বাংলাদেশ
শ্রীমঙ্গল
প্রাকৃতিক নিসর্গের অনন্য এক উদাহরণ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন বা একান্তে ভ্রমণের জন্য চমত্কার এক জায়গা। চা-বাগানের সুনিপুণ সারি সারি টিলা, অরণ্যের নয়নাভিরাম রূপ, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের মোহমায়া—সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল যেন এক অপরূপ লীলাভূমি। আপনার ঈদ ভ্রমণের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে শ্রীমঙ্গল। এখানে আরো দেখতে পাবেন খাসিয়া, মণিপুরি, গারো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। রয়েছে আনারস, লেবু ও পানের ক্ষেত, মাধবপুর হ্রদ, চা-বাগান, চা গবেষণা কেন্দ্র, হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া অরণ্য, বাইক্কা বিল, ওয়ার সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা প্রভৃতি। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের বাস ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ ছাড়া জয়ন্তিকা, কালনী, পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে যেতে পারেন। থাকার জন্য হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া পড়বে মানভেদে এক থেকে ১০ হাজার টাকা।
কক্সবাজার
সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার দেশের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। প্রায় ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সমুদ্রসৈকত উত্তাল সামুদ্রিক ঢেউ, মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত, সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য, আর মেরিন ড্রাইভ রোডের রোমাঞ্চের জন্য পর্যটকদের কাছে টানে। বর্ষা মৌসুমে পরিষ্কার আকাশ, আর্দ্র শীতল বাতাস, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ নিয়ে নয়নাভিরাম রূপে সাজে কক্সবাজার। তাই বৃষ্টি-বাদলের সম্ভাবনা থাকা এবারকার ঈদে ঘুরে আসতে পারেন এই সৈকত শহর। আরো দেখতে পারেন মহেশখালী দ্বীপ, মেরিন ড্রাইভ রোড, টেকনাফের কুদুম গুহা, রামু রাবারবাগান ও বৌদ্ধ বিহার, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড, পাটুয়ারটেক সৈকত ইত্যাদি। ঢাকা থেকে বিলাসবহুল স্লিপারসহ এসি, নন-এসি বাসে ভ্রমণ করতে পারেন। ভাড়া এক থেকে তিন হাজার টাকা। কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনেও যেতে পারেন। ভাড়া ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। থাকার জন্য আছে প্রিমিয়াম, ডিলাক্স ও বাজেট শ্রেণির হোটেল-রিসোর্ট। ভাড়া এক থেকে ৩০ হাজার টাকা।
রাঙামাটি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ’ কার না পছন্দ! সেই রাঙামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন হ্রদ-পাহাড়ের দেশখ্যাত এই পার্বত্য জেলায়। প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও নৃতাত্ত্বিক কৃষ্টি মিলে রাঙামাটি পর্যটকদের কাছে অন্যতম পছন্দের নাম। রাঙামাটি ভ্রমণে ঘুরতে পারেন কাপ্তাই হ্রদের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, শুভলং ঝরনা, ঝুলন্ত সেতু, বনরূপা বাজার, রাজবন বিহার, কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্সনায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি ভাস্কর্য ইত্যাদি জায়গায়। ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাবেন রাঙামাটি রুটে। ভাড়া ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা। রাতযাপনের জন্য হোটেল-রিসোর্ট বুক করতে পারবেন এক থেকে পাঁচ হাজার টাকায়।
সিলেট
প্রাকৃতিক নিসর্গের অনন্য এক লীলাভূমি সিলেট। সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, খরস্রোতা নদী, পাথুরে ঝরনা, হাওর-বাঁওড়ের সৌন্দর্য—সবই আছে সিলেটে। বিশেষত বৃষ্টির সময়ে সিলেট দারুণ মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করে। ঘুরতে পারেন লালাখাল, বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, রাতারগুল, জাফলং, ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর, নলজুরী খাসিয়া মাঠ, খাদিমনগর উদ্যান, হরিপুর আগুন পাহাড় প্রভৃতি জায়গায়। ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে বাস ভাড়া ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
পঞ্চগড়
লোকালয় ছেড়ে একটু দূরে কোথাও ঘুরে আসতে চাচ্ছেন? তাহলে যেতে পারেন হিমালয়কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়। সমতলের চা-বাগান আর ঐতিহাসিক নিদর্শনের জন্য পঞ্চগড় সুপরিচিত। উত্তরের সর্বশেষ এই জনপদে ঘুরে দেখতে পারেন তেঁতুলিয়ার বাহারি সব চা-বাগান, দেশের উত্তর প্রান্তের শেষ বিন্দু বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, মহানন্দা নদী, তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো, ভিতরগড় দুর্গ, মহারাজার দীঘি, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট বাংলো, রকস মিউজিয়াম ইত্যাদি। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে বাস ভাড়া এক হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। দ্রুত যান, একতা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনেও যেতে পারবেন। থাকার জন্য হোটেল পাবেন এক থেকে তিন হাজার টাকায়।
বিদেশ
পোখারা
সাত হ্রদের শহর নামে পরিচিত পোখারা হিমালয়ের দেশ নেপালের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর। নেপালের কাঠমাণ্ডু উপত্যকার পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরে বেশ কিছু জনপ্রিয় পর্যটন স্থান রয়েছে। দেখতে পারেন ফেওয়া লেক, ডেভিস ফলস, নাগরকোট, মহাদেব গুহা, শরণকোট, মাহেন্দ্র গুহা, মাউন্টেইন মিউজিয়াম, গুর্খা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম, অন্নপূর্ণা বাটারফ্লাই মিউজিয়াম ইত্যাদি। প্যারাগ্লাইডিং, বাঞ্জি জাম্প এবং ট্রেকিংয়ের জন্যও পরিচিত পোখারা। প্রথমে যেতে হবে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডু। ঢাকা থেকে আকাশপথে ফিরতি টিকিট পড়বে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে আরো ২০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে আসতে পারবেন।
শিলং
মেঘালয়ের রাজধানী শিলং বাংলাদেশিদের জন্য একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। এই পাহাড়ি শহরটি পরিচিত তার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নিসর্গের জন্য। শিলং বেড়াতে গিয়ে ঘুরতে পারেন উমিয়াম লেক, লাইটলুম ক্যানিয়ন, ডন বস্কো মিউজিয়াম, এলিফ্যান্ট ফলস, চেরাপুঞ্জি, মাউসুমাই গুহা, মাওলিনং ভিলেজ, লিভিংরুট ব্রিজ, সেন্ট ক্যাথিড্রাল প্রভৃতি স্থানে। সিলেট ভ্রমণের জন্য সিলেটের ডাউকি সহজ রুট। তিন দিনের দলগত ভ্রমণে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে আসতে পারবেন।
ক্যান্ডি
ক্যান্ডি শহরকে বলা হয় শ্রীলঙ্কার সাংস্কৃতিক রাজধানী। কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর, যার সন্নিকটে রয়েছে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে উঁচু এলাকা নুয়ারা এলিয়া। নুয়ারা এলিয়া এর পাহাড়ি এলাকা ও চা-বাগানের সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে ক্যান্ডি এসে ঘুরতে পারেন পিনাতলা হাতি আশ্রম, ক্যান্ডি লেক, নুকলস পর্বত, হুলু ঝরনা, বাহিরায়ান্ডা টেম্পল, রয়াল বোটানিক্যাল গার্ডেন, কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি, ওয়েলস পার্ক, সিলন চা জাদুঘর, র্যানওয়েলি মসলাবাগান ইত্যাদি জনপ্রিয় জায়গায়। শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে বিমানভাড়া যাওয়া-আসা মিলিয়ে পড়বে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো। পাঁচ-ছয় দিনের ভ্রমণে আরো ৩০ হাজার টাকা খরচ পড়বে ক্যান্ডিসহ শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে।
ব্যাঙ্কক
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি ভ্রমণ গন্তব্য। সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি স্থান। ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ, জমকালো প্যাগোডা, মুখরোচক স্ট্রিট ফুড আর নান্দনিক শপিং মলের জন্য বিখ্যাত। ব্যাঙ্ককের যেসব স্থানে ঘুরতে পারেন তার মধ্যে অন্যতম গ্র্যান্ড প্যালেস, ওয়াটকো ওয়াট অরুণ, ওয়াট ফ্রাকাইয়ো প্যাগোডা, ফ্লোটিং মার্কেট, লুম্বিনি পার্ক, ব্যাঙ্কক ন্যাশনাল মিউজিয়াম প্রভৃতি। বিমানভাড়া পড়বে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মতো। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে আরো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে দেখতে পারেন এই নান্দনিক দেশ।
মালে
ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত দ্বীপ দেশ মালদ্বীপের রাজধানী মালে মূলত বেশ কিছু দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শহর। মালে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ভ্রমণ স্থান। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক মালেতে ভিড় জমান। মালে ভ্রমণে ঘুরতে পারেন প্রবাল পাথরের মসজিদ, হুকুরু মিউজিয়াম, সুলতান পার্ক জাতীয় উদ্যান, সিনামালে ব্রিজ, মালে ফিশ মার্কেট ও স্থানীয় মার্কেট ইত্যাদি। চার-পাঁচ দিনের ভ্রমণে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচে ঘুরে দেখতে পারেন এই নান্দনিক দেশ।