• ই-পেপার

আশুগঞ্জে ১২৫ বস্তা মার্বেল, ৩৬ বস্তা জিরা ও ১২ কার্টন ফুচকা উদ্ধার

টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ৪

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, আহত ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী একটি পালকি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে নিচের খাদে পড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় কেয়ারী ঘাটসংলগ্ন ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুজন এবং টেকনাফের দমদমিয়া এলাকার দুজন বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী দল তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার জামিম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালান। ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। আমরা দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মিনিবাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ওই সময় বাসটিতে প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানালা ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন। বাসটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাজীপুর

বকেয়া পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
বকেয়া পরিশোধ ও কারখানা খোলার দাবি
ফাইল ছবি

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড নামের পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টায় কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানান, গত ১৬ জুলাই থেকে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেডের কারখানা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের দাবি, পাওনা পরিশোধ করে কারখানাটি খুলে দেওয়া হোক। দাবির স্বপক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) কারখানা এলাকায় জড়ো হন কয়েক শ শ্রমিক। 

বিল্লাল হোসেন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এই কারখানায় চাকরি করতাম। দুই কারখানায় প্রায় এক হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ করত। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পথে বসে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। এখন তার পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। স্ত্রী অসুস্থ। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না।’ 

পাওনা পরিশোধ প্রসঙ্গে বিল্লাল বলেন, ‘শুনেছি ২৭ জুলাই পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে আদৌ পাব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হয়। গত রবিবার (২১ জুন) সকালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে  শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।  

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল। এর পরও মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের শত শত শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। 

শফিউল আলম বলেন, ‘২১ জুনের চুক্তিটি শ্রমিকবান্ধব নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে জানানো হয়, কারখানা বন্ধের ফলে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নোয়াখালীর স্বপ্নের উৎসব : উন্নয়নের প্রত্যাশায় রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীর স্বপ্নের উৎসব : উন্নয়নের প্রত্যাশায় রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন
সংগৃহীত ছবি

বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৬ জুলাই রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নোয়াখালীর স্বপ্নের উৎসব’। বৃহত্তর নোয়াখালী যুব সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে থাকবে সংবর্ধনা, উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

আয়োজকরা জানান, বৃহত্তর নোয়াখালীর উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি ও সম্ভাবনা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে অবদান রাখা মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

আলোচনা পর্বে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন, বিমানবন্দর স্থাপন, সিটি করপোরেশন গঠন, সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড), রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ, লক্ষ্মীপুরে নদীবন্দর স্থাপন, ফেনীতে বাঁধ নির্মাণ এবং মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও জনদাবি নিয়ে মতবিনিময় হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে সংগীত পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ঐশী ও সাখাওয়াত সাকু। তাদের পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতাদের জন্য থাকবে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন সাংস্কৃতিক আয়োজন।

আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়; বরং বৃহত্তর নোয়াখালীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সম্মিলিত ভাবনা ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত নোয়াখালীবাসী, তরুণ সমাজ, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হবে।

আগামী ১৬ জুলাই রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবির মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে অংশ নিতে নোয়াখালীবাসীসহ সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বৃহত্তর নোয়াখালী যুব সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সুনামগঞ্জে আ. লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে আ. লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দল। 

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির পুরাতন বাসস্টেশনস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়ে কর্মসূচি শেষ করে।

বক্তারা বলেন, পতিত সরকার দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করছে। নাশকতা, নৈরাজ্যের অপচেষ্টা হলে দেশবাসীকে নিয়ে অপশক্তি প্রতিরোধ করা হবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আমিনুর রশিদ আমিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েছ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুহেল মিয়া, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়া প্রমুখ।

আশুগঞ্জে ১২৫ বস্তা মার্বেল, ৩৬ বস্তা জিরা ও ১২ কার্টন ফুচকা উদ্ধার | কালের কণ্ঠ