• ই-পেপার

ভাইভা অভিজ্ঞতা

কথায় কথায় আন্দোলন, কী পদক্ষেপ নেবেন?

  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে পড়ছেন নূরে আলম জাবেদ। তিনি ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

২৮০ অফিস সহায়ক নেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

চাকরি আছে ডেস্ক
২৮০ অফিস সহায়ক নেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

অফিস সহায়ক পদে ২৮০ জন কর্মী নিয়োগ দেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে অনলাইনে ৮ জুলাই ২০২৬ বিকাল ৪টার মধ্যে। অফিস সহায়ক পদের কর্মীরা সাধারণত পিয়নের কাজ করেন; যেমন—ডাক বিতরণ, ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে নেওয়া, বিভিন্ন কাজে সহায়তা ইত্যাদি।

 

আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন

স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ১ জুন ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩২ বছর। বেতন স্কেল : ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)। আবেদন ফি : ৫৬ টাকা।

 

অফিস সহায়ক পদের প্রস্তুতি

বাংলা : বাংলা ব্যাকরণ, বানান শুদ্ধি, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সন্ধি, সমাস, কারক ও বিভক্তি, বাক্য সংশোধন, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, প্রবাদ-প্রবচন, সাহিত্যিক ও তাঁদের রচনা।

ইংরেজি : Parts of Speech, Tense, Voice Change, Narration, Right Form of Verb, Preposition, Article, Synonym, Antonym, Spelling, Sentence Correction, Translation, Vocabulary, Idioms and Phrases.

গণিত : যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ, ভগ্নাংশ, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদ কষা, অনুপাত-সমানুপাত, গড়, বয়স, সময় ও কাজ, নল ও চৌবাচ্চা, দূরত্ব ও গতি, সরল সমীকরণ, সংখ্যা, এলসিএম-জিসিএম।

সাধারণ জ্ঞান : বাংলাদেশ বিষয়ক—বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জাতীয় দিবস, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, ভৌগোলিক পরিচিতি, চলতি ঘটনা, খেলাধুলা, অর্থনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। আন্তর্জাতিক বিষয়ক—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্ব ইতিহাস, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা-রাজধানী, সাম্প্রতিক বিশ্ব ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, ভূগোল, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

 

প্রার্থী যাচাই

প্রার্থীর দাখিলকৃত তথ্য কিংবা কাগজপত্র জাল, মিথ্যা বা ভুয়া প্রমাণিত হলে; পরীক্ষায় নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি ভুল তথ্য বা জাল কাগজপত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলেও প্রার্থিতা বাতিল করে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার সময় নিম্নবর্ণিত সনদ/প্রমাণপত্রের মূলকপি প্রদর্শন করে প্রতিটির একটি করে সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে।

   অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্রের কপি।

   প্রার্থীর সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সনদ)।

   প্রার্থী যে ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন/ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসিন্দা, সেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/প্রশাসক, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র/প্রশাসক অথবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ।

   কোটা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত সনদ/প্রমাণপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।

   ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/প্রশাসক, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র/প্রশাসক অথবা নবম গ্রেড এবং তদূর্ধ্ব গেজেটেড কর্মকর্তা (সাবেক প্রথম শ্রেণি) কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদ; জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সত্যায়িত অনুলিপি; সদ্য তোলা সত্যায়িত রঙিন ছবি।

 

 

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারে। দ্রুত, নির্ভুল ও দক্ষতার সঙ্গে অনেক মানুষের কাজ করতে পারে বলে আজকাল ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তির প্রতি ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে বিভিন্ন সেক্টরের কর্মীরা চাকরি হারাবে ঠিকই, কিন্তু নতুন করে চাকরির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। আরো জানাচ্ছেন হাবিব তারেক

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে এআই। কাজের ধরন ও দক্ষতার চাহিদাও বদলে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। এর ফলে নতুন পেশা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বেশ কিছু পদ বা পেশার চাহিদা একেবারেই কমে যাবে। এগুলোর মধ্যে আছে—প্রশাসনিক সহায়ক কর্মী, ক্যাশিয়ার, গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস ক্লার্ক। এ ছাড়া সশরীরে যোগাযোগ বা উপস্থিতির প্রয়োজন কম এমন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও পর্যায়ক্রমে এআইয়ের দখলে চলে যাবে।

 

এন্ট্রি লেভেলের চাকরির ভবিষ্যৎ

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতের এন্ট্রি লেভেলের (কর্মজীবনের প্রাথমিক স্তর) চাকরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আগে যেসব কাজ নতুন কর্মীদের ওপর ন্যস্ত করা হতো, এখন এ ধরনের কাজ এআই দিয়েই করা যাচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এসব পদে কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রবণতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি এআইয়ের দখলে গেলেও নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোতে দক্ষ কর্মীদেরই চাহিদা বাড়ছে। বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিওর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা এ  ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মসংস্থান ৬৭ শতাংশ বাড়তে পারে।

 

যেসব চাকরি টিকে থাকবে

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনেক পেশার চাহিদা আগামী বছরগুলোতে বাড়তে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডেটা সায়েন্টিস্ট, আর্থিক নিরীক্ষক (ফিন্যানশিয়াল এক্সামিনার), তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপক এবং অপারেশনস রিসার্চ বিশ্লেষক। তবে ভবিষ্যতের শ্রমবাজার সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন বলে মনে করেন ড. ম্যাকঅসলান। তাঁর ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে এমন কোনো পেশার কথা বলা কঠিন, যেটি শতভাগ নিরাপদ থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে রোবটিকস প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি আরো অনেক পেশা পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। তবে আপাতত যেসব কাজে শারীরিক পরিশ্রম, হাতে-কলমে দক্ষতা বা বাস্তব পরিবেশে কাজ করার প্রয়োজন হয়, সেগুলো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।’

 

ফিন্যান্স খাতে এআইয়ের প্রভাব

চাকরির বাজারের ভবিষ্যৎকয়েক বছর আগে অ্যালগরিদমিক ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক খাতে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার এই পরিবর্তনকে আরো বেগবান করেছে। বর্তমানে মেশিন লার্নিং ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আধুনিক এআই সিস্টেম এখন বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পড়তে, হিসাব-নিকাশের ভুল শনাক্ত করতে এবং ব্যাংকিংসংক্রান্ত নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজিয়ে রাখতে সক্ষম। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ফিন্যান্স খাতে এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে বেশির ভাগ বিশ্লেষকের মতে, এআই পুরো কর্মশক্তির জায়গা দখল করবে না। অর্থাৎ পুরো কার্যক্রমের কিছু কিছু অংশের জায়গা নেবে এআই। তবে ভবিষ্যতে টিকে থাকতে হলে ফিন্যান্স পেশাজীবীদের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যাঁরা আর্থিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশলগত চিন্তাশক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে সফলভাবে টিকে থাকবেন।

 

সম্ভাব্য ঝুঁকি

এআইয়ের কারণে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজে আর কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন পড়ছে না; বিশেষ করে যেসব কাজে পুনরাবৃত্তিমূলক তথ্য বিশ্লেষণ, হিসাব সংরক্ষণ বা ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ বেশি। এগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বা এআইয়ের মাধ্যমে সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী কমাতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে জুনিয়র বিশ্লেষক, এন্ট্রি লেভেল অ্যাসোসিয়েট, বুককিপিং ও সাধারণ হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত পদগুলোতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মূলত সাধারণ ও রুটিন কাজগুলো করছে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যাবসায়িক বিশ্লেষণ এবং নৈতিক তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখনো দক্ষ জনবলের শতভাগ বিকল্প তৈরি হয়নি। এআই সহজেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যার অন্তর্নিহিত বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাই বিশেষ ক্ষেত্রে তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলেরই প্রয়োজন হবে।

 

দক্ষতায় জোর দিন

ভবিষ্যতে ফিন্যান্স পেশাজীবীদের শুধু হিসাব-নিকাশ জানলেই চলবে না; টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নেতৃত্ব দানের গুণাবলিও থাকতে হবে।

 

প্রযুক্তিগত দক্ষতা

►      ডেটা অ্যানালিটিকস সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা

►      ক্লাউডভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা

►      এআই ও অটোমেশন টুল সম্পর্কে ধারণা।

 

ব্যক্তিগত দক্ষতা

►      বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি

►      কার্যকর যোগাযোগ

►      নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

      নতুন ধারণা উপস্থাপনের আত্মবিশ্বাস।

 

 

যাঁদের কদর বাড়ছে

এআই অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার—ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং

এই পদের পেশাজীবীরা হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি ও পরিচালনা করেন। করপোরেট অ্যাকাউন্টিং, ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেশিন লার্নিংয়েও তাঁদের দক্ষ হতে হয়।

 

এআইনির্ভর ফিন্যানশিয়াল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস ম্যানেজার

রিয়াল-টাইম ডেটা ও এআই মডেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয় ও নগদ প্রবাহের পূর্বাভাস তৈরি করেন এই পদের কর্মকর্তারা। প্রচলিত আর্থিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ডেটা বিশ্লেষণ দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

এআই গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার

এই পদের কর্মকর্তারা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, আইন ও নিয়ন্ত্রক নীতিমালা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেন। অ্যালগরিদম পর্যালোচনা, তথ্যগত ত্রুটি বা নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করাও তাঁদের কাজের অংশ।

 

এআই রেভিনিউ অপারেশনস অ্যানালিস্ট

বিক্রয়, বিপণন ও অর্থ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে আয় বৃদ্ধির নতুন সুযোগ খুঁজে বের করেন এই বিশেষজ্ঞরা। ব্যাবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

এআই কোয়ান্টিটেটিভ পোর্টফোলিও স্ট্র্যাটেজিস্ট

এই পেশাজীবীরা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বিনিয়োগ কৌশল তৈরি ও পরিচালনা করেন। বাজারের গতিবিধি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ভোক্তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করে তাঁরা বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করেন।

 

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা

৭ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেবে ৭২৫ কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ৭২৫ জন অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে সমন্বিত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অধীনে। আবেদনের শেষ তারিখ ২ জুলাই ২০২৬। সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে, ৪৭১ জন।

 

কোন ব্যাংকে কত পদ

রূপালী ব্যাংক—৮০টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক—১৬টি, বেসিক ব্যাংক—১৩টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক—৪৭১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক—৪৭টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন—২২টি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ—২টি, কর্মসংস্থান ব্যাংক—৭২টি এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক—২টি।

 

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি

নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে হবে এমসিকিউ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বাংলা (২৫), ইংরেজি (২৫), সাধারণ গণিত (২০), সাধারণ জ্ঞান (২০) ও কম্পিউটার জ্ঞানের (১০) ওপর প্রশ্ন করা হয়। সব মিলিয়ে মান ১০০। নেগেটিভ মার্কিং থাকবে কি না সেটি পরীক্ষার শুরুতেই প্রশ্নপত্রে ভালো করে খেয়াল করে নিতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখতে পারেন। বাসায় মডেল টেস্টও দিতে পারেন বিগত পরীক্ষার প্রশ্নের আলোকে। বিগত পরীক্ষাগুলোতে বাংলায় ব্যাকরণ থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এবং সাহিত্য থেকে তুলনামূলক কম প্রশ্ন এসেছে। বাংলা বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ‘ভাষা শিক্ষা’ বইটি সহায়ক হবে। ইংরেজি বিষয়ে গ্রামার ও ভোকাবুলারি থেকে প্রশ্ন এলেও ইংরেজি সাহিত্য থেকে তেমন প্রশ্ন আসে না বললেই চলে। ইংরেজিতে প্রস্তুতির জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লাইভ মডেল টেস্টে অংশ নিতে পারেন। গণিতে ভালো করতে হলে অবশ্যই পাটিগণিত টাইপের অঙ্কে বেশি জোর দিতে হবে এবং জিআরই/জিম্যাটের গণিত অংশ সহায়ক হতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিষয়ে বিশদ জ্ঞান রাখতে হবে।

 

বেতন

অফিসার (জেনারেল) পদটি দশম গ্রেডের। বেতন স্কেল—১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে থাকছে নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা।

 

আবেদনের যোগ্যতা

স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে।

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/সমমান এবং তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে ন্যূনতম একটিতে প্রথম বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়েই তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের বয়সসীমা—১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী বয়স ২১ থেকে ৩২ বছর।

 

আবেদনের লিংক ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : https://erecruitment.bb.org.bd

 

♦ চাকরি আছে ডেস্ক

 

 

ভাইভা অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন আশরাফ রহমান। তিনি ৪৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন?
আশরাফ রহমান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে পড়াশোনা করেছি। ভাইভা হয়েছিল ৬ জানুয়ারি ২০২৬। ভাইভা বোর্ডে ছিলাম ১৫ মিনিটের মতো।

 

আমি : স্যার, আসতে পারি?

চেয়ারম্যান : আসুন, আসসালামু আলাইকুম (আমি সালাম দেওয়ার আগেই তিনজন স্যার আমাকে সালাম দেন। আমি সালামের উত্তর দিয়ে নিজেও সালাম দিয়েছি। এরপর স্যার আমাকে কাছে ডেকে হ্যান্ডশেক করেন। মানচিত্র দেখিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন)। ভেনেজুয়েলা নামের একটি দেশ আছে। এই দেশ নিয়ে এত আলোচনা কেন?

—স্যার, সম্প্রতি মার্কিন স্পেশাল ফোর্স এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যৌথভাবে ভেনেজুয়েলায় অপারেশন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে গিয়েছে।

চেয়ারম্যান : ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক আইনের কি লঙ্ঘন হয়েছে? হলে সেটা কী?

—জি স্যার, জাতিসংঘ সনদের ধারা ২(১)-এ সভারিন ইকুয়ালিটির বিষয়ে উল্লেখ আছে। এই ধারার একটি দিক হলো কোনো দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ধারা ২(৪) অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র এই দুটি ধারাই লঙ্ঘন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

চেয়ারম্যান : আপনার ক্যাডার পছন্দক্রম বলুন।

—স্যার, বিসিএস অ্যাডমিন, কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট... (সব কটি বললাম)।

চেয়ারম্যান : কাস্টমসে তো অনেক টাকা-পয়সা! হা হা হা... (এ কথায় বোর্ডের তিনজন স্যারই হাসলেন। আমিও হাসিমুখে বললাম, স্যার, টাকা তো বিজনেস করলেও আয় করা যাবে, কিন্তু পলিসি মেকিং আমার কাছে প্রাধান্য পেয়েছে।) Why administration is your first choice?

@Sir, Since my early age, I have wanted to work for grassroots people. Besides, I have prioritized my family’s decision as well as the facilities offered in the BCS Administration Cadre.

 

এক্সটার্নাল-১ : আপনি কি নার্ভাস?

—(মুচকি হেসে) জি স্যার, একটু নার্ভাস লাগছে!

এক্সটার্নাল-১ : ভয় পাওয়ার কিছু নেই! আমরা তো আপনাকে বকাঝকা করছি না! আচ্ছা, এই যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সিআইএ তুলে নিয়ে গেল বা হামলা চালাল, এর পেছনে কারণ কী?

—স্যার, আমেরিকার অভিযোগ দুটি—অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার। এই দুটি অজুহাত দেখিয়ে মূলত তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ চালিয়েছে।

এক্সটার্নাল-১ : আর কোনো কারণ নেই? আপনার কী মনে হয়?

—জি স্যার, আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম বা মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকার মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর। কারণ ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ভারী তেলের মজুদ আছে। রাশিয়া বা অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের খনিজ তেল হালকা। আর যুক্তরাষ্ট্রে ভারী তেলের চাহিদা বেশি।

এক্সটার্নাল-১ : এটা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, আপনি কি একমত?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : ইরাকে যুদ্ধের সময় আপনার জন্ম হয়েছে? এ যুদ্ধের বিষয়ে আপনি জানেন?

—জি স্যার।

এক্সটার্নাল-১ : যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরাকে হামলা করেছিল?

—স্যার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন এবং রাসায়নিক অস্ত্র মজুদের কারণ দেখিয়ে।

এক্সটার্নাল-১ : হ্যাঁ, অস্ত্রের মজুদ। তারপর?
—স্যার, ইরাকে মার্কিন জোট বাহিনী ব্যাপক হামলা চালায়। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে (সাদ্দাম হোসেন) আটক করে বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি দেওয়া হয়।

এক্সটার্নাল-১ : বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

—স্যার, পররাষ্ট্রনীতির চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমি প্রথমে বলব রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন...(স্যার থামিয়ে দিয়ে বললেন, পয়েন্ট আকারে না, বিস্তারিত বলুন।)

—স্যার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। কারণ বাংলাদেশের অনেক বন্ধু রাষ্ট্রের মায়ানমার স্পেশালি আরাকানে স্বার্থ রয়েছে। যেমন—চীনের তেল-গ্যাসের পাইপলাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ভারতের কালাদান প্রজেক্ট, রাশিয়ারও বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ গভীর। রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশনে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর জোরালো সমর্থন পাচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত স্যার, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যাসহ বর্তমানে পুশ ইনের মতো ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন ছড়ানোর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

এক্সটার্নাল-১ : আর নেই? আরো আছে তো। বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি...

—জি স্যার, বৃহৎ রাষ্ট্র যেমন—একদিকে চীন-রাশিয়া কিংবা ভারতের মন জোগানো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।

এক্সটার্নাল-১ : ন্যামের নাম শুনেছেন? কী এটা?

—স্যার, নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট। শীতল যুদ্ধের শুরুতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় শক্তির জোটে যুক্ত না হয়ে নিরপেক্ষ থাকা।

এক্সটার্নাল-১ : কোয়াডের সদস্যদের নাম বলুন।

—অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।

এক্সটার্নাল-১ : বাংলাদেশ কি আইপিএসে যোগ দিতে দিতে চায়?

—জি স্যার। বাংলাদেশ তার নিজস্ব ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক প্রকাশ করেছে।

এক্সটার্নাল-১ : এটা তো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। চীন বিষয়টি ভালোভাবে নেবে না। সে ক্ষেত্রে চীনকে আপনি কিভাবে হ্যান্ডল করবেন? চীনকে পাশে রাখা প্রয়োজন কেন?

—স্যার, চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে চীনের প্রভাব বাড়ছে। এ ছাড়া চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চীনা অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সামরিক শক্তিতে চীন বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী দেশ। আমাদের দেশের অস্ত্র আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে...(এতটুকু শোনার পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, টাইম শেষ হয়ে যাচ্ছে।)

 

এক্সটার্নাল-২ : আপনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?

—স্যার, গণিত। 

এক্সটার্নাল-২ : পরিসংখ্যান পড়েছেন না?

—জি স্যার। আমাদের দুটি নন-মেজর পরিসংখ্যান কোর্স ছিল।

(এরপর স্যার স্ট্যাটিস্টিকস থেকে একটি ফর্মুলার ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। আমি এটা পড়েছিলাম, কিন্তু মনে পড়ছিল না। তাই বলতে পারিনি। স্যার আমার নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, গুছিয়ে উত্তর দিয়েছি।)

 

চেয়ারম্যান : ওকে, আপনি আসতে পারেন। আপনার কাগজপত্র নিয়ে যান।

—ধন্যবাদ, স্যার। (সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসি।)