বুয়েটের তড়িৎ ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের একদল শিক্ষার্থী এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা দিয়ে যেকোনো লেখা দৃষ্টিহীন মানুষের পড়ার উপযোগী ব্রেইলে রূপান্তর করতে সক্ষম। তাঁদের উদ্ভাবিত যন্ত্রের নাম 'ব্রেইল অ্যাম্বোসার'। দলের সদস্যরা হলেন জাকারিয়া হায়দার, মৃণ্ময় সরকার, ধীমান চৌধুরী, রিফাত মুস্তাকীম ও মেহেদী হাসান। সবাই চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাঁরা চিন্তা করেছেন এমন এক যন্ত্রের কথা, যাতে প্রিন্টারের মতোই কম্পিউটার থেকে কোনো ফাইল (ডক/পিডিএফ) ইনপুট হিসেবে দিলে তা ব্রেইলে রূপান্তর করে দিতে পারবে। পুরো উদ্ভাবন তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের শিক্ষক কনক দত্ত। গত বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পরিশ্রমে তৈরি করেছেন এই যন্ত্রটা। জাকারিয়া হায়দার বলেন, 'কম খরচে ও সহজলভ্য দেশীয় উপকরণের সাহায্যে যন্ত্রটা আমরা তৈরি করতে পেরেছি। সফল হওয়ায় ভালো লাগছে।' যন্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ জিনিস জোগাড় করা হয়েছে পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলি থেকে। কিছু জিনিস যেমন-লিনিয়ার একচুইয়েটার বুয়েটের মেশিন শপে নিজেরাই তৈরি করেছেন। আর ফ্রেমের কাজ করিয়েছেন কাঁটাবন থেকে। রিফাত জানান, 'লিনিয়ার একচুইয়েটারের দাম ৪০-৫০ ডলার করে। আমাদের প্রজেক্টের জন্য দরকার ছিল ছয়টি লিনিয়ার একচুইয়েটার। খরচ বাঁচাতে নিজেরাই ডিজাইন করে সেটা তৈরি করেছি। প্রতিটি লিনিয়ার একচুইয়েটার বানাতে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা করে।' কম্পিউটারের সঙ্গে মূল যন্ত্রের সংযোগের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করেছেন মৃণ্ময় সরকার। পুরো কাজে তাঁদের খরচ পড়েছে সব মিলিয়ে প্রায় আট হাজার টাকার মতো। মৃণ্ময় সরকার আরো জানান, 'দেশে ব্রেইল প্রিন্টার (লেখাকে ব্রেইলে রূপান্তর করতে পারে-এমন এক ধরনের প্রিন্টার) বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা হয় না। বাইরে থেকে আনাতে হলে খরচ পড়বে কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ ডলার বা এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো। আমাদের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি ব্যবহার করলে এই খরচ অন্তত ১০ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব।' যন্ত্র তৈরির কাজ শেষ হলেও এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মেহেদী হাসান জানান, 'যন্ত্রটির ব্রেইল ফন্টের আকার বেশ বড়। এটির ব্রেইল প্রিন্টিংয়ের গতিও খুব কম। আর্থিক সাহায্য পেলে এটাকে আরো উন্নত করা সম্ভব।'