২০১১ সালের ভয়াবহ ‘তোহুকু’ ভূমিকম্পের ঠিক ১৫ মিনিট পর একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক টেকটোনিক বা ভূত্বকীয় আলোড়ন ঘটেছিল। এর ফলে প্রায় সমগ্র জাপান পূর্ব দিকে পাঁচ মিলিমিটার (আধা সেন্টিমিটার) সরে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ৯ মাত্রার সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূকম্পন তরঙ্গ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ৮০০ কিলোমিটার গভীরে পৃথিবীর কেন্দ্রে আঘাত করে এবং সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে আবারও পৃষ্ঠে ফিরে আসে। এই প্রত্যাগত তরঙ্গের ধাক্কাতেই গোটা দেশ আচমকা পূর্ব দিকে সরে যায়।
ভূমিকম্পটির দৃশ্যমান ধ্বংসলীলা ছিল স্থানীয়ভাবে কয়েক মিটার ভূমির স্থানচ্যুতি কিংবা ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি গলিয়ে দেওয়া ৪০ মিটার উঁচু সুনামির মতো ঘটনাগুলো। সেই তুলনায় জাপানের পাঁচ মিলিমিটার আন্দোলনকে হয়তো সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু এই সামান্য স্থানচ্যুতি ঘটেছে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে, যা ভূমিকম্পের মূল ফাটল রেখার চেয়ে প্রায় সাত গুণ বড় এবং ইতিহাসে রেকর্ড করা যেকোনো ভূত্বকীয় বিচ্যুতির চেয়ে দীর্ঘ।
সূত্র : নিও সায়েন্টিস্ট

