• ই-পেপার

\'শিবকুমার গ্রামে গেলেই ধর্ষণ আতঙ্কে লুকাতেন তরুণীরা\'

পদত্যাগ করছেন তুলসী গ্যাবার্ড

অনলাইন ডেস্ক
পদত্যাগ করছেন তুলসী গ্যাবার্ড
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন তুলসী গ্যাবার্ড। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ার কথা জানিয়ে জুনের শেষে পদ ছাড়ার কথা বলেছেন তুলসী গ্যাবার্ড। খবর সিএনএনের

যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদটি সৃষ্টি হয় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে হামলার পর। মার্কিন কংগ্রেস এই পদ সৃষ্টি করে। মার্কিন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধানের পদ এটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক কংগ্রেস সদস্য তুলসী গ্যাবার্ডকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন।

পদত্যাগের কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লেখা চিঠিতে তুলসী গ্যাবার্ড বলেছেন, দুঃখজনকভাবে, আমি অবশ্যই পদত্যাগপত্র জমা দেব। সেটি ৩০ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

তুলসী গ্যাবার্ড লিখেছেন, আমার স্বামী আব্রাহামের সম্প্রতি অতি বিরল ধরনের বোন ক্যানসার ধরা পড়েছে। আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে সে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে। এই সময়ে তার পাশে থাকা এবং এই লড়াইয়ে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্য আমার অবশ্যই সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তুলসী গ্যাবার্ড চিঠিতে এ কথা লিখলেও ঘটনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র বলেছে, হোয়াইট হাউস তাকে চলে যেতে বাধ্য করেছে।

ট্রাম্প অবশ্য এর আগে ইরান নিয়ে তুলসী গ্যাবার্ডের সঙ্গে তার মতের অমিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে তার তুলনায় তুলসী ‘নমনীয়’।

ইরানের পথে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নতুন সমীকরণে যুদ্ধবিরতি

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের পথে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, নতুন সমীকরণে যুদ্ধবিরতি
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তি আলোচনা বেগবান করতে তেহরান সফর করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি ইরানের উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে তেহরানের পথে রয়েছেন। যদিও গত তিন দিন ধরে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। 

এর মধ্যেই এবার আকস্মিকভাবে সেনাপ্রধানের তেহরান যাত্রা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। কেউ মনে করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত তিন দিনের বেসামরিক আলোচনা হয়তো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, যার ফলে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে খোদ সেনাপ্রধানকে হস্তক্ষেপে করতে হচ্ছে।

তবে অধিকাংশ সামরিক কৌশলবিদ ও বিশ্লেষকদের ধারণা, বেসামরিক পর্যায়ের আলোচনা এতটাই সফল হয়েছে যে এখন একটি চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই সেনাপ্রধানের এই জরুরি তেহরান সফর।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের এই সফর চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি সংকেত।

এর আগের তেহরান সফরেও তিনি ইরানের কেবল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, বরং দেশটির প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের সাথেও সরাসরি বৈঠক করেছিলেন। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করার অনন্য সক্ষমতা রয়েছে তার।

সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই শান্তি চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব কতটা অপরিসীম, তা ইরানি সামরিক নেতৃত্বকে বোঝাতে তিনি সফল ভূমিকা রাখছেন।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন একটি ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া চুক্তি ঘোষণার কাউন্টডাউন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের এই তেহরান সফরকে চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার শেষ ধাপ হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

ইরান যুদ্ধ

ইসরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ফেঁসে গেছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ফেঁসে গেছে যুক্তরাষ্ট্র
ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার গোমর ফাঁস হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে তাদের নিজেদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নতমানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে দেশটির সমরাস্ত্র ভাণ্ডারের বড় অংশ ফুরিয়ে গেছে।

পেন্টাগনের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ৪০ দিনের সংঘাতে ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক মজুদের প্রায় অর্ধেক টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর মোতায়েন করে, যা তাদের মোট বৈশ্বিক মজুদের বড় অংশ। একই সঙ্গে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ১০০টির বেশি স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ ও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল ব্যবহার করেছে ১০০টির কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিড’স স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, এসবের একটি অংশ ইয়েমেন ও লেবানন থেকে ছোড়া কম উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেই ব্যবহৃত হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘মোট হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের চেয়ে প্রায় ১২০টি বেশি ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছে এবং দ্বিগুণসংখ্যক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলা করেছে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে। কারণ ইসরায়েল তাদের কয়েকটি প্রতিরক্ষা ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

সামরিক বিশ্লেষক কে. এ. গ্রিয়েকো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মূল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা দায়িত্ব বহন করেছে, আর ইসরায়েল নিজেদের মজুদ সংরক্ষণ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুদের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আনুমানিক ২০০টির মতো থাড ইন্টারসেপ্টর রয়েছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়।’

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, ‘এক পর্যায়ে এটি গাণিতিক সমস্যায় পরিণত হয়। আমরা কিভাবে আবার আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ পূরণ করব?’

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উন্নতমানের অস্ত্র উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এই সংঘাতে বড় কৌশলগত প্রভাব ফেলেছে। ইরানের পাল্টা হামলা শুধু ইসরায়েলের ওপরই চাপ সৃষ্টি করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুদের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আবারও দেখিয়েছে যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তার ওপর কতটা নির্ভরশীল।

ইরান যুদ্ধ

কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান

অনলাইন ডেস্ক
কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান
রয়টার্স ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় জোর আলোচনা চালাচ্ছে পাকিস্তান। এর জন্য টানা তৃতীয় দিনের মতো তেহরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তেহরানের কর্মকর্তাদের দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কয়েকটি বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

সফরকালে মহসিন নাকভি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করা, যা ইসলামাবাদ হয়ে ওয়াশিংটনের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

তেহরানের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সম্ভাব্য সফর। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোলে আসিম মুনির নিজেও তেহরান সফরে যেতে পারেন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যদি আসিম মুনিরের সফর বাস্তবে হয়, তবে সেটি হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পথে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির’ সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামীকাল চীন সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তেহরানের কূটনৈতিক মহলের ধারণা, তিনি ইরানের বার্তা নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাকিস্তান এখন একসঙ্গে একাধিক শক্তিধর পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা, অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তি ও চীনের সঙ্গে সমন্বয়—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

\'শিবকুমার গ্রামে গেলেই ধর্ষণ আতঙ্কে লুকাতেন তরুণীরা\' | কালের কণ্ঠ