেটি শতভাগ নিরাপদ থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে রোবটিকস প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি আরো অনেক পেশা পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। তবে আপাতত যেসব কাজে শারীরিক পরিশ্রম, হাতে-কলমে দক্ষতা বা বাস্তব পরিবেশে কাজ করার প্রয়োজন হয়, সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।’

 

ফিন্যান্স খাতে এআইয়ের প্রভাব

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎকয়েক বছর আগে অ্যালগরিদমিক ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক খাতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার এই পরিবর্তনকে আরো বেগবান করেছে। বর্তমানে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আধুনিক এআই সিস্টেম এখন বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পড়তে, হিসাব-নিকাশের ভুল শনাক্ত করতে এবং ব্যাংকিংসংক্রান্ত নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজিয়ে রাখতে সক্ষম। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ফিন্যান্স খাতে এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষকের মতে, এআই পুরো কর্মশক্তির জায়গা দখল করবে না। অর্থাৎ পুরো কার্যক্রমের কিছু কিছু অংশের জায়গা নেবে এআই। তবে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে ফিন্যান্স পেশাজীবীদের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যাঁরা আর্থিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে সফলভাবে টিকে থাকবেন।

 

সম্ভাব্য ঝুঁকি

এআইয়ের কারণে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজে আর কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন পড়ছে না; বিশেষ করে যেসব কাজে পুনরাবৃত্তিমূলক তথ্য বিশ্লেষণ, হিসাব সংরক্ষণ বা ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ বেশি। এগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বা এআইয়ের মাধ্যমে সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী কমাতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে জুনিয়র বিশ্লেষক, এন্ট্রি লেভেল অ্যাসোসিয়েট, বুককিপিং ও সাধারণ হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত পদগুলোতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মূলত সাধারণ ও রুটিন কাজগুলো করছে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যাবসায়িক বিশ্লেষণ এবং নৈতিক তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো দক্ষ জনবলের শতভাগ বিকল্প তৈরি হয়নি। এআই সহজেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যার অন্তর্নিহিত বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাই বিশেষ ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলেরই প্রয়োজন হবে।

 

দক্ষতায় জোর দিন

ভবিষ্যতে ফিন্যান্স পেশাজীবীদের শুধু হিসাব-নিকাশ জানলেই চলবে না; টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্ব দানের গুণাবলিও থাকতে হবে।

 

প্রযুক্তিগত দক্ষতা

►      ডেটা অ্যানালিটিকস সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা

►      ক্লাউডভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা

►      এআই ও অটোমেশন টুল সম্পর্কে ধারণা।

 

ব্যক্তিগত দক্ষতা

►      বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি

►      কার্যকর যোগাযোগ

►      নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

      নতুন ধারণা উপস্থাপনের আত্মবিশ্বাস।

 

 

যাঁদের কদর বাড়ছে

এআই অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার—ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং

এই পদের পেশাজীবীরা হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি ও পরিচালনা করেন। করপোরেট অ্যাকাউন্টিং, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেশিন লার্নিংয়েও তাঁদের দক্ষ হতে হয়।

 

এআইনির্ভর ফিন্যানশিয়াল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস ম্যানেজার

রিয়াল-টাইম ডেটা ও এআই মডেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয় ও নগদ প্রবাহের পূর্বাভাস তৈরি করেন এই পদের কর্মকর্তারা। প্রচলিত আর্থিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ডেটা বিশ্লেষণ দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

এআই গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার

এই পদের কর্মকর্তারা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, আইন ও নিয়ন্ত্রক নীতিমালা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেন। অ্যালগরিদম পর্যালোচনা, তথ্যগত ত্রুটি বা নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করাও তাঁদের কাজের অংশ।

 

এআই রেভিনিউ অপারেশনস অ্যানালিস্ট

বিক্রয়, বিপণন ও অর্থ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ খুঁজে বের করেন এই বিশেষজ্ঞরা। ব্যাবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এআই কোয়ান্টিটেটিভ পোর্টফোলিও স্ট্র্যাটেজিস্ট

এই পেশাজীবীরা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিনিয়োগ কৌশল তৈরি ও পরিচালনা করেন। বাজারের গতিবিধি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ভোক্তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করে তাঁরা বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেন।

 

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ৭২৫ জন অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে সমন্বিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে। আবেদনের শেষ তারিখ ২ জুলাই ২০২৬। সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে, ৪৭১ জন।

 

কোন ব্যাংকে কত পদ

রূপালী ব্যাংক—৮০টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক—১৬টি, বেসিক ব্যাংক—১৩টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক—৪৭১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—৪৭টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন—২২টি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ—২টি, কর্মসংস্থান ব্যাংক—৭২টি এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক—২টি।

 

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি

নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে হবে এমসিকিউ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বাংলা (২৫), ইংরেজি (২৫), সাধারণ গণিত (২০), সাধারণ জ্ঞান (২০) ও কম্পিউটার জ্ঞানের (১০) ওপর প্রশ্ন করা হয়। সব মিলিয়ে মান ১০০। নেগেটিভ মার্কিং থাকবে কি না সেটি পরীক্ষার শুরুতেই প্রশ্নপত্রে ভালো করে খেয়াল করে নিতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখতে পারেন। বাসায় মডেল টেস্টও দিতে পারেন বিগত পরীক্ষার প্রশ্নের আলোকে। বিগত পরীক্ষাগুলোতে বাংলায় ব্যাকরণ থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এবং সাহিত্য থেকে তুলনামূলক কম প্রশ্ন এসেছে। বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ‘ভাষা শিক্ষা’ বইটি সহায়ক হবে। ইংরেজি বিষয়ে গ্রামার ও ভোকাবুলারি থেকে প্রশ্ন এলেও ইংরেজি সাহিত্য থেকে তেমন প্রশ্ন আসে না বললেই চলে। ইংরেজিতে প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লাইভ মডেল টেস্টে অংশ নিতে পারেন। গণিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই পাটিগণিত টাইপের অঙ্কে বেশি জোর দিতে হবে এবং জিআরই/জিম্যাটের গণিত অংশ সহায়ক হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিষয়ে বিশদ জ্ঞান রাখতে হবে।

 

বেতন

অফিসার (জেনারেল) পদটি দশম গ্রেডের। বেতন স্কেল—১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে থাকছে নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা।

 

আবেদনের যোগ্যতা

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/সমমান এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে ন্যূনতম একটিতে প্রথম বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের বয়সসীমা—১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী বয়স ২১ থেকে ৩২ বছর।

 

আবেদনের লিংক ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : https://erecruitment.bb.org.bd

 

♦ চাকরি আছে ডেস্ক

 

 

ভাইভা অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন আশরাফ রহমান। তিনি ৪৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?
আশরাফ রহমান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে পড়াশোনা করেছি। ভাইভা হয়েছিল ৬ জানুয়ারি ২০২৬। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম ১৫ মিনিটের মতো।

 

আমি : স্যার, আসতে পারি?

চেয়ারম্যান : আসুন, আসসালামু আলাইকুম (আমি সালাম দেওয়ার আগেই তিনজন স্যার আমাকে সালাম দেন। আমি সালামের উত্তর দিয়ে নিজেও সালাম দিয়েছি। এরপর স্যার আমাকে কাছে ডেকে হ্যান্ডশেক করেন। মানচিত্র দেখিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন)। ভেনেজুয়েলা নামের একটি দেশ আছে। এই দেশ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

—স্যার, সম্প্রতি মার্কিন স্পেশাল ফোর্স এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যৌথভাবে ভেনেজুয়েলায় অপারেশন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে গিয়েছে।

চেয়ারম্যান : ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক আইনের কি লঙ্ঘন হয়েছে? হলে সেটা কী?

—জি স্যার, জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(১)-এ সভারিন ইকুয়ালিটির বিষয়ে উল্লেখ আছে। এই ধারার একটি দিক হলো কোনো দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ধারা ২(৪) অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র এই দুটি ধারাই লঙ্ঘন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

চেয়ারম্যান : আপনার ক্যাডার পছন্দক্রম বলুন।

—স্যার, বিসিএস অ্যাডমিন, কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট... (সব কটি বললাম)।

চেয়ারম্যান : কাস্টমসে তো অনেক টাকা-পয়সা! হা হা হা... (এ কথায় বোর্ডের তিনজন স্যারই হাসলেন। আমিও হাসিমুখে বললাম, স্যার, টাকা তো বিজনেস করলেও আয় করা যাবে, কিন্তু পলিসি মেকিং আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে।) Why administration is your first choice?

@Sir, Since my early age, I have wanted to work for grassroots people. Besides, I have prioritized my family’s decision as well as the facilities offered in the BCS Administration Cadre.

 

এক্সটার্নাল-১ : আপনি কি নার্ভাস?

—(মুচকি হেসে) জি স্যার, একটু নার্ভাস লাগছে!

এক্সটার্নাল-১ : ভয় পাওয়ার কিছু নেই! আমরা তো আপনাকে বকাঝকা করছি না! আচ্ছা, এই যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সিআইএ তুলে নিয়ে গেল বা হামলা চালাল, এর পেছনে কারণ কী?

—স্যার, আমেরিকার অভিযোগ দুটি—অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার। এই দুটি অজুহাত দেখিয়ে মূলত তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়েছে।

এক্সটার্নাল-১ : আর কোনো কারণ নেই? আপনার কী মনে হয়?

—জি স্যার, আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম বা মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর। কারণ ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ভারী তেলের মজুদ আছে। রাশিয়া বা অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের খনিজ তেল হালকা। আর যুক্তরাষ্ট্রে ভারী তেলের চাহিদা বেশি।

এক্সটার্নাল-১ : এটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, আপনি কি একমত?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : ইরাকে যুদ্ধের সময় আপনার জন্ম হয়েছে? এ যুদ্ধের বিষয়ে আপনি জানেন?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরাকে হামলা করেছিল?

—স্যার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন এবং রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের কারণ দেখিয়ে।

এক্সটার্নাল-১ : হ্যাঁ, অস্ত্রের মজুদ। তারপর?
—স্যার, ইরাকে মার্কিন জোট বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায়। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে (সাদ্দাম হোসেন) আটক করে বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়া হয়।

এক্সটার্নাল-১ : বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

—স্যার, পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে বলব রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন...(স্যার থামিয়ে দিয়ে বললেন, পয়েন্ট আকারে না, বিস্তারিত বলুন।)

—স্যার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। কারণ বাংলাদেশের অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের মায়ানমার স্পেশালি আরাকানে স্বার্থ রয়েছে। যেমন—চীনের তেল-গ্যাসের পাইপলাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ভারতের কালাদান প্রজেক্ট, রাশিয়ারও বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ গভীর। রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশনে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর জোরালো সমর্থন পাচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত স্যার, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যাসহ বর্তমানে পুশ ইনের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন ছড়ানোর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

এক্সটার্নাল-১ : আর নেই? আরো আছে তো। বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি...

—জি স্যার, বৃহৎ রাষ্ট্র যেমন—একদিকে চীন-রাশিয়া কিংবা ভারতের মন জোগানো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।

এক্সটার্নাল-১ : ন্যামের নাম শুনেছেন? কী এটা?

—স্যার, নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট। শীতল যুদ্ধের শুরুতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় শক্তির জোটে যুক্ত না হয়ে নিরপেক্ষ থাকা।

এক্সটার্নাল-১ : কোয়াডের সদস্যদের নাম বলুন।

—অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সটার্নাল-১ : বাংলাদেশ কি আইপিএসে যোগ দিতে দিতে চায়?

—জি স্যার। বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক প্রকাশ করেছে।

এক্সটার্নাল-১ : এটা তো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। চীন বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না। সে ক্ষেত্রে চীনকে আপনি কিভাবে হ্যান্ডল করবেন? চীনকে পাশে রাখা প্রয়োজন কেন?

—স্যার, চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়ছে। এ ছাড়া চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চীনা অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শক্তিতে চীন বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী দেশ। আমাদের দেশের অস্ত্র আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে...(এতটুকু শোনার পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, টাইম শেষ হয়ে যাচ্ছে।)

 

এক্সটার্নাল-২ : আপনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?

—স্যার, গণিত। 

এক্সটার্নাল-২ : পরিসংখ্যান পড়েছেন না?

—জি স্যার। আমাদের দুটি নন-মেজর পরিসংখ্যান কোর্স ছিল।

(এরপর স্যার স্ট্যাটিস্টিকস থেকে একটি ফর্মুলার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। আমি এটা পড়েছিলাম, কিন্তু মনে পড়ছিল না। তাই বলতে পারিনি। স্যার আমার নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, গুছিয়ে উত্তর দিয়েছি।)

 

চেয়ারম্যান : ওকে, আপনি আসতে পারেন। আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান।

—ধন্যবাদ, স্যার। (সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসি।)